রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে হামলা, ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিনিধি

১৩ মে, ২০২৬, ৩ ঘন্টা আগে

রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে হামলা, ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ১০ রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য এপিসি সালাহ উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ-১, নুর মোহাম্মদ-২ ও খোরশেদ আলম। এছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল, ইউএনওর গাড়িচালক কামাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্টাফ জয়নাল আবেদীন, পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন এবং স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, আজাদ ও আবুল হাসান আহত হন।

চারজন গ্রামবাসী রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। আহতদের সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কিছু ব্যক্তি অভিযানে বাধা দেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে প্রায় এক থেকে দেড়শ মানুষ জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।

ইউএনও আরও জানান, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

রামগড় থানার ওসি নাজির আলম বলেন, “শতাধিক নারী-পুরুষ একত্র হয়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।”

তবে স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচকাজে ব্যবহৃত পাম্প মেশিন ভাঙচুর করেছে। গ্রামবাসী দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন দাবি করেন, খালের পাশে রাখা চারটি সেচপাম্প ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।

স্থানীয় কৃষক ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযানে তার একটি সেচপাম্প মেশিন ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষক।

তবে ইউএনও কাজী শামীম কৃষকদের সেচপাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

— পত্রিকা একাত্তর

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news