অপ্রতিম হত্যা: দু-তিন দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে
আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে ১৩ বছরের কিশোরকে হত্যা, তদন্ত শেষ পর্যায়ে: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি · কুমিল্লা
প্রকাশ:
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ ও এসআরবি–১১–এর যৌথ আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়। যুবদল কর্মী আবু কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামিসহ দুজনকে আটকের বিষয়ে ওই সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। তার শেষ দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অপ্রতিম হত্যা মামলার অগ্রগতির কথা জানান পুলিশ সুপার।
আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসা–সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, দু–তিন দিনের মধ্যে আমরা বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করব, ইনশা আল্লাহ।
নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি কেড়ে নেওয়ার জন্যই তাকে কৌশলে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সে বাধা দিলে হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় বারবার আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন কিশোর। পরে মূল অভিযুক্ত তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তুহিনসহ তিন আসামি কুমিল্লার আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চূড়ান্ত ধাপ শুরু হচ্ছে।