সংসদ ভবনের সামনে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু: এক আসামির জামিন মঞ্জুর
আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রাকিব হোসেনের নয়; পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত জামিন
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে সড়কে পড়ে বগুড়ার প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের (৫৬) মৃত্যুর ঘটনায় এক আসামি জামিন পেয়েছেন। তাঁর নাম মো. রাকিব হোসেন (২৪)। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
বিজ্ঞাপন
আদালত পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় এই জামিন দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত রাকিবের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা না থাকায় খুব শিগগিরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ওই আইনজীবী।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। চোখের চিকিৎসক দেখানোর উদ্দেশ্যে গত ২৯ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে স্বামী মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন তিনি। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটসংলগ্ন পাকা রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। সেই টানে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর গত ৩০ আগস্ট র্যাব-২ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযুক্তদের আটক করে। আটকের সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্মার্টফোন, নগদ টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। এরপর গত ৩১ আগস্ট আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিজ্ঞাপন
জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী মেহেদী হাসান মজুমদার বলেন, প্রথমে যে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছিল, তার মালিক আসামি মো. রাকিব হোসেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছিনতাইয়ের সময় ওই মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার সময় সেটি গ্যারেজে ছিল এবং তার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে। পরে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত আসল মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। ওই আইনজীবীর ভাষ্য, শুধু হয়রানি করার জন্যই রাকিবকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল।
জামিন আবেদনে বলা হয়, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় যে মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে, সেটি তাঁর নয়। তাঁর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কোনও মালামালও উদ্ধার হয়নি। আবেদনে আরও বলা হয়, শুধু মিডিয়া ট্রাইয়ালের কারণে তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং আসামির জন্য যেকোনও শর্তে জামিন প্রার্থনা করা হয়েছে।