খাদিজা (রা.)–এর যে চার গুণ নারীদের জন্য অনুসরণীয়

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১ month আগে

খাদিজা (রা.)–এর যে চার গুণ নারীদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামের ইতিহাসে হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন। বুদ্ধিমতী, সম্মানিত, সৎ, দানশীলা ও নিবেদিতপ্রাণ এই মহীয়সী নারীকে ইমাম যাহাবি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী এবং জীবদ্দশায় নবীজির একমাত্র সঙ্গিনী। সবার আগে ইসলাম গ্রহণের মর্যাদা তাঁর। ফেরেশতা জিবরাঈলের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর কাছে বিশেষ সালাম পাঠিয়েছিলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছিলেন। উম্মাহাতুল মুমিনীন হিসেবে তাঁর মর্যাদা প্রতিটি মুসলিম নারীর কাছে গৌরবের।

নারী জীবনের শিক্ষা, আদর্শ ও চরিত্রগঠনে নবীজির স্ত্রীগণ সর্বোত্তম রোল মডেল। সেই বিবেচনায় মা খাদিজা (রা.) নারী সমাজের জন্য এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর দাম্পত্য জীবনে এমন কিছু গুণ ছিল, যা আজকের নারীদের জন্যও অত্যন্ত অনুসরণযোগ্য।

প্রথমত, তিনি চরিত্রবান জীবনসঙ্গী নির্বাচন করেছিলেন। মক্কার অন্যতম সম্ভ্রান্ত ও ধনী নারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর পাওয়া বহু বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল না শুধু বিয়ে; তিনি খুঁজছিলেন একজন নীতিবান, সৎ ও চরিত্রবান মানুষকে। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই গুণের অধিকারী হিসেবে আল্লাহ তাঁর জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। স্বামী নির্বাচনে খাদিজা (রা.)–এর এই বিচক্ষণতা পরবর্তীতে তাঁদের দাম্পত্যকে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে। প্রকৃত ভালোবাসা ও সম্মান তখনই গড়ে ওঠে যখন মানুষ সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করে।

দ্বিতীয় গুণ ছিল বিপদের সময় স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। হেরা গুহায় প্রথম ওহী আসার পর নবীজি (সা.) আতঙ্কিত হয়ে যান এবং সান্ত্বনার জন্য যান খাদিজার কাছেই। তিনি নবীজিকে আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহ কখনো তাঁর মতো সৎ, দানশীল, অতিথিপরায়ণ মানুষকে বিপদে ফেলবেন না। তাঁর কথার মধ্যে ছিল ভালোবাসা, দয়া এবং স্বামীর প্রতি গভীর বিশ্বাস—যা একজন স্ত্রীই দিতে পারে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, একজন স্ত্রী স্বামীর সবচেয়ে বড় মানসিক শক্তি হতে পারে।

তৃতীয়ত, খাদিজা (রা.) ছিলেন অসাধারণ পরামর্শদাতা। নবীজি (সা.)–এর প্রথম ওহীর অভিজ্ঞতা শুনে তিনি শুধু সান্ত্বনা দেননি, বরং বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে জ্ঞানী ব্যক্তি ওয়ারাকা ইবন নওফেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। একজন স্ত্রী হিসেবে জ্ঞানসমৃদ্ধ হওয়া কতটা প্রয়োজন, এই ঘটনা তা স্পষ্ট করে। স্বামীর জীবনের কঠিন সময়গুলোতে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারা একজন শিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান স্ত্রীর দায়িত্ব।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে অনন্য গুণ ছিল স্বামীর প্রতি তাঁর অটল সমর্থন। নবীজি (সা.) বলেছেন, যখন মানুষ তাঁর প্রতি সন্দেহ করেছিল, তখন খাদিজা (রা.) বিশ্বাস রেখেছিলেন; যখন অন্যরা তাঁকে সম্পদ দেয়নি, তিনি নিজের সব সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ইসলামের শুরুতে যে অত্যাচার, বর্জন ও কষ্ট নবীজি (সা.)-কে সহ্য করতে হয়েছিল, খাদিজা (রা.) সেই সময়ে ছিলেন তাঁর অন্যতম শক্তি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি স্বামীকে সমর্থন দিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিজের দায়িত্ব থেকে কখনো সরে যাননি।

খাদিজা (রা.)–এর জীবন নারীদের শেখায়—দাম্পত্য জীবনে সঠিক মানুষ নির্বাচন, বিপদের মুহূর্তে একে অপরের পাশে থাকা, প্রজ্ঞা দিয়ে সঠিক পথনির্দেশ করা এবং স্বামীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থায় অটল থাকা—এই চারটি গুণ সম্পর্ককে দৃঢ় করে। তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, ভালোবাসা ও ঈমানদৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা আজও মুসলিম নারীদের পথ দেখায়।

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news