যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ অক্টোবর বস দিবস, যেভাবে শুরু হয়েছিল
১৯৫৮ সালে প্যাট্রিসিয়া বেস হারোস্কি দিবসটি নিবন্ধন করেন নিজের বাবার জন্মদিনে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
কর্মব্যস্ত জীবনে অফিসের নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবদান আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখা, গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া, একজন বসকে প্রতিদিনই এমন নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়। এসব কাজের স্বীকৃতি জানাতে প্রতিবছর পালিত হয় বস দিবস।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর বস দিবস বা বস’ ডে পালন করা হয়। কর্মক্ষেত্রে বস ও কর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়া, নেতৃত্বের দায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানো এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসেবেই দিনটি উদ্যাপিত হয়।
বস দিবসের প্রচলন শুরু ১৯৫৮ সালে। তখন প্যাট্রিসিয়া বেস হারোস্কি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফার্ম ইনস্যুরেন্সে সচিব হিসেবে কাজ করতেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে দিবসটি নিবন্ধন করেন। দিনটি পালনের জন্য তিনি নিজের বাবার জন্মদিন বেছে নেন, কারণ কর্মক্ষেত্রে বাবার অধীনেই কাজ করতেন তিনি।
হারোস্কির উপলব্ধি ছিল, কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালনে বসদের পরিশ্রম ও অবদান অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। সেই ভাবনা থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি বিশেষ দিন চালুর উদ্যোগ নেন তিনি। ১৯৭৯ সালে শুভেচ্ছা কার্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলমার্ক বস দিবস উপলক্ষে বিশেষ কার্ড প্রকাশ করলে দিনটির পরিচিতি আরও বাড়ে।
বস দিবস পালনে দামি উপহার বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন লাগে না। ছোট্ট একটি শুভেচ্ছা কার্ড, আন্তরিক ধন্যবাদ কিংবা সরাসরি শুভেচ্ছাই যথেষ্ট হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে বসের সহযোগিতা বা কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে তাঁর সহায়তার কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানালে তা আরও অর্থবহ হয়।
বিজ্ঞাপন
বসের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বুঝে হালকা রসিকতার মাধ্যমেও দিনটি উদ্যাপন করা যায়। তবে সেই রসিকতা যেন কাউকে বিব্রত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ব্যক্তিগতভাবে উপহার দিতে অস্বস্তি হলে অফিসের মানবসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে কাউকে আলাদাভাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও কমে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দিবসটি পালন যেন কারও জন্য বাধ্যবাধকতা হয়ে না দাঁড়ায়। সহকর্মীদের সামনে বসকে খুশি করার প্রতিযোগিতা তৈরি করা কিংবা দামি উপহার দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা এই দিনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখানে মুখ্য হলো আন্তরিকতা ও সৌজন্য।
প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে একজন বসকে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কর্মীদের কাজের পরিবেশ বজায় রাখা, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করা এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণে নেতৃত্ব দেওয়াসহ তাঁর দায়িত্বের পরিধি বেশ বিস্তৃত। তাই কর্মীদের পাশাপাশি নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়াও কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে সুস্থ কর্মপরিবেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু বস বা কর্মীদের নয়, এটি উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, কাজের স্বীকৃতি, সম্মানজনক আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করাও একজন ভালো নেতার দায়িত্ব। একইভাবে কর্মীদের সৌজন্য, দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার মনোভাব দলগত কাজকে আরও কার্যকর করে।
বিজ্ঞাপন
একজন ভালো নেতা কর্মীদের অবদানকেও যথাযথ স্বীকৃতি দেন। তাঁদের কাজের প্রশংসা করা, প্রয়োজনে পাশে থাকা এবং ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা সম্ভব। বসের প্রতি সম্মান যেমন জরুরি, তেমনি কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখানোও ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ।
বস দিবস ঘিরে বড় আয়োজন ছাড়াও সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করা যায়। সহকর্মীদের সঙ্গে এক কাপ কফি ভাগ করে নেওয়া, সামান্য আপ্যায়ন কিংবা আন্তরিক কথোপকথনও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ প্রাণবন্ত করতে পারে। তবে এসব আয়োজনের চেয়েও জরুরি হলো বছরের প্রতিটি দিন একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
বস দিবস কেবল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব, নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব স্মরণ করারও উপলক্ষ এটি। বস ও কর্মী উভয় পক্ষ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে কর্মপরিবেশ আরও সুস্থ, সহযোগিতাপূর্ণ ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।