গুরুগ্রামের ভাড়া বাসায় তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী দম্পতির মরদেহ উদ্ধার
মৃত্যুর আগে কর্মস্থলে পাঠানো ইমেইলে মোহাম্মদ আসলাম লিখেছিলেন, ‘আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে একটি ভাড়া বাসা থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আসলাম তাঁর স্ত্রী ফারহানাকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে নিজের কর্মস্থলে পাঠানো এক ইমেইলে আসলাম লিখেছিলেন, ‘আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি’।
বিজ্ঞাপন
বুধবার গুরুগ্রামের এম৩এম মারিনা আবাসিক এলাকার ওই ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। দিনটি ছিল ফারহানার জন্মদিন। পুলিশ জানায়, আসলাম ও ফারহানা দুজনই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। তাঁদের বাড়ি কেরালায়। প্রায় তিন মাস আগে বেঙ্গালুরু থেকে গুরুগ্রামে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন তাঁরা।
বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি নোটেও একই কথা, ‘আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি’, লেখা ছিল। আসলামের মরদেহ পাওয়া যায় ঝুলন্ত অবস্থায়। ফারহানার নিথর দেহ পড়ে ছিল মেঝেতে এবং তাঁর ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ফারহানার হাতে লেখা ‘আই লাভ ইউ’ কথাটিও পাওয়া গেছে।
আসলামের সহকর্মীরা খবর দিলে বাড়িওয়ালা বাসায় যান। তিনিই প্রথম দম্পতির মরদেহ দেখতে পান। জানা গেছে, বাড়িওয়ালা পৌঁছানোর সময় বাসার দরজা খোলা ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন, একটি দড়ি, একটি ডায়েরি, এক জোড়া কাঁচি ও একটি পেনড্রাইভ জব্দ করেছে। মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, আসলাম আগে ফারহানাকে হত্যা করেন, তারপর নিজে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) ধারায় হত্যা মামলা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসলাম ও ফারহানার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কোনও বিরোধের কথা জানা যায়নি। তবে আসলাম প্রায় দেড় বছর ধরে বিষণ্নতার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। স্বজনদের ধারণা, অতিরিক্ত কাজের চাপ এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি এখনও তদন্তাধীন। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করে দেখছে পুলিশ।
আসলাম কালিকটের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি) এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আইআইএম) ইন্দোর ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারহানাও একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং বাসা থেকে কাজ করতেন।