অসময়ের বৃষ্টিতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি

উপজেলা প্রতিনিধি, চরফ্যাশন

উপজেলা প্রতিনিধি, চরফ্যাশন

১১ মে, ২০২২, ৫ দিন আগে

অসময়ের বৃষ্টিতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি
চলতি মৌসুমে রবি শস্যসহ বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত আসতে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ঝরেছে। প্রতিটি মাঠ এখন কৃষকের সবুজ স্বপ্ন ছেয়ে গেছে এবং তাদের মুখে হাসিও ফুটেছে।
কিন্তু সেই হাসির মধ্যে কৃষকরে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বিরুপ আবহাওয়া। চলতি মাসেই অসময়ে  ভরা  মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় "অশনি" ও প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই চিন্তা আর হতাশায় কৃষকের মাথায় হাত। 
অসময়ের বৃষ্টিতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, দিনেরাতে অনবরত বৃষ্টির কারনে রবি শস্যের  খেতে প্রচুর পানি জমে গেছে, ফলে মুগডাল, আলু, মরিচ, চীনাবাদ গাছ মরে যাচ্ছে, প্রতি বছর কৃষক  মুগ ডাল চার থেকে পাঁচ বার এবং মরিচ আট থেকে দশবার তোলা হয়, এ বছর প্রথম তোলা না দিতেই গাছ মরে গেছে এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়ন'র  কৃষক মাকসুদ জানান "এই বছর আমরা মুগ, মরিচ হাল তোলা না দিতেই গাছ মরে গেছে যেটুকু চালান ছিলো খ্যাতে ঢালছিলাম চালান লইয়া আর ঘরে যাইতে পারবোনা"
সাইফুল জানান, মুগডাল করেছিলাম না তোলতেই গাছ শেষ, বাদাম আর ঘরে নেওয়া হবেনা, না পাকতেই গাছ শেষ। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৮১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বোরা ধান, মুগডাল, আলু, মরিচ ও চীনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত না হানলে বোরে ধানের বেশ ভালো ফলন হবে। ঝড়ের আশংকায় বেশ কয়েকটি যায়গা আধা পাকা ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি জমি ও ৩ হাজার ৩৩৭ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।
এছাড়া সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল চাষ হয়েছে ৭৫ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে। উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের চাষি মোঃ আলাউদ্দিন  জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান প্রায় পাকা শুরু করেছে। এ বছরে আমন ধানেও ব্যাপক লাভবান হয়েছি। গত কয়েক বছর বোরো ধানে তেমন লাভজনক হয়নি।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আবু হাসনাইন জানান, প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত না হানলে বোরে ধানের বেশ ভালো ফলন হবে। উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছেন। কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। কয়েকটি স্থানে আধা-পাকা ধান কাটা শুরু করেছে।
পত্রিকা একাত্তর / শামছুদ্দিন খোকন