ফ্রেশারদের জন্য অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি পাওয়ার উপায়
রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের এইচআর হেডের পরামর্শে অভিজ্ঞতা না থাকলেও চাকরি পাওয়া সম্ভব
চাকরি ডেস্ক
প্রকাশ:
‘অভিজ্ঞতা নেই’ ফ্রেশাররা কীভাবে নিজের গুরুত্ব তৈরি করবেন – দেশব্যাপী চাকরির বাজারে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা তরুণদের জন্য অভিজ্ঞতা এখন সবচেয়ে বড় ধাঁধা। চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো দেখলে মনে হয় জন্মের সঙ্গে সিভি হাতে কোনো ইন্টার্নশিপে যোগ দেওয়া উচিত ছিল।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু যখন বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় অভিজ্ঞতা ন্যূনতম তিন বছর, তখন ফ্রেশারদের আনন্দ দ্রুত হতাশায় রূপান্তরিত হয়। ফলে চাকরিপ্রার্থীর সমীকরণ হয়ে দাঁড়ায়: অভিজ্ঞতা না থাকায় চাকরি না পাওয়া, আর চাকরি না পাওয়ায় অভিজ্ঞতা না থাকা।
এখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ভয়ও যুক্ত হয়েছে। আগে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল পাশের বাড়ির মেধাবী ছেলেটি, এখন এআই টুলসের ব্যবহারকে নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। তবু অভিজ্ঞতা না থাকা কোনো অপরাধ নয়; এটি স্বাভাবিক একটি পর্যায়।
প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এবং বিজ্ঞপ্তির শর্ত দেখে ঘাবড়ে না গিয়ে, কৌশলগতভাবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব। নিম্নে কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হলো:
১. ডিগ্রি নয়, দক্ষতাকে ‘অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উপস্থাপন করুন: প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বছরের হিসাব নয়, কাজ করার সক্ষমতা চায়। আপনার লেখনী, ডেটা অ্যানালাইসিস, ভিডিও এডিটিং, প্রেজেন্টেশন বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দক্ষতা সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ সিভিতে যুক্ত করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প, প্রেজেন্টেশন বা গবেষণার কাজকে কাজের নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
২. পোর্টফোলিও তৈরি করুন: ‘কোথাও কাজ করিনি’ না বলে দেখান আপনি কী তৈরি করতে পেরেছেন। ডিজাইন, কোডিং, কনটেন্ট রাইটিং বা ফাইন্যান্স যেকোনো ক্ষেত্রেই নিজের উদ্যোগে প্রকল্প তৈরি করে শক্তিশালী পোর্টফোলিও গড়ে তুলুন; এতে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারবেন যে আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও আপনার বাস্তব সামর্থ্য আছে।
৩. ইন্টার্নশিপ ও ভলান্টিয়ারিংকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিন: বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ক্লাব, উৎসব, সামাজিক সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবক কাজ, এক-দুই মাসের ছোট ইন্টার্নশিপ—এগুলো ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ‘যোগাযোগ দক্ষতা’, ‘চাপের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা’ ও ‘টিমওয়ার্ক’ ইত্যাদি দক্ষতা আপনি এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জন করেছেন; সিভিতে পেশাদার ভাষায় তুলে ধরুন।
৪. প্রযুক্তির ভয় কাটিয়ে এআইকে বন্ধু বানান: এআই আসার ফলে চাকরি হারিয়ে যাবে এমন ভয় না করে, এআই টুলস ব্যবহার করে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দক্ষতা অর্জন করুন। এআইকে প্রতিস্থাপন করার আগে নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন এআই চালনা করার জন্য আপনাকেই প্রয়োজন হয়।
৫. নেটওয়ার্কিং ও সফট স্কিলসে জোর দিন: সিভি জমা দিয়ে অপেক্ষা করার দিন শেষ। লিংকডইনের মতো পেশাদার প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি বাড়ান, ক্ষেত্রের পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলুন, তাদের অভিজ্ঞতা শিখুন এবং নিজের কাজ শেয়ার করুন। শক্ত নেটওয়ার্কিং অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করতে পারে, পাশাপাশি প্রবলেম সলভিং, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও দ্রুত শিখতে ইচ্ছা গড়ে তুলুন।
বিজ্ঞাপন
শেষ কথা, ফ্রেশারের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার শেখার আগ্রহ, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সহজতা এবং অদম্য উৎসাহ। চাকরির বাজার ক্রমাগত পরিবর্তনশীল; তাই সময়ের সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখা হতে পারে ফ্রেশারদের সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তিশালী অভিজ্ঞতা।
মুত্তাকিন হাসান, প্ল্যান্ট এইচআর হেড, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড