টিকা দিতে এসে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার কলেজ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিনিধি

১২ জানুয়ারী, ২০২২, ৫ দিন আগে

টিকা দিতে এসে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার কলেজ শিক্ষার্থী
ফাইল ছবি | পত্রিকা একাত্তর

ছোট বোনকে টিকা দিতে এসে ভাই কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্হ্য কপ্লেক্সে তৃতীয় তলায় আজ সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়।

আহত আবদুল্লাহ আল নোমান জানান,আমি আজ সকাল ১০.৩০টায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছোট বোনকে নিয়ে টিকা দেয়ার জন্য তৃতীয় তলায় যাই। সেখানে হঠাৎ করে রোমান,পিতাঃমতি খাঁ, শুভ, পিতাঃ আসমান খাঁ, শাহিন, পিতাঃ জাহাঙ্গীর ম্যালকার, মুন্না, মাহিম সহ প্রায় ১২-১৫ জনের একটা সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং আমার উপর হামলা করে।

একপর্যায়ে গলায় রশি বেধেঁ ফাশ দিয়ে আমাকে কিল ঘুষি মারতে থাকে তখন আমার ছোট বোন আমাকে ছাড়াতে এলে তাঁকে ও লাঞ্চিত করে।

হামলার কারন জানতে চাইলে বলেন, হামলাকারী রোমানের সাথে পূর্ব দ্বন্দ্ব ছিল যা এলাকার বড় ভাইদের মধ্যস্হতায় মিমাংসা হয়েছে। মিমাংসা হলেও পূর্বদন্ধের জের ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দিত আমাকে দেখিয়ে দিবে। তাই আমতলীর কতিপয় কিছু কিশোর গ্যাংয় কে ভাড়া করে আমার ও ছোট বোনের উপর হামলা চালায়। আমার উপর হামলার উপযুক্ত বিচার চাই। 

প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল রানা জানান, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। দলে প্রায় ১০-১৫ জন হবে প্রথমে কিলঘুষি তারপর গলায় রশি দিয়ে বেধে বেধরক মারে।

ঘটনাস্হলে উপস্হিত শিক্ষক, ছাএদের সামনে প্রকাশ্যে এভাবে মারধর করে কেউ ভয়তে এগিয়ে আসেনি। আমি ডাক চিৎকার দিয়ে ছুটে গেলে কিশোরগ্যাংয়ের গ্রুপটি দ্রুত স্হান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় এঘটনা এদের পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। আব্দুল্লাহ আল নোমান খুব ভালো ছেলে।তার উপর হামলা মেনে নিতে পারছিনা।প্রশাসনের কাছে এই হামলার কঠোর শাস্তি দাবী জানাই। 

এদিকে হামলার ঘটনার জড়িতদের যাদের নাম আসছে। তারা আমতলীর কতিপয় ক্ষমতাশীন প্রভাবশালীদের মদদে মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস সহ সকল ধরনের সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন এবং এদের নামে একাধিক মামলা থাকা সত্বেও দিব্বি প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। তাই বড় বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেও আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুশীল সমাজের একজন বলেছেন, আমতলীতে কিশোরগ্যংয়ের দৌরাত্ম দিনদিন এতটা বেড়েছে কোন সাধারণ মানুষ এখন নিরাপদ নয়।

কেউ কেউ মুখ খুললেও তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দামকি লাঞ্চিত ও হয়রানি করা হচ্ছে। এখনি এদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্হা গ্রহন না করলে ভবিষ্যতে এদের হাতে ভয়ংকর কিছু ঘটনা দেখার অপেক্ষা করতে হবে আমতলীবাসীকে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন,আমি সারাদিন মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম ঘটনা ফেসবুক পোস্টে জানতে পারি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।