দুর্গাপূজার ছুটিতে কাপ্তাইয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটকের আশা, হোটেল-মোটেল বুকিং শেষ
পূজার ছুটি উপলক্ষে কাপ্তাইয়ের সব হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউজ আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে, নতুন করে রুম পাচ্ছেন না কেউ
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি · কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
প্রকাশ:
শারদীয় দুর্গাপূজার লম্বা ছুটিকে ঘিরে কাপ্তাইয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার পর্যটক ঘুরতে আসবেন বলে আশা করছেন সেখানকার হোটেল ও মোটেলের পরিচালকরা। আগত পর্যটকদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন হোটেলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই উপজেলার সব হোটেল, মোটেল ও রেস্টহাউজ অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। এখন নতুন করে কেউ কোনো রুম বা রেস্টহাউজ বুকিং পাচ্ছেন না।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কাপ্তাইয়ের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র প্যানোরমা জুম রেস্তোরাঁ, লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট, রাইংখ্যং আইল্যান্ড ও নিসর্গ রিভ্যার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউজ—সবই পূজার ছুটি উপলক্ষে বুকিং হয়ে আছে। পড হাউজের ম্যানেজার মাসুদ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের ১০টি নন এসি এবং আটটি এসি রুম গত এক মাস আগেই বুকিং হয়ে গেছে। নতুন করে কেউ রুম বুকিং চাইলে আমরা দিতে পারব না। পূজার বন্ধে প্রতিদিন দুপুরে খাবারের জন্যও তাদের এখানে বুকিং দিয়ে রেখেছেন অনেকে।’
রাইংখ্যং আইল্যান্ডের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর জানান, তাঁদের ১০টি রুমের সবই বুকিং হয়ে গেছে। অনেকে তাঁবু টাঙিয়ে থাকার জন্যও তাঁবু বুকিং দিয়ে রেখেছেন। নতুন করে কাউকে রুম বুকিং দেওয়া সম্ভব নয়।
লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটের ম্যানেজার বলেন, পর্যটকদের কাছে অন্য সব জায়গার চেয়ে কাপ্তাইয়ের আকর্ষণ বেশি। এখানে পাহাড়, লেক, নদী, সমতল ও সবুজের সমারোহ আছে, আছে লাইভ পাখপাখালি ও জীবজন্তু দেখার সুযোগ। অনেক সময় রাস্তার পাশে বা পাহাড়ের পাদদেশে বন্য হাতিরও দেখা মেলে। কর্ণফুলী নদী ও কাপ্তাই লেকে দল বেঁধে বন্য হাতির গোসলের দৃশ্য সবাইকে আকৃষ্ট করে। এ কারণেই কাপ্তাইয়ের প্রতি পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ থাকে।
রাজধানী ঢাকা থেকে হুমায়ুন কবির নামের এক পর্যটক শনিবার (১৭ অক্টোবর) মোবাইল ফোনে জানান, আগে থেকে পরিকল্পনা না থাকলেও হঠাৎ করেই তাঁরা সপরিবারে কাপ্তাই ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাপ্তাইয়ে দুই রাত থাকার ইচ্ছা থাকলেও কোথাও হোটেল, মোটেল এমনকি কোনো রেস্টহাউজও খালি পাচ্ছেন না। তবু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও কোনো রকমে দুটি রুম পেলে তাঁরা বুকিং নেবেন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
কাপ্তাই বোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস জানান, ‘এ বারের লম্বা পূজার ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণ করবেন। নৌভ্রমণের জন্য পর্যটকরা আমাদের কাছ থেকে ইঞ্জিনচালিত বোট ভাড়া করে থাকেন।’ ছোট ও বড়—দুই ধরনের বোটেরই চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান।
মাইক্রোবাস চালক মো. জসিম জানান, পূজার বন্ধে শুধু দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা কাপ্তাই ভ্রমণে আসবেন তা নয়, কাপ্তাই থেকেও অনেক পর্যটক বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে যাবেন। এ জন্য অনেকেই তাঁদের কাছ থেকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আবদুল জলিল জানান, তাঁদের অটোরিকশা আগাম বুকিং না নেওয়া হলেও প্রতিদিন ভাড়া থাকবে। এই ছুটিতে সবাই কমবেশি ভালো ব্যবসা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, এই দীর্ঘ ছুটিতে অনেক পর্যটক কাপ্তাইয়ে বেড়াতে আসবেন বলে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সচেতন রয়েছে। কোথাও যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের যথাযথ নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে রেখে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।