মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডারের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বৈলতলী ইউনিয়নের প্রবীন আ.লীগের নেতা ও যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ.মজিদ এর বাড়িতে চন্দনাইশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক চৌধুরী আরমানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ টি মোটরসাইকেল যোগে ৪০/৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যপারে গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ.মজিদের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৪) বাদী হয়ে ১০জন কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

আসামীরা হলেন লোহাগারা থানার মৌলনা নুরুল হকের বাড়ী এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে রাশেদুল হক (৩৪), চন্দনাইশ উপজেলা পশ্চিম বৈলতলী ১নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত আবদুল বারেকের ছেলে আবদুল মতলব(৩৫), পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়া এলাকার আবদুর রহীম বাদশার ছেলে ও চন্দনাইশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারজেদুল ইসলাম চৌধুরী আরমান (২৫), পিতা অজ্ঞাতনামা ফাসিফুল আরিফ চৌধুরী(২২), মৃত নুরুন্নবীর ছেলে সিরাজ মিয়া (৪৪), আবদুর রহীমের ছেলে ফরিদুল ইসলাম প্রকাশ সজিব(২৭), আবদুল করিমের ছেলে আবদুর রহমান প্রকাশ সাজ্জাদ (২৪),বৈলবতী ৬নং ওয়ার্ডের নুরচ্ছফার ছেলে ও বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সায়েম, আবু চৌধুরী ছেলে সায়েদুল ইসলাম চৌধুরী, মফজল আহমদের ছেলে নাজিম উদ্দীন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গত ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবারে পূর্ব শত্রুতা এবং জায়গা সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে চাঁদা দাবী এবং পাওনা টাকার জন্য মামলা মোকদ্দমার জের ধরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার পশ্চিম বৈলতলী গ্রামের প্রবীন আ.লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ মজিদের বাড়িতে এসে বাড়ী ঘেড়াও করে ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে এই হামলা সংগঠিত করে।

দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্হলে তান্ডব চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে তার ছোট ছেলে মোঃজসীম উদ্দীনের উপর অতর্কিত হামলা করে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায় আঘাতের ফলে তার ডান চোখ উপড়ে যায়।

ঘটনার বর্ননায় জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলাস্হ বড় হাতিয়া হাদুর পাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রাশেদুল হক জসীম উদ্দীনের কাছ থেকে ব্যবসার জন্য টাকা ধার নিয়ে টাকা ফেরত প্রদানের অঙ্গীকারে চেক প্রদান করেও টাকা ফেরত প্রদান না করায় চেক প্রতারক রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে পাওনা টাকার জন্য জসীম উদ্দীন বিজ্ঞ আদালতে এন আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ৩টি মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে মামলা গুলো বিজ্ঞ আদালতে স্বাক্ষীর জন্য ধার্য আছে। বিজ্ঞ আদালতে চলমান এন আই এক্টের মামলা ৩টি তুলে নিতে এবং আবদুল মতলব কর্তৃক জসীম উদ্দীনের নিকট দীর্ঘদিন যাবত দাবী কৃত চাঁদার টাকা প্রদানের দাবীতে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায় বলে জানা যায়।

কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ বলেন, আমি বৈলতলী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রতিষ্টাতা সাধারন সম্পাদক ছিলাম। দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং অর্থ সম্পাদক ছিলাম।আমি যুদ্ধকালীন একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলাম।

আমি কি এজন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি, আওয়ামীলীগের জন্য, এদেশের জন্য আমি কি করিনি? সদ্য রাজনীতিতে আসা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও তার সাথে আসা ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী ছেলে গুলো আমার ছেলের বয়সে অনেক ছোট, তারা কি করে পারলো আবদুল মতলব আর রাশেদুল হকের সাথে সজ্ঞবদ্ধ হয়ে আমার উপর, আমার পরিবারের উপর এভাবে হামলা করতে।কত টাকার বিনিময়ে তারা একাজ করেছে আমি জানি না।

আমি আমার পরিবার এই সব সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার জন্যই কি যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম?আমি আমার স্ত্রী, আমার ছেলে, ছেলের বউয়ের কি অপরাধ ছিল?আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ দেশ বাসির কাছে এর বিচার চাই। আমার ছেলে এখন একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে।

সন্ত্রাসীরা আমার সাথে, আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে এমন ন্যাক্কার জনক কাজ করবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তারা এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি, আবদুল মতলব, রাশেদুল হক সন্ত্রাসীদের নিয়ে চলে যাওয়ার সময় আমাকে হুমকি দেয় যে, তারা সুযোগ পেলে আমাকে, আমার পরিবারকে আবার দেখে নেবে, আমার ছেলে বেচেঁ থাকলে রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এন আই এ্যাক্টের মামলা তুলে না নিলে এবং দাবীকৃত ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে আমার ছেলে জসীম উদ্দীনের উপর আজকের ন্যায় তারা আবারো হামলা করবে এবং পুর্বের ন্যায় তাকে আবারও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে জানান।

এই ব্যপারে চন্দনাইশ থানার ওসি’র সাথে কথা বললে তিনি জানান এই বিষয়ে তিনি শুনেছেন তবে থানায় কোন অভিযোগ হয়নি, চট্রগ্রাম আদালতে মামলা হয়েছে শুনেছি।

পত্রিকাএকাত্তর / ইসমাইল ইমন

সম্পর্কিত নিউজ

Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ নিউজ