নারায়ণগঞ্জে সাত খুন ও দুই হত্যার আপিল শোনানির তারিখ নির্ধারণ
আব্রার ফাহাদ হত্যার আপিল শোনানি ২৪ নভেম্বর, মেজর সিনহা মামলার শোনানি ১ ডিসেম্বর নির্ধারিত
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি · নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ:
চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রবিবার আপিল বিভাগে নারায়ণগঞ্জে সাত খুন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ এবং মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শোনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিজ্ঞাপন
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের শোনানি নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় ১৭ নভেম্বর, আবরার ফাহাদ হত্যার মামলায় ২৪ নভেম্বর এবং মেজর (অব.) সিনহা হত্যার মামলায় ১ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঘটেছিল; বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সকালেই উদ্ধার করা হয়; আর মেজর (অব.) সিনহা ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে গুলিতে নিহত হন।
এই তিনটি পৃথক মামলায় আলাদা আলাদা বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছে এবং দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা পৃথক আপিল ও লিভ‑টু‑আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছেন। সব আপিল চেম্বার আদালতের রবিবারের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।
বিজ্ঞাপন
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব আলোচিত মামলা, যেসব মামলা সমাজকে ও সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করেছে—এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তার প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে তিনটি মামলা নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছেন, সেই আপিলগুলো শুনানির জন্য আমরা আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি।’
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আবার বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুসারে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর। বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল শোনানি ২৪ নভেম্বর শুরু হবে আশা করা যাচ্ছে। মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলা যেটি শোনানির তারিখ ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে…আমাদের প্রত্যাশার জায়গাটা হচ্ছে, এই মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে যেন শুনানি শুরু হয়।’
এক যুগ আগে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা‑নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের গাড়ি থামায়; র্যাব নজরুল, তার তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যায়। আইনজীবী চন্দন সরকারও সেই পথে যাচ্ছিলেন, অপহরণ দেখলে তাকে ও তার গাড়িচালককে র্যাব তুলে নেয় এবং পরে সবাইকে হত্যা করে, পেট কেটে ইটের বস্তা বেঁধে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেয়।
সেই রাতেই পেট কাটা শিকারের লাশ ৩০ এপ্রিল ভেসে ওঠে; সাতজন নিহতের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র‑২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনার জন্য দুটি মামলা দায়ের হয়; একটির বাদী ছিলেন নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, অন্যটির বাদী ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেয়, ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেয়, ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বজায় থাকে, ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে আজীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৯ জনের দণ্ড রয়ে যায়।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০১৮ সালের নভেম্বরের পরে, ২০১৯ সালে র্যাবের সাবেক কর্মকর্তারা ও অন্যান্য দণ্ডিতরা পৃথক আপিল করেন। একই সময়ে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতন শুরু হয়; পরদিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুষ্টিয়ার গ্রাম বাড়িতে ছিলেন এবং বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ২য় বর্ষের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আবরার ফাহাদ হত্যার মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল‑১ রায় দেয়, ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ আসামিকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়। হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সব দণ্ড বজায় রেখে রায় দেয়; মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করে এবং আজীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা লিভ‑টু‑আপিলের আবেদন করে।
মেজর (অব.) সিনহা হত্যার ঘটনা ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার‑টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর