খাইবার পাখতুনখাওয়ায় আরও আগেই হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল: নওয়াজ শরিফ
জরুরি অবস্থা জারির আগে পিটিআইয়ের সঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি নওয়াজ শরিফ।
বিজ্ঞাপন
ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) শাহবাজ বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। আর নওয়াজের বক্তব্য, এ সিদ্ধান্ত আরও অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয়’ থাকার অভিযোগ তুলে ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে এই পদক্ষেপ অনুমোদন পায়।
শাহবাজ বলেন, জরুরি অবস্থা এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘শেষ চেষ্টা’ করেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বিরোধীদের সঙ্গে সরকার ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) যৌথ প্রতিনিধিদলের কয়েক দফা আলোচনার কথা তোলেন। ৩ অক্টোবর দুই পক্ষের দ্বিতীয় দফার আলোচনা কয়েক ঘণ্টা চলে, কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়।
শাহবাজের ভাষ্য, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে এবং একটি সমঝোতার খসড়াও তৈরি হয়েছিল। সেই সমঝোতায় পিটিআইয়ের প্রতিবাদ মিছিল বন্ধ করার কথা ছিল। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও তার পূর্বসূরি আলী আমিন গান্দাপুরের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেছেন বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর সোহেল আফ্রিদির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন করেছেন পিএমএল-এনের সভাপতি নওয়াজ। গতকাল শনিবার লন্ডনের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
নওয়াজ বলেন, পিটিআইয়ের শাসনামলে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছিল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। তার মতে, শান্তি ফিরিয়ে আনা, সুশাসন নিশ্চিত করা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।