পূজার ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে জিনিসপত্র ও তথ্যের নিরাপত্তায় যেসব সতর্কতা
নগদ টাকা, কার্ড, ব্যাগ, ওয়াই-ফাই ও জরুরি নথির নিরাপত্তায় কয়েকটি সহজ পরামর্শ।
ট্রাভেল ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
পূজার ছুটিতে অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। নতুন জায়গা ঘোরা, কেনাকাটা কিংবা উৎসবের আমেজের মাঝে সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে। মানিব্যাগ, গুরুত্বপূর্ণ নথি বা দামি গয়না হারিয়ে যেতে পারে। অনলাইন জালিয়াতি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কাও থাকে। এতে ঘোরার আনন্দ মাটি হয়। তাই ভ্রমণ নির্বিঘ্ন রাখতে পরিকল্পনার পাশাপাশি নিজের জিনিসপত্রের নিরাপত্তায়ও নজর দেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন
ভ্রমণের খরচের জন্য কিছু নগদ টাকা সঙ্গে রাখা ভালো, তবে সব টাকা এক মানিব্যাগে না রাখাই নিরাপদ। কিছু টাকা মানিব্যাগে এবং বাকিটা আলাদা নিরাপদ জায়গায় রাখা যেতে পারে। দৈনন্দিন খরচের জন্য একটি কার্ড ব্যবহার করা যায়। অন্য কার্ড ও বাড়তি টাকা আলাদা জায়গায় থাকলে মানিব্যাগ হারালেও বিপাকে পড়ার আশঙ্কা কমে। কার্ডের পিন বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য কারও সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়।
ব্যাগ বাছাইয়ের সময়ও সতর্ক থাকা দরকার। এমন ব্যাগ নেওয়া ভালো, যার চেন ও খোপ সহজে অন্যের নজরে পড়ে না। সম্ভব হলে লক লাগানো যায় এমন ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। টাকা, ফোন, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য জরুরি জিনিস বাইরের খোপে না রেখে ভেতরের নিরাপদ অংশে রাখা উচিত। ভিড়ের মধ্যে ব্যাগ পেছনে ঝুলিয়ে রাখার বদলে সামনে রাখলে সেটির ওপর নজর রাখা সহজ হয়।
কন্ট্যাক্টলেস কার্ডের তথ্য চুরি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে আরএফআইডি-প্রতিরোধী মানিব্যাগ ব্যবহার করা যায়। তবে সব ধরনের কার্ডের তথ্য এভাবে সহজে চুরি করা যায়, এমন নয়। কার্ডের লেনদেনের বিজ্ঞপ্তি চালু রাখা এবং ব্যাঙ্কের বার্তা নিয়মিত দেখা ভালো। সন্দেহজনক লেনদেন নজরে এলে দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্ড বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কার্ডের তথ্য বা ওটিপি অপরিচিত কাউকে জানানো যাবে না।
পূজার মণ্ডপ, বাজার, রেলস্টেশন কিংবা বাসে ওঠানামার সময় ব্যাগ ও ফোনের দিকে বিশেষ নজর রাখা দরকার। ভিড়ের মধ্যে কেউ অকারণে ধাক্কা দিলে, সাহায্যের অজুহাতে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করলে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ হতে চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। তবে কাউকে শুধু আচরণ দেখে চোর বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকর্মীর সাহায্য নেওয়াই ভালো।
বিজ্ঞাপন
হোটেল, রেস্তরাঁ বা রেলস্টেশনের বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে নেটওয়ার্কটি আসল কি না যাচাই করে নেওয়া উচিত। অপরিচিত বা সন্দেহজনক নেটওয়ার্কে ব্যাঙ্কের লেনদেন কিংবা সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যায়। ফোনে শক্তিশালী পাসকোড রাখা, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করা এবং কাজ শেষে অপরিচিত নেটওয়ার্ক থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাও দরকার।
পরিচয়পত্র, টিকিট, হোটেল বুকিংয়ের তথ্য এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বরের ডিজিটাল কপি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করা যায়। ফোন হারালে যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়, সে জন্য বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্যের কাছেও সফরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রেখে যাওয়া যেতে পারে। তবে নথির কপি এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে অননুমোদিত কেউ সহজে ঢুকতে পারে না।
ভ্রমণে সব ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব নয়, তবে আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে ক্ষতির আশঙ্কা কমানো যায়। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা প্রয়োজন, আর কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়া দরকার।