ডোমারে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি

ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি

১০ জানুয়ারী, ২০২২, ১ week আগে

ডোমারে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভোজ্য তেল সরিষা। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কৃষকদের স্বল্প খরচে এবং কম সময়ে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে সরিষা চাষে।

কৃষকরা উন্নত জাতের সরিষা চাষে লাভবান হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে অধিক জমিতে সরিষা চাষ করছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার সরিষা চাষীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সরকারী প্রনোদনায় ৮০০ বিঘা জমির সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বারী-১৪ ও বারী-১৫ জাতের সরিষা এ উপজেলায় বেশী চাষ হয়। বপন থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত সময় লাগে ৮০ থেকে ৮৫ দিন। ভালো ফলনে প্রতি একরে ১২ থেকে ১৫ মণ সরিষা পাওয়া যায়।

জানা যায়, বারী-১৭ জাতের সরিষারও ফলন বেশী হয়। এই জাতের সরিষা প্রতি একরে ২০ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। সময় লাগে ৮৫ থেকে ৯০ দিন। গত বছর থেকে বারী-১৭ সরিষা চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। সময় কয়েক দিন বেশী লাগায় কৃষকরা উক্ত জাতের সরিষা কম চাষ করে থাকে। গত বছর ৪৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এবারে তারচেয়ে ৬৫ হেক্টর জমিতে বেশী সরিষা চাষ করা হচ্ছে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ৬০ হেক্টর বেশী জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার ডোমার সদর ইউনিয়নের সরিষা চাষী আলতাফ হোসেন জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর ইরি ধান আবাদ করার মৌসুম পর্যন্ত প্রায় তিনমাস ক্ষেতের জমিগুলো পতিত হয়ে থাকে। এরমধ্যে কোনো আবাদ করা হয় না। আবাদী জমিগুলো পতিত না রেখে, আমন ধান কাটার পরপরই স্বল্প চাষে সরিষা লাগানো হয় এবং ইরি ধানের রোয়া বোপনের আগেই সরিষা ঘরে তোলা যায়। অযথা জমিগুলো ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করে, উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এছাড়াও সরিষা চাষের জমিতে ধানের ভালো ফলন হয়। কারন হিসেবে তারা জানান, সরিষা পাতা ও ফুল পড়ে জমিগুলোর উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে।

ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আনিছুজ্জামান জানান, ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারী ভাবে তাদের প্রনোদনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষা গাছ সুস্থ্য-সবল হয়েছে। আশা করছি, এবারে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।