জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের (জাশির) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, অন্য দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করার আগে জামায়াত-শিবিরের নিজেদের আচরণ ও কার্যক্রম নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত।
মঙ্গলবার (১২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, “এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভাইয়ের রিকশার পিছনে জাশির নেতাকর্মীরা দৌঁড়ালে সমস্যা নেই। সমস্যা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তার গাড়ির পিছনে দৌঁড়ালে!”
তিনি আরও বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের দলের প্রধান নেতার প্রতি আবেগ থাকা স্বাভাবিক। আমরা দেখি, সেই আবেগ থেকে কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পাঞ্জাবিও ঠিক করে দেয়। জাশির নেতাকর্মীরা যা করবে সব স্মার্টনেস, আর বিএনপি নেতাকর্মীরা করলেই সেটাকে নোংরা হিসেবে প্রচার করা হয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কিছু কনটেন্ট নির্মাতার সমালোচনাও করেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, বাড়তি ভিউ পাওয়ার আশায় অনেকেই নেতাকর্মীদের ছোটখাটো ঘটনাকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করেন।
তিনি লেখেন, “কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভাইয়েরা কে কী ভুল করলো, সেটি জুম করে প্রচার করে বাড়তি ভিউয়ের জন্য। কিছুদিন আগে দেখলাম নায়ক সিয়ামের সহধর্মিণীর ভিডিওও উপর থেকে জুম করে ধারণ করা হয়েছে।”
নারীদের মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হুড়োহুড়ির দৃশ্য নিয়েও অপপ্রচার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, “মিছিলে ধাক্কাধাক্কি খুব স্বাভাবিক বিষয়। অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবক বা প্রটোকলে থাকা সদস্যরা শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাউকে সরিয়ে দেয়।”
সবশেষে জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “শুধুমাত্র বাড়তি ভিউয়ের জন্য এসব জুম করে প্রচার করা হয়। সেগুলো আবার প্রচার করে জাশির নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারা ভুলে যায়, তাদের নেতারও ‘চুম্মাদোষ’ আছে। আগে নিজেদের ঠিক করা উচিত, পরে বিএনপি বা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দোষ ধরা উচিত।”
— পত্রিকা একাত্তর

