বিমানবন্দরে গিয়ে বোর্ডিং বাতিল, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যেতে পারলেন না হৃদয়
তাসখন্দ থেকে পাঠানো চিঠিতে নামের পাশে ‘ক্রস চিহ্ন’ থাকায় বাংলাদেশের এক নম্বর টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের যাত্রা আটকে যায়
খেলা ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
বিমানবন্দরে গিয়েও উজবেকিস্তানের বিমানে ওঠা হয়নি বাংলাদেশের এক নম্বর টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মুহতসিন আহমেদ হৃদয়ের। তাসখন্দে অনুষ্ঠেয় ২৯তম এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দলের বাকিরা রওনা হতে পারলেও তাকে আটকে দেওয়া হয়। অন অ্যারাইভ্যাল ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাসখন্দ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে তার নামের পাশে ‘ক্রস চিহ্ন’ থাকায় বোর্ডিং পাস দেওয়ার পরও যাত্রা বাতিল করা হয়।
বিজ্ঞাপন
চ্যাম্পিয়নশিপটি হবে আগামী ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর। শনিবার রাতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কোচ বিমানবন্দরে যান। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সেখানে ছিলেন তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী খেলোয়াড় এবং কোচ আলী, অর্থাৎ মোট সাতজন। তাদের মধ্যে সোনাম সুলতানা সোমা ও মৌরা তাসখন্দের বিমানে উঠতে পারলেও হৃদয় পারেননি।
হৃদয় জানান, তার সহযাত্রী সবাই অন অ্যারাইভ্যাল ভিসা নিয়ে উজবেকিস্তানের বিমানে উঠতে পেরেছেন। উজবেকিস্তানের পাঠানো চিঠিতে বাকি সবার নাম ঠিকঠাক থাকলেও তার নামের পাশে ছিল ক্রস চিহ্ন। সেটি দেখে বোর্ডিং পাস দিয়েও তা বাতিল করে দেওয়া হয়। এর কারণ কেউ বলতে পারেননি, ফেডারেশনও কিছু জানাতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘এখন আজ যদি এর সমাধান হয়, তাহলে হয়তো যাওয়ার সুযোগ হবে।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশার কথা লিখেছেন হৃদয়। তিনি জানান, পেশাগত জীবনের একটি কঠিন সময় পার করছেন তিনি, যা গত কয়েক দিন ধরে তার লেখা যারা পড়ছেন, তারা হয়তো বুঝতে পারছেন। আজও আরেকটি কঠিন দিন গেল। এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে উজবেকিস্তান যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসে দলের সঙ্গে যেতে পারার আশায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন তিনি। ‘শেষ পর্যন্ত আমার আর যাওয়া হলো না।’
হৃদয়ের লেখায় আরও আছে, শনিবার সকালেই তাকে বিদায় জানাতে মেট্রো স্টেশনে এসেছিলেন তার মা। দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, এই ভেবে তাসখন্দের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি; আর এখন একা একা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তিনি লেখেন, ‘এই অনুভূতির কথা ভাষায় প্রকাশ করা খুবই কঠিন। এই মুহূর্তে আমি জানিই না যে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আদৌ খেলতে পারব কি না।’
বিজ্ঞাপন
এই সুযোগের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন জানিয়ে হৃদয় যুক্ত করেন, ‘আমি কেবল আশা করি যে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে সেই টেবিলে দাঁড়ানোর সুযোগ আমি পাবো।’