দাম্পত্য সম্পর্ক দৃঢ় হবে যে দুই গুণে: ইসলামী দৃষ্টিতে গুরুত্ব ও বাস্তবতা

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১ month আগে

দাম্পত্য সম্পর্ক দৃঢ় হবে যে দুই গুণে: ইসলামী দৃষ্টিতে গুরুত্ব ও বাস্তবতা

বর্তমান সময়ে বিয়ের প্রতি অনাগ্রহ এবং বিবাহিত জীবনে অস্থিরতা—দুটোই বাড়ছে দ্রুত। অনেক যুগল বিয়ের পরও সম্পর্ক ধরে রাখতে পারছে না। অথচ মুসলিম সমাজ সবসময় পরিবারভিত্তিক বন্ধন, দায়িত্ববোধ এবং বৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবুও কেন আজ বহু পরিবারের দাম্পত্য জীবন ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে?

বৈবাহিক সম্পর্ক দুর্বল হওয়ার কারণ

আলেমদের মতে, বিয়ে এবং সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভুল মানসিকতা।

✔ সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য, পেশা—এসবকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া

✔ জীবনদৃষ্টি ও নৈতিকতার অভাব

✔ পারস্পরিক সহমর্মিতার বদলে নিজের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া

দাম্পত্য মানে পরস্পরের সুখ-দুঃখ ভাগ করা, সহযোগিতা করা এবং একে অপরকে বুঝে নেওয়া। কিন্তু যখন ‘আমি, আমার সুখ, আমার স্বাধীনতা’—এই মানসিকতা প্রাধান্য পায়, তখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

এ মনোভাব শুধু তরুণদের মাঝেই নয়—অনেক অভিভাবকও সন্তানের বিয়েতে নিজেদের সামাজিক মর্যাদাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। এতে প্রকৃত যোগ্য জীবনসঙ্গী বেছে নিতে ভুল হয়।

দাম্পত্য দৃঢ় করবে যে দুই গুণ

দাম্পত্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে যে দুটি গুণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়—

১. শোকর (কৃতজ্ঞতা)নিজের জীবন, সঙ্গী ও পরিবার নিয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। যতই অভাব থাকুক, প্রতিদিনের ছোট ছোট সুখগুলোকে মূল্যায়ন করা।

২. সবর (ধৈর্য)বিয়ের পর সমস্যাযুক্ত সময় আসবেই—এগুলোকে আল্লাহর পরীক্ষা মনে করে ধৈর্য ধরা এবং পরিস্থিতিকে উন্নতির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।

শোকর ও সবর—এই দুই গুণ ছাড়া দাম্পত্য তো নয়ই, কোনো আধ্যাত্মিক উন্নতিও সম্ভব নয়।

আল্লাহভীরু দম্পতিদের দৃষ্টান্ত

ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক বৃদ্ধ দম্পতি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বলেছেন—দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের রহস্য হলো ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা।

একজন স্ত্রী বলেন—

“আমি শহরের অন্যতম সুন্দরী ছিলাম, কিন্তু যাকে বিয়ে করেছি সে আমার পছন্দের মানুষ ছিল না। তবুও ধৈর্য ধরেছি।”

স্বামী বলেন—“আমাকে যাকে দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে পেয়েছি—এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ ছিলাম সবসময়।”

এ দুই গুণকে তারা তুলনা করেছেন জীবনের দুই ডানা হিসেবে—যা মানুষকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়।

‘পারফেক্ট সঙ্গী’–এর ভুল ধারণা

অনেকে বিয়ের আগে কিংবা পরে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খায় এক কারণেই—তারা ‘পারফেক্ট’ মানুষ খুঁজতে থাকে।কিন্তু পৃথিবীতে নিখুঁত মানুষ নেই। তাই অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই জীবনসঙ্গী ছাড়াই জীবন কাটিয়ে দেয়। আর বিয়ের পর প্রতিদিন কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য অনুশীলন না করলে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

আমাদের করণীয়

  • নিজের সুবিধাকে সবার আগে ভাবা—এই মানসিকতা পরিবর্তন করা
  • নৈতিকতা, আদর্শ ও ঈমানি দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী করা
  • বিয়েকে সাময়িক সম্পর্ক নয়, বরং দায়িত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে দেখা
  • পরিবারকে শক্তিশালী রাখতে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা

পরিবার দুর্বল হলে সমাজও দুর্বল হয়। তাই দাম্পত্য সম্পর্ককে জোরদার করা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই নয়, গোটা সমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news