ব্যায়াম বন্ধ করলে পেশি চর্বিতে পরিণত হয় না, বলছেন বিশেষজ্ঞ
ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের অধ্যাপক লেই ব্রিন জানান, পেশি কমা ও চর্বি বাড়া একই সময়ে ঘটতে পারে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
নিয়মিত ব্যায়াম করার পর হুট করে তা ছেড়ে দিলে শরীরে নানা পরিবর্তন আসতে পারে। পেশি আগের মতো টানটান না থাকা বা চর্বি বেড়ে যাওয়ার মতো বদল অনেকের মনে প্রশ্ন তোলে, ব্যায়াম বন্ধ করলে কি পেশি চর্বিতে পরিণত হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি ভুল।
বিজ্ঞাপন
ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের পেশির শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লেই ব্রিন বলেন, “এটি সত্য নয়।” তিনি জানান, যাঁরা দীর্ঘদিন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের কাছ থেকে প্রায়ই এ ধরনের কথা শোনেন। তাঁদের অনেকের মনে হয়, পেশি আগের চেয়ে নরম হয়ে গেছে কিংবা শরীরের গঠন আর আগের মতো টানটান নেই।
বাস্তবে পেশি ও চর্বি পুরোপুরি আলাদা ধরনের টিস্যু। মানবদেহে এমন কোনো পরিচিত জৈবিক প্রক্রিয়া নেই, যার মাধ্যমে পেশি সরাসরি চর্বিতে বা চর্বি পেশিতে বদলে যায়। অধ্যাপক ব্রিনের মতে, ব্যায়াম থামানোর পর শরীরে যে পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ে, সেগুলোই এই ভুল ধারণার জন্ম দেয়।
বিশেষ করে ওয়েট ট্রেনিং বা ভারোত্তোলনের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যায়াম ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে পেশির পরিমাণ কমতে পারে। একই সঙ্গে ব্যায়াম কমে যাওয়ার পরও আগের মতো খাওয়া চলতে থাকলে শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি জমে। এর ফলে চর্বির পরিমাণ বাড়তে পারে।
অর্থাৎ পেশি কমে যাওয়া এবং চর্বি বাড়া একই সময়ে ঘটতে পারে। এই দুই পরিবর্তনের কারণে মনে হয়, পেশিই বুঝি চর্বিতে বদলে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে পেশি ও চর্বির মধ্যে এমন কোনো রূপান্তর ঘটে না।
বিজ্ঞাপন
কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত ব্যায়াম না করলেও দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় থাকলে শরীরে তুলনামূলকভাবে কম পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে চোট বা আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকতে হলে পেশির পরিমাণ ও শরীরের গঠনে আরও স্পষ্ট বদল আসতে পারে। তবে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন, দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা, খাদ্যাভ্যাস এবং বিরতির সময়কালের ওপর। তাই ব্যায়াম বন্ধ করলেই সবার শরীরে একই পরিবর্তন হবে, এমন নয়।
ব্যায়াম থেকে বিরতির সময়ও খাদ্যাভ্যাসে নজর রাখা জরুরি। অধ্যাপক ব্রিন পরামর্শ দেন, এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। শারীরিক সক্রিয়তা কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি গ্রহণও সামান্য কমানো যেতে পারে। তবে ক্যালোরি কমাতে গিয়ে যেন শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার।
শরীর প্রতিনিয়ত বদলায়। ব্যায়ামের রুটিনে বিরতি এলে পেশি ও চর্বির পরিমাণে সামান্য ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক। অধ্যাপক ব্রিনের মতে, কয়েক মাস ও বছরের পরিসরে নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকলে এ ধরনের সামান্য পরিবর্তন নিয়ে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
তাই ব্যায়াম বন্ধ করলে পেশি চর্বিতে পরিণত হয়, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। বরং পেশি ধরে রাখতে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।