গণপরিবহনে দুর্ভোগ লাঘবে জবি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন 'GO BANGLADESH' অ্যাপস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৩ months আগে

গণপরিবহনে দুর্ভোগ লাঘবে জবি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন 'GO BANGLADESH' অ্যাপস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী | পত্রিকা একাত্তর
গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশন আওতায় আনতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ মাহদী হাসান সৌরভ তৈরি করেছেন মোবাইল ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন গো বাংলাদেশ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে Innovation Design and Entrepreneurship Academy (iDEA) থেকে দশ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে। প্রকল্পটিতে সহায়তা করেছেন জবি সিএসই বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলফিকার মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান। এছাড়া টিমে সহযোগী সদস্য হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসাইন, রেজাউল করিম এবং নিশাত মাহমুদ যুক্ত আছেন। তাদের এই প্রকল্পটি 'মুজিব ১০০ আইডিয়া' তে সেরা ১০০ এর ভিতরে স্থান লাভ করেছিল। 
'গো বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা বর্তমান সিস্টেমের বিকল্প, নির্ভুল, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী। কিউআর কোড, ডিজিটাল ওয়ালেট, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন শ্রমিক ও পরিবহন মালিকদের একই ছায়াতলে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে প্রকল্পটি। অনিবন্ধিত বাস ও ড্রাইভার এ সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে না। বাসের প্রতিটি সিটের পেছনে একটি করে কিউআর কোড লাগানো থাকবে। যাত্রী যে সিটে বসবেন তার সামনের সিটের পেছনে সেই সিটের কিউআর কোডটি থাকবে। যাত্রী তার সামনের কিউআর কোডটি স্ক্যান করার মাধ্যমে শুধুমাত্র গন্তব্য সিলেক্ট করে ভাড়া দিতে পারবেন। ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
এছাড়া এ অ্যাপের মাধ্যমে অগ্রিম টিকিটও বুক করে রাখা যাবে। ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো মন্তব্য বা অভিযোগ থাকলে যাত্রীরা তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রদান করতে পারবে। যা সরাসরি পরিবহন মালিকরা দেখতে পারবেন। এতে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হয়ে যাবে। যাত্রীরা তাদের ভাড়া বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমের প্রদান করতে পারবেন। যাত্রীদের এ পেমেন্ট সরাসরি পরিবহন মালিকের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। পরবর্তীতে মালিক তার বাসের চালককে ভাড়া কিংবা বেতন দেবেন।  এছাড়াও তিনি (মালিক) যেকোনো সময় বাসের অবস্থান, ড্রাইভারের বিস্তারিত, যাত্রীর তথ্য এবং যাত্রীদের অভিযোগগুলোও দেখতে পারবেন। 
প্রকল্পের মাস্টারমাইন্ড মোঃ মাহদী হাসান সৌরভ বলেন, হিমাচল পরিবহন আমাদের সেবা নেওয়ার ইচ্ছাপোষন করেছে। নগর পরিবহনের সাথে কথা চলছে। বিআরটিএ যদি চায় আমাদের এই সেবা বিনামূল্যে ব্যবহার করে দেখতে পারে। গণপরিবহন খাতকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে এর বিকল্প নেই।

পত্রিকা একাত্তর/ অশ্রু মল্লিক