গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে একটি কমিউনিটি কিচেনে হামলায় ৩ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া খান ইউনুস ও বেইত লাহিয়া এলাকাতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, দেইর আল-বালাহে হামলার লক্ষ্য ছিল একটি কমিউনিটি কিচেন। সেখানে নিহত তিনজনই রান্নাঘরের কর্মী ছিলেন।
তিনি বলেন, “এটি প্রমাণ করে যে ইসরায়েল শুধু সাধারণ মানুষকেই নয়, বরং গাজাজুড়ে মানবিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।”
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাস এক বিবৃতিতে একে “ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ” এবং “চলমান গণহত্যার নতুন অধ্যায়” বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ইসরায়েলকে আরও হত্যাযজ্ঞ চালাতে উৎসাহিত করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরের তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ৮৭১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেটিকে তারা “বাফার জোন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সেই এলাকায় রোববার এক ব্যক্তিকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তি সশস্ত্র ছিলেন এবং সেনাদের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” তৈরি করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
একই বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, তারা হামাস কমান্ডার বাহা বারুদকে হত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হামাসের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

