লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ
৪৬ জনের মৃত্যু, ১১০ ফুট জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি · লালমনিরহাট
প্রকাশ:
লালমনিরহাটের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ লালমনিরহাট‑বুড়িমারী মহাসড়ককে এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ‘মৃত্যুফাঁদ’ বলে অভিহিত করছেন। তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ও চলতি বছরের এ পর্যন্ত এই সড়কে অন্তত ৪৬ জনের প্রাণ গেছে এবং আরও অনেকে পঙ্গু হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
সড়কটি অপ্রশস্ত, সংস্কারের নামে অপরিকল্পিত ইট‑খোয়া এবং ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের ফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আদিতমারী উপজেলার নামুড়ি‑পলাশী ও কালীগঞ্জের ভোটমারী এলাকার কিছু অংশ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বাসিন্দা লাভলু মিয়া বলেন, "সড়কটি মেরামতের নামে ইট ফেলে রাখায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।" জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জালাল উদ্দিন যোগ করেন, "ট্রাক ওভারটেক করার সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। বড় দুর্ঘটনাও ঘটে।"
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, "অপ্রশস্ত সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি চালকদের বেপরোয়া গতি, পণ্যবাহী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত ওভারলোডিং এবং মহাসড়কে ধীরগতির থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।"
সড়ক ও জনপথ বিভাগের লালমনিরহাটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, "মহাসড়কের খানাখন্দগুলো নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচলের উপযোগী রাখা হচ্ছে। বুড়িমারী ও মিশন মোড় থেকে সাপটিবাড়ীসহ বাজারসংলগ্ন ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "স্থায়ী সমাধানের জন্য মহাসড়কটি চার লেনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১১০ ফুট জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন ডিপিপি অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে।"
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, "বিগত সরকারের আমলে এই মহাসড়ক নিয়ে অনেক তোড়জোড় দেখানো হয়েছিল। বাজেট পাস, নকশা ও টেন্ডারের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি শূন্য ছিল। এখন নতুন করে সড়কটির অ্যালাইনমেন্ট সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের জটিলতা সত্ত্বেও দ্রুত চার লেনে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে।"