যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ৯ ঘণ্টার প্রার্থনা অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ মে, ২০২৬, ৪ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ৯ ঘণ্টার প্রার্থনা অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে ৯ ঘণ্টাব্যাপী বিশাল প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ‘রিডেডিকেট ২৫০: ন্যাশনাল জুবিলি অব প্রেয়ার, প্রেইজ অ্যান্ড থ্যাংকসগিভিং’ নামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান রবিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, এর উদ্দেশ্য ছিল “ঈশ্বরের প্রতি এক জাতি হিসেবে আমেরিকাকে পুনরায় উৎসর্গ করা”।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন ধর্মীয় বক্তা, সংগীতশিল্পী, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্ররা। উপস্থিত ছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর টিম স্কটও।

ভাষণে টিম স্কট বলেন, “আমাদের অধিকার সরকারের কাছ থেকে আসে না। আমাদের অধিকার আসে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে।”

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রশাসনের একাধিক সদস্য। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ট্রাম্প বাইবেলের ক্রনিকলস গ্রন্থ থেকে বক্তব্য পাঠ করেন, যেখানে অনুসারীদের সুরক্ষা ও বিরোধীদের ধ্বংসের কথা উল্লেখ ছিল।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত “খ্রিস্টীয় ধারণা” দ্বারা গঠিত একটি দেশ।

তিনি বলেন, “খ্রিস্টীয় পশ্চিমা সভ্যতার আগে অধিকাংশ সমাজ একই চক্রে ঘুরপাক খেত। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস আমাদের অজানার পথে এগিয়ে যেতে শেখায়।”

তবে অনুষ্ঠানটি ঘিরে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, পুরো অনুষ্ঠানে মাত্র একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা সবাই খ্রিস্টান ছিলেন।

অনেক ধর্মীয় নেতাও এটিকে প্রকৃত ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ইন্টারফেইথ অ্যালায়েন্সের সভাপতি ও ধর্মযাজক পল রাউশেনবুশ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। সরকার কোনো ধর্মকে প্রাধান্য দিতে পারে না।”

সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন চার্চ ও রাষ্ট্রের পৃথক অবস্থানকে দুর্বল করছে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা দপ্তরেও নিয়মিত প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারে “খ্রিস্টানবিরোধী পক্ষপাত” রয়েছে। এ নিয়ে তিনি গত বছর একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করেছিলেন।

জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন খ্রিস্টধর্মকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা উচিত। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩ শতাংশ।

তবে এখনো ৫৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চার্চ ও রাষ্ট্র আলাদা থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৫২ শতাংশের মতে, “রক্ষণশীল খ্রিস্টানরা সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ চাপিয়ে দিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।”

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news