কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ১০ পর্যটকের মৃত্যু, তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি
তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে; রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস প্রধান
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি · উখিয়া, কক্সবাজার
প্রকাশ:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে পাটোয়ারটেক সৈকত-সংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে লাগা আগুনে ১০ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এঁদের ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। ঘটনার কারণ খুঁজতে জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে; তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ধারে তিনতলা কাঠের ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরের অনেক পর্যটক বেরোতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহ বের করা হয়।
ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
মৃতদের তালিকায় স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তাও (২৯) রয়েছেন বলে খবর মিলেছে। ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলে পড়াতেন তিনি। ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দেওয়ান ফয়সাল তাঁর স্বামী। বাকি দুই নিহত পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও আকিবুল ইসলাম বলে জানা গেছে।
স্ত্রীসহ ছয় আত্মীয়কে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান আশিকুল ইসলাম। স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বনশ্রী থেকে তিনি কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার সবাই কক্সবাজারে পৌঁছান, আর শনিবারই তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আশিকুল জানান, সকালে আগুন দেখে স্ত্রী তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পাশের কক্ষে থাকা স্বজনদের সাবধান করতে তিনি ছুটে যান। শেষে জানালা ভেঙে নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজে বেরিয়ে আসতে পারলেও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি।
আগুন কীভাবে লাগল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের ভাষ্য, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুন ছড়িয়ে থাকতে পারে; তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।
দুর্ঘটনার পর রিসোর্টের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেছেন, এই স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনে গিয়ে ভবনটিকে অনিরাপদ আখ্যা দিয়ে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। মহাপরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, তিনতলা এই কাঠের ভবনের নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ, ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার জায়গা। যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়া এমন স্থাপনা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান আরও জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ, রিসোর্টের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।