জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক, নারী কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিনিধি

১২ মে, ২০২৬, ১ ঘন্টা আগে

জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক, নারী কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কবির বিন সামাদের নাম ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত “তানযীমুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা”র এক সাবেক নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টা ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী পলি (ছদ্মনাম) জানান, তিনি ওই মাদ্রাসায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় বিভিন্নভাবে কবির বিন সামাদ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

পলি বলেন, “সে জানত আমি বিবাহিতা, আমার স্বামী আছে। তারপরও বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে সখ্যতা করার চেষ্টা করেছে। একজন নারী হিসেবে আমি বুঝতে পেরেছি তার দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আমার সংসারে অনেক অশান্তি হয়েছে। সংসার ভেঙে যাওয়ার অবস্থাও তৈরি হয়েছিল। অনেক কষ্টে এখন পরিস্থিতি সামলেছি।”

অভিযোগের বিষয়ে কবির বিন সামাদ বলেন, “আমি তাকে পছন্দ করতাম। আমি জানতাম সে তালাকপ্রাপ্ত। সেই কারণেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

তবে অভিযোগকারী নারীর দাবি, তিনি তখন বিবাহিত ছিলেন এবং বিষয়টি কবির বিন সামাদ জানতেন।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলিম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ একটি সুশৃঙ্খল দল। তাকে নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচনার সময় বিষয়টি আমাদের জানা ছিল।”

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এটি এখনো প্রাথমিক বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের। কিন্তু জামায়াতের মতো একটি দলে এমন অভিযোগ যার বিরুদ্ধে আছে, তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা কতটা যৌক্তিক, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকায় তার চেয়ে আরও যোগ্য ও সৎ মানুষ আছেন। তাই তার প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোর জেলা জামায়াতের আমিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের প্রতিষ্ঠানের একজন নারী কর্মীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে পারেননি, তিনি কীভাবে পুরো ইউনিয়নের জনগণের আস্থা অর্জন করবেন?”

— পত্রিকা একাত্তর

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news