patrika71 Logo
ঢাকামঙ্গলবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবনানন্দ ফিরে আসবে

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জানুয়ারি ২৬, ২০২১ ৭:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

অমিতাভ হালদার,কলামিস্টঃ “সাহিত্য শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ” আজকালকার অবস্থা দেখলে বলতে ইচ্ছে করে “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সর্ব প্রধান অঙ্গ৷জানিনা,প্রখ্যাত প্রাবন্ধনিক কোন সময়ে বলেছিলেন এটা,দিনকেদিন ঐসব উক্তিও পাল্টাতে শুরু করেছে তাহলে৷

পাল্টাবে তো,আজকাল ভাষা শিক্ষার থেকে জীব জন্তুর বৈজ্ঞানিক নাম মুখস্ত করার প্রবণতা এতোই বেড়েছে যে ভাষাকে কেউ মূল্যয়ন করছে না৷ভাষাটা ব্যবহৃত হচ্ছে শুধু পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য,লেটার মার্কস পাওয়ার জন্য৷অথচ এই ভাষাতেই বিশ্বকবি লিখেছিলেন তার অমর রচনাগুলো ৷নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা কি অন্য ভাষায় মানায়!বলুন৷

সাহিত্যের দিকে আজ কারো নজর নাই,নতুন প্রজন্ম সাহিত্য পড়ে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য,সৃজনশীল হওয়ার জন্য নয়৷যদি স্বাধীনতা পরবর্তী সাহিত্য আজকের প্রজম্মের ভেতরও টিকিয়ে রাখা যেতো তাহলে আমাদের ইতিহাস অধিকতর সম্মানিত হতো৷স্বচ্ছতা,ভালবাসা আর কিছু না হোক এর থেকে বেশি শ্রদ্ধা-সম্মান পেতো৷

জানিতো,বড় বড় কথা বললে হবে না,আমাদের সামর্থ্যের কথাও ভাবতে হবে৷স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কি আমরা এতোটাই হতদরিদ্র যে বছরের পর বছর ঘুরে এক খানা সাহিত্যগ্রন্থ সৃষ্টি করতে পারি না৷হ্যাঁ, আমরা দরিদ্র,তবে ঐ অর্থের দিক থেকে নয়,মনের দিক থেকে৷

আমাদের সেই ভাবনাটুকু ভাবারও সময় নেই যে, কি হয় যদি তৈরি করে ফেলতে পারি একটা উপন্যাস,একটা কাব্যগ্রন্থ,একটা প্রবন্ধ সংকলন৷কিন্তু বিজ্ঞ চাকুরীজীবীদের কাছে এসব বলা-বৃথা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই না৷আজকাল আবার সাহিত্যের বই পড়তেও ইচ্ছা করেনা লোকদের৷এর মাধ্যমে যে জীবনকে উপলব্ধি করা যায় তা ওদের বুঝাবে কে?এর মাধ্যমে ইতিহাস জানা যায়,সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সঞ্চয় করে রাখা যায়,তা কে বলবে বলুনতো!

শিঘ্রই যদি নতুনদের মাঝে সাহিত্যচর্চার প্রবণতা তৈরি করা না যায়,তাহলে আর অধঃ পতনের দেরী নাই৷বাংলা ভাষা বিস্তার,সমৃদ্ধ ও ভাষাকে প্রবহমান নদীর সাথে তাল মিলিয়ে রাখতে হলে আজই সাহিত্যের দুয়ার খুলে দিতে হবে৷তা না করতে পারলে ভাষা আন্দোলনের রক্তদান বৃথা যাবে৷আমাদের এখনই উচিত প্রত্যেক স্কুলে সাহিত্যচর্চার মঞ্চ তৈরী করে দেয়া৷হোক না খারাপ,তাতে কি? এর মধ্য থেকেই একদিন ভালোরা বেরিয়ে আসবে,যারা ভাষাকে বাচিঁয়ে রাখবে,ভাষা শহীদদের ইতিহাসকে তুলে ধরবে বিশ্ব মঞ্চে৷

গ্রামে গ্রামে পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে,প্রত্যেক স্টুডেন্টের বাসায় রবীন্দ্র-নজরুলের অন্তত পাঁচ খানা করে বই রাখতে হবে৷বাংলিশ বলাটা আর লেখাটা একদম বন্ধ করতে হবে৷প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাসে মাসে না হোক বছরে কমপক্ষে একটা সাহিত্য ম্যাগাজিন বের করতে হবে৷তাতে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের লেখা দিতে হবে৷তাদেরকে সনদ প্রদান করতে হবে,এতে সাহিত্যের প্রতি অন্যান্য স্টুডেন্টেদেরও আগ্রহ সৃষ্টি হবে৷

কবিগুরু কি ছোট বেলা জানতেন-যে সে বিশ্বকবি হবে,সে নোবেল পাবে?জানতেন না তো,তাহলে এরা কিশোরকবি কিংবা পল্লী কবি না হোক কে জানে এদের মধ্যেই হয়ত বড় কিছু লুকিয়ে আছে৷হয়তো,এদের মধ্য থেকেই একদিন উঠে আসবে আমাদের রবীন্দ্রনাথ,আমাদের সেই চির উন্নত শির৷হয়তো, ফিরে আসবে আমাদের ধানসিঁড়িঁর তীর থেকে তিমির হননের কবি-রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ ৷

ad