প্রিসিলা'র সাহায্য পৌঁছেছে অসহায় জেলে পরিবারের মাঝে

মোহাম্মদ শাহেদ

মোহাম্মদ শাহেদ

১৩ জানুয়ারী, ২০২২, ৪ দিন আগে

প্রিসিলা'র সাহায্য পৌঁছেছে অসহায় জেলে পরিবারের মাঝে

সুদূর নিউইয়র্কে থেকেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসহায় জনগোষ্ঠীর মাঝে নানা ধরনের সহায়তামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা। এবার তাঁর দেওয়া শীতবস্ত্র পৌঁছেছে দেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়।

কলাপাড়ার হতদরিদ্র জেলে পরিবারের মাঝে প্রিসিলা’র দেওয়া কম্বল পৌঁছে দিয়েছে “কলাপাড়া গ্র্যাজুয়েট ক্লাব’র সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের টুঙ্গিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অসহায় পরিবারের মাঝে এসব কম্বল তুলে দেওয়া হয়। উপকূলীয় এসব জনগোষ্ঠীর কাছে সচরাচর খুব একটা সহায়তা পৌঁছায় না। জীবনে প্রথম শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি এই এলাকার মানুষ।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দুস্থ মা ও শিশুদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন প্রিসিলা ফাতেমা। সাধারণ মানুষের কাছে মানবতার কন্যা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ১৭ বছরের নিউইয়র্কে বাস করা বাংলাদেশি এই কিশোরী। সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থাপক হিসেবে বিশাল জনপ্রিয় প্রিসিলা ফাতেমা। পত্রিকা একাত্তরকে প্রিসিলা জানান, মাদার তেরেসার মত মানবকল্যাণে জীবন উৎসর্গ করতে চান তিনি।

তার যে বয়সে হেসে খেলে জীবন যাপন উপভোগ করার কথা সে বয়সে তার চারপাশের অধিকার বঞ্চিত অসহায় মানুষের জীবনের সুখে-দুখে নিজেকে সামিল করেছেন বাংলাদেশি কিশোরী প্রিসিলা ফাতেমা। ১৭ বছর বয়সী প্রিসিলা ছোটবেলা থেকেই সামাজিক কাজে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিউ ইয়র্কে বাস করলেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য।

প্রিসিলা ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ব্যক্তিগত ও তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করে দিয়েছেন। মহামারী চলাকালীন ত্রাণ বিতরণ করেছেন, এমনকি প্রতি বছরই তিনি শীতবস্ত্র বিতরণ করেন অসহায়দের মাঝে, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেক অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মা ও শিশুদের প্রতি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দায়িত্ব ও নিয়েছেন তিনি।

প্রিসিলা ফাতেমা জানান, আমি এই কাজ করা শুরু করেছি কারণ আমি বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশকে আমি অনেক ভালবাসি, আমি বাংলাদেশের মানুষকে অনেক ভালবাসি। আমি কখনো চাইনা কোন বাংলাদেশী মানুষ যেন কষ্ট পান অথবা জীবন ভালোভাবে কন্টিনিউ করতে পারবেন না এটা আমি চাইনা। এবং যখনই আমি দেখি যে কেউ ভালোভাবে জীবনকে সামনের দিকে এগোতে পারছে না অথবা জীবনে অনেক কষ্ট পাচ্ছে তখন আমারও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কষ্ট লাগে তখন আমি চেষ্টা করি আপনাদের কে সহযোগিতা করতে যতটা আমার দ্বারা সম্ভব।