আইবিএমের চাকরি ছেড়ে গড়া বিপণন সংস্থায় জুনে আয় ২০ লাখ ডলার
২০ বছর আইবিএমে কাজ করা বেকি ডিগ্রোসা পার্শ্বব্যবসা থেকে গড়েছেন ‘কাউন্সেলিংওয়াইজ’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
২০ বছর ধরে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএমে চাকরি করেছেন বেকি ডিগ্রোসা। এক পর্যায়ে সেই করপোরেট কাজে তাঁর আর আগ্রহ ছিল না। ২০০৩ সালে চাকরি ছেড়ে তিনি নতুন পথ বেছে নেন। শুরুতে নেন থেরাপির পেশা, পরে নিজের ওয়েবসাইটের প্রচারের সূত্রে ডিজিটাল বিপণনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। সেই অভিজ্ঞতাতেই গড়ে ওঠে তাঁর বিপণন সংস্থা। ২০২৬ সালের জুনে সংস্থাটির আয় হয়েছে ২০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইবিএমে ডিগ্রোসা ছিলেন কনসালট্যান্ট ও ম্যানেজিং প্রিন্সিপাল। জ্যেষ্ঠ পদে উঠেও চাকরিতে আগের মতো উৎসাহ পাচ্ছিলেন না। ২০০৩ সালে চাকরি ছাড়ার পর তাই এক বছর তিনি ভবিষ্যৎ পেশা খুঁজে নিতে সময় দেন।
অবশেষে থেরাপিস্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি; নিজের জীবনে থেরাপির ইতিবাচক অভিজ্ঞতাও এতে ভূমিকা রেখেছিল। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে তিনি নিজের চর্চা শুরু করেন। সম্ভাব্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে একটি ওয়েবসাইটও বানান। কিন্তু অল্প সময়েই বুঝতে পারেন, ওয়েবসাইট থাকাই যথেষ্ট নয়; গুগলে সেটি কীভাবে মানুষের চোখে পড়বে, তা-ও জানতে হবে।
তাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ও কনটেন্ট লেখার নানা কোর্স করেন তিনি এবং শেখা কৌশল নিজের ওয়েবসাইটে কাজে লাগান। এতে আগ্রহী গ্রাহকদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এরপর নিজের অভিজ্ঞতা তিনি অন্য থেরাপিস্টদের সঙ্গে ভাগ করতে শুরু করেন। নিজের থেরাপি অফিসে ছোট ছোট প্রশিক্ষণ ক্লাস নিতেন তিনি, যেখানে অন্য থেরাপিস্টদের শেখাতেন ওয়েবসাইটের প্রচার ও গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরির উপায়। কিন্তু তিনি দেখেন, অনেকে প্রযুক্তিগত কাজ নিজে করতে স্বচ্ছন্দ নন।
ডিগ্রোসা শুধু প্রশিক্ষণে থেমে থাকেননি। যাঁরা নিজে এসব কাজ করতে পারছিলেন না, তাঁদের হয়ে কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পার্শ্বব্যবসা হিসেবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগই পরে ‘কাউন্সেলিংওয়াইজ’ নামের বিপণন সংস্থা হয়ে ওঠে, যা থেরাপিস্টদের গ্রাহক জোগাড়ে সহায়তা করে। সংস্থার সেবার মধ্যে আছে ওয়েবসাইট তৈরি, এসইও, কনটেন্ট লেখা, গুগল বিজনেস প্রোফাইল অপটিমাইজেশন এবং গুগল বিজ্ঞাপন পরিচালনা।
বিজ্ঞাপন
চাহিদা বাড়ায় থেরাপির চর্চা আর ব্যবসা একসঙ্গে চালানো কঠিন হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত থেরাপি চর্চা শুরুর চার বছর পর তা বন্ধ করে বিপণন সংস্থায় পুরোপুরি মন দেন তিনি। সিদ্ধান্তের আগে পুরোনো গ্রাহকদের ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন। ডিগ্রোসার দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে কাউন্সেলিংওয়াইজের বার্ষিক আয় সাত অঙ্কের ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের জুনে সংস্থাটির আয় ২০ লাখ ডলার; ভারতীয় মুদ্রায় তা প্রায় ১৮ কোটি রুপি।
গত পাঁচ বছর সংস্থাটি প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ডলার বা ২ কোটি ৭০ লাখ রুপি মুনাফা করেছে। আয়ের প্রায় ৯৯ শতাংশ আসে গ্রাহকদের সরাসরি দেওয়া সেবা থেকে।
প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ব্যবসা পরিচালনা ও গ্রাহকসেবার মিলনকে গুরুত্ব দিয়েছেন ডিগ্রোসা। তাঁর সংস্থা নানা এসইও কৌশল পরখ করে দেখে, গ্রাহকদের সার্চ ফলাফলে অবস্থান উন্নত করতে সেগুলো কতটা কাজে দেয়। যেগুলো সফল হয়, পরে সেগুলোকে নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়া হয়।
কাউন্সেলিংওয়াইজে এখন প্রায় ৪০-৫০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী কাজ করেন। যেসব গ্রাহক প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন এমন কর্মী নেওয়ার ওপরও জোর দেন ডিগ্রোসা।