সাফ শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট, বাংলাদেশের প্রতি টা মানুষের সাথে তার সম্পর্ক রক্তময়ী। ক্রিকেট বা ফুটবল উভয় দিকেই শিরোপা খরায় ভোগছিলো বাংলাদেশ। অতঃপর দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাংলাদেশে আসলো কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা, সেটাও আবার মেয়েদের হাত ধরে। অনিন্দ্য এক অসম্ভব সুন্দর ফুটবল খেলে দক্ষিণ এশিয়াকে তাক লাগিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ঘুচলো দীর্ঘ সময়ের দুঃখ।

এর পূর্বে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল পেয়েছিলো দক্ষিণ এশিয়ার এই শ্রেষ্ঠত্ব। ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নে শিরোপা বিজয়ী হয়ছিলো বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল। তার প্রায় ১৯ বছর পর রাজকীয়ভাবে সেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলো। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২২ এী ফাইনালে আজ নেপালের বিপক্ষে নামে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। স্বাগতিক এই দলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে এবং এবারের সাফে একটি ম্যাচও না হেরে অনন্য এক ইতিহাসের মধ্য দিয়েই শিরোপা হাতে নিয়ে ফিরলো বাংলার বাঘিনীরা। প্লেয়ার অফ দ্য টুনার্মেন্ট হয়েছেন সাবিনা।

কৃষ্ণারানীর অনন্য জাদুতে জোড়া গোল আর শামসুন্নাহার জুনিয়রের এক গোলে জয় লাভ করে মেয়েরা। ২০১৬ সালে সাফের ফাইনালে উঠলেও ভারতের মেয়েদের বিপক্ষে জয় জুটেনি সেবার৷ স্বপ্নভঙ্গ হয়ছিলো সেদিন। আর তাদের হাত ধরেই আজকের এই শিরোপা জিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখালেন মেয়েরা।

আজ বিকেলে নেপালের দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শুরু হয় ম্যাচটি। ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালি মেয়েদের চাপে রেখেছেন বাংলার বাঘিনীরা৷ প্রথম মিনিটের সময়ই মারিয়া মান্ডার ডানপায়ের সেই শট রুখে দেন নেপালী গোলকিপার আনজিলা সুব্বা। একের পর এক আক্রমন করে গিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। দিতে হয়েছে কঠিন পরিক্ষা।

১৩ মিনিটে ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার জুনিয়রের অনন্য এক গোলে খেলায় এক ধাপ এগিয়ে যায় বাংলার নারীরা। প্রথামার্ধে তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারে নি নেপাল। কেননা, বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইন ছিলো দেয়ালের ন্যায়। দ্বিতীয়ার্ধে গোল সমতায় ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে যায় নেপাল নারী ফুটবল দল।

একের পর এক আক্রমনের মাধ্যমে ৭০ মিনিটে আচমকা গোল দিয়ে সমতায় আনেন নেপালের মেয়েরা। বক্সের বাইরে থেকে গোলটি করেন আনিতা। আক্রমন ফেরে বাংলাদেশের মেয়েরা। গোলের ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয় ৭৭ মিনিটে কৃষ্ণার দ্বিতীয় গোলে ম্যাচের চালক হয়ে যায় বাংলাদেশ। এই গোলের পরই জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। পরক্ষণেই সতীর্থ খেলোয়াড়ের থ্রুপাস কে আয়ত্তে এনে ৩-১ ব্যবধানেের সেই গোলটি করে নিজেদের শিরোপা নিশ্চিত করেন কৃষ্ণা।

অপরাজিত থেকে সাফের শিরোপা জয়, সেটাও আবার নারী দলের জন্য প্রথমবার। এবং পুরো আসরের ২৩ গোল দিয়ে হজম করতে হয়েছে মাত্র একটি। এ যেনো এক অনন্য ইতিহাস বিশ্ববাসীকে দেখালো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর মাধ্যমে সুদিনের ছোঁয়া ফিরলো নারী ফুটবলারদের৷ এই তালে হয়তো একদিন বিশ্ব জয় করবে বাংলাদেশ, প্রত্যাশা ফুটবল প্রেমীদের।

পত্রিকাএকাত্তর / মাহমুদ রাফি

সম্পর্কিত নিউজ

Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ নিউজ