শিশু রামিসাকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিনিধি

২০ মে, ২০২৬, ১৯ ঘন্টা আগে

শিশু রামিসাকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল: পুলিশ

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩৪) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায় বাথরুমে এবং শরীরের বাকি অংশ খাটের নিচে।

রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা পাশের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির এক পাটি জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছিল না। পরে দরজা খুললে স্বপ্না আক্তারকে পাওয়া যায়, তবে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলতেই শিশুটির দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রামিসার মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

পরে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল ও তার স্ত্রীর বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়ায়।

রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম আরও জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার আচরণ ও স্ত্রীর প্রাথমিক বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বিকৃত মানসিকতা ও বিকৃত যৌনরুচির ব্যক্তি হতে পারেন।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া স্বপ্না আক্তার দাবি করেছেন, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং ঘটনার কিছুই জানতেন না। তবে পুলিশ বলছে, দীর্ঘ সময় দরজা না খোলা এবং সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ঘটনাটিতে সহযোগিতা করেছেন।

রামিসার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news