গুগল ক্রোমে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বাড়ানোর উপায়
থার্ড-পার্টি কুকি বন্ধ, গুগল অ্যাকাউন্টের অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ ও সেফটি চেকের ধাপগুলো
প্রযুক্তি ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢোকা, সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান ও নানা সেবা ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ব্যবহারকারীর নানা তথ্য জমা হয়। এসব তথ্য থেকে ব্যক্তির আগ্রহ, পছন্দ ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় ইন্টারনেট ব্রাউজার। গুগল ক্রোম এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্রাউজার হলেও এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই সংকোচ বোধ করেন। ক্রোমে নিরাপদ ব্রাউজিংয়ের নানা সুবিধা থাকলেও ব্রাউজিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন তথ্য গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হতে পারে। তবে কয়েকটি সেটিংস বদলে ব্যক্তিগত তথ্যের সংগ্রহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণে থার্ড-পার্টি কুকি ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো ছোট ছোট ডেটা ফাইল, যা ব্যবহারকারীর দেখা ওয়েবসাইটের বাইরের কোনো সেবা বা প্রতিষ্ঠান তাঁর অনলাইন কার্যক্রম অনুসরণ ও বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণে কাজে লাগাতে পারে। ক্রোমে এসব কুকি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্রাউজারের ওপরের ডান দিকের থ্রি ডট মেনুতে ক্লিক করে সেটিংস থেকে প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি মেনুতে যেতে হবে। এরপর ‘থার্ড-পার্টি কুকিজ’ বেছে নিয়ে কুকি ব্লক করার অপশন চালু করতে হবে। একই বিভাগে ‘ডু নট ট্র্যাক’ চালুর অপশন থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যায়। তবে এটি ওয়েবসাইটগুলোকে শুধু ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম অনুসরণ না করার অনুরোধ পাঠায়, ওয়েবসাইটগুলো তা মানতে বাধ্য নয়।
ক্রোমের সেটিংসের পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য গুগল প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে ম্যানেজ ইউর গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে ডেটা এন্ড প্রাইভেসি বিভাগে যেতে হবে। সেখানে ‘ওয়েব এন্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ অপশন বন্ধ করলে গুগলের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারসংক্রান্ত কার্যক্রম সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
একই বিভাগে টাইমলাইন বন্ধ করে লোকেশনের ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনুসন্ধানের ফলাফল ও এআইয়ের উত্তর ব্যক্তিগত কার্যক্রমের ভিত্তিতে সাজানোর জন্য ব্যবহৃত তথ্য কমাতে ‘পার্সোনালাইজ সার্চ’ অপশনও বদলাতে হবে। বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগত আগ্রহ অনুযায়ী সাজানো সীমিত করতে মাই অ্যাড সেন্টার থেকে ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যায়।
শুধু তথ্য সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করলেই অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ক্রোমে সেটিংস > প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি > সেফটি চেক-এ গেলে ব্রাউজারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা বিষয় পরীক্ষা করা যায়। এখানে জানা যায় সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড ঝুঁকিতে আছে কি না, একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং ব্রাউজার হালনাগাদ করা দরকার কি না।
বিজ্ঞাপন
প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘সেফ ব্রাউজিং’ অপশনে সাধারণ সুরক্ষার পাশাপাশি এনহ্যান্সড প্রোটেকশন চালু করা যায়। এটি বিপজ্জনক ওয়েবসাইট, ডাউনলোড ও এক্সটেনশন শনাক্তে বাড়তি সুরক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ‘অলওয়েজ ইউজ সিকিউরড কানেকশন’ চালু করলে যেকোনো অনিরাপদ সংযোগসম্পন্ন ওয়েবসাইটে ঢোকার আগে সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।