নতুন পারিবারিক আইন চালু করল তালেবান, ‘মেয়েদের নীরবতাই সম্মতি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ মে, ২০২৬, ১৪ ঘন্টা আগে

নতুন পারিবারিক আইন চালু করল তালেবান, ‘মেয়েদের নীরবতাই সম্মতি’

Taliban সরকার আফগানিস্তানে নতুন একটি পারিবারিক আইন চালু করেছে। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই আইনে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বিয়ে বাতিলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Amu TV-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা Hibatullah Akhundzada স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত ৩১ অনুচ্ছেদের এই ডিক্রি অনুমোদন করেছেন।

নতুন আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকগুলোর একটি হলো—বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে ছেলে বা বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে নীরবতা সম্মতি হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এছাড়া বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের অনুমতিও রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বাবা ও দাদাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ডিক্রিতে বলা হয়েছে, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক করা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে বৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত থাকে।

নতুন আইনে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘যৌবনপ্রাপ্তির পর অধিকার’ নামে একটি বিধানও রাখা হয়েছে। এর আওতায় বয়ঃসন্ধির আগে হওয়া কোনো বিয়ে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে বাতিল করতে পারবেন। তবে এ জন্য ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন লাগবে।

আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জীবনসঙ্গী অনুপযুক্ত হলে বা মোহরানায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হবে না।

তালেবান বিচারকদের ব্যভিচার, ধর্ম পরিবর্তন, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ‘জিহার’-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ‘জিহার’ হলো প্রাচীন একটি ইসলামি ধারণা, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে এমন কোনো নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন, যাকে বিয়ে করা ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ।

এসব ক্ষেত্রে বিচারকরা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড কিংবা অন্যান্য শাস্তির আদেশ দিতে পারবেন বলে ডিক্রিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই Afghanistan-এ নারী ও শিশুদের অধিকার সীমিত করার নানা সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে রয়েছে তালেবান সরকার।

বর্তমানে দেশটিতে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ। নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, চাকরি, ভ্রমণ এবং জনসমাগমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।

— পত্রিকা একাত্তর

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news