রংপুরে গ্যাস না থাকায় শিল্পায়ন স্থবির
গ্যাস সরবরাহের অভাবে শিল্প-কারখানা, বিসিক শিল্পনগরী ও ইপিজেড গড়ে ওঠেনি
রংপুর জেলা প্রতিনিধি · রংপুর
প্রকাশ:
রংপুরে গ্যাস সরবরাহের উদ্বোধন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিল্পায়নের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) সভাপতি আলহাজ এমদাদুল হোসেন বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে শিল্প নীতি কার্যকর করা কঠিন।
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে জিনিসপত্রের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীর দু’পাশে চাপ বাড়ছে। তাই এখন কেনাকাটার আগে গ্রাহকরা বেশি চিন্তাভাবনা করছেন, যদিও দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছুটা কেনাকাটার বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় রংপুরে কোনো চাঁদাবাজি নেই, যা চেম্বারের সদস্যদের যোগ্য নেতৃত্বের ফল। অন্যদিকে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর কারণে নগরীতে যানজট বেড়েছে; বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন দেখছে এবং মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহের অভাবে শিল্প-কারখানা, বিসিক শিল্পনগরী, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড গড়ে ওঠেনি, নতুন উদ্যোক্তারা শিল্প স্থাপন করতে পারছেন না। রংপুর বিভাগের জন্য পৃথক শিল্পনীতি, কর ও ভ্যাট নীতি প্রণয়ন, কর অবকাশ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা জরুরি।
রংপুরের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর, তাই কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প জোন গড়ে তোলা এবং পোশাকশিল্পের জন্য বিশেষ শিল্প জোন স্থাপন করা প্রয়োজন। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দারিদ্র্য কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে; সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ ও রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় পর্যায়ে লোকাল এলসির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে, যা পূর্বে ছিল না এবং পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এই নতুন করের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে; তাই সরকারকে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
১৯৭২ সালে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা প্রায় চার হাজার। এটি একটি অলাভজনক, সেবামূলক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যা ব্যবসা‑বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে এবং সরকারকে তথ্য‑পরামর্শ প্রদান করে।