মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ১৪০টি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন অন্তত ৩২,৮০০ জন, গ্রেফতার ২৫০ জনের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত এই বড় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মী ও কৃষক। ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রতিবাদে তোলপাড় সৃষ্টি করা ‘ইয়োলো ভেস্ট’ (হলুদ ভেস্ট) আন্দোলনের পুনরুত্থানমুখী কর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার প্লাস দে লা রিপাবলিক ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মাস্ক ও হুড পরা বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। আল জাজিরার প্রতিনিধি নাতাশা বাটলারের বর্ণনায়, বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ আন্দোলনকারীদের আলাদা করে ঘিরে ফেলার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
রাজধানীর বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীরা টাউন হলে ঢুকে পড়েন এবং বাণিজ্যিক এলাকার কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালান। লিওন শহরে স্থানীয় পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে ১৪০টি বিক্ষোভের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যাতে অংশ নিয়েছেন অন্তত ৩২,৮০০ জন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার এখন জাতীয় ঋণ কমানোর জন্য বাজেট নিয়ে আলোচনা করছে। আগামী বছরই দেশটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনের সূচনা কীভাবে, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে তথ্য রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের পরিবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন। পুলিশের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। সেখান থেকেই আজকের বিশাল আন্দোলনের শুরু। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী হাত হারিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
প্যারিসভিত্তিক সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চের গবেষক ব্রুনো কত্রে বলেন, এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নার্স, কৃষক ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের নানা ক্ষোভের একটি ‘সম্মিলিত রূপ’। তাঁর ভাষ্য, উচ্চ করহার ও জাতীয় বাজেট ঘাটতির কারণে জনগণের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। ফরাসি নাগরিকেরা এখন নিজেদের প্রশ্ন করছেন, একটি দেশ হিসেবে তাঁরা কোন দিকে যাচ্ছেন এবং কীভাবে এই বাজেট সংকট থেকে বের হবেন।
এর আগে শুক্রবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে শান্তির আহ্বান জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, সংবিধান মেনে প্রতিবাদ করার এবং নিজের মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে এই অধিকারের সঙ্গে শ্রদ্ধাবোধও থাকতে হবে। মানুষ ও সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কিছু ধ্বংস না করার প্রতিশ্রুতিও এই অধিকারেরই অংশ।