নবী রাসুলগণের ছবি ছিল কি? সাধারণ মানুষ তাদের জানবে কিভাবে?

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

১৬ মে, ২০২২, ১ month আগে

নবী রাসুলগণের ছবি ছিল কি? সাধারণ মানুষ তাদের জানবে কিভাবে?

মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার মনোনীত ব্যক্তি তথা নবী-রাসুলগণ ও মহামানবগণ সর্বকালেই মানবজাতির নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়বস্তু। যুগে যুগে মানুষ তাঁদেরকে নিয়ে বহু চিন্তা-গবেষণা করেছেন।

তাঁদেরকে কেন্দ্র করে বাক-বিতণ্ডা, দ্বন্দ্ব-কলহ ও যুদ্ধ-বিগ্রহও রয়েছে প্রচুর। তবুও এর শেষ হয়নি- এখনও তাঁদেরকে ঘিরে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠে। সেসব অগণিত জিজ্ঞাসার মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা হলো- নবী-রাসুলগণের কি কোন ছবি ছিল? যদি না-ই বা থেকে থাকে তবে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কারা মনোনীত, সাধারণ মানুষ তা কিভাবে বুঝবে?

তাছাড়া অতি প্রাচীনকাল থেকে রাজা-বাদশাহদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মূর্তি কিংবা ছবি সংরক্ষণের রেওয়াজ চলে আসছে। অথচ নবী-রাসুলগণ মানুষের মাঝে এত গভীর প্রভাব ফেলা সত্ত্বেও তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে ছবি সংরক্ষণ করা হয়নি কেন? আর না হওয়ার পিছনে কি কোন বিশেষ রহস্য লুকায়িত রয়েছে?

নবী-রাসুলগণের ছবি ছিল কি-না?

এ বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা লাভের জন্য পবিত্র কুরআনে সে সম্পর্কে কি বলা হয়েছে, তা আমাদের জানা প্রয়োজন। পবিত্র কুরানের সুরা বাকারার ২৪৮ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে-
  • অর্থ-"তাদেরকে তাদের নবী বললেন, "তার বাদশাহীর নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট 'তাবুত' আসবে, যার মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রশান্তি রয়েছে এবং কিছু অবশিষ্ট বস্তু, মুসা ও হারুনের বংশধরদের পরিত্যক্ত; সেটাকে ফেরেশতাগণ বহন করে আনবে। নিঃসন্দেহে এর মধ্যে মহান নিদর্শন রয়েছে তোমাদের জন্য যদি ঈমান রাখো" (সুরা- বাকারা, আয়াত-৩০)।
  • এ আয়াতে ব্যবহৃত 'তাবুত' সম্পর্কে তাফসীরে জালালাইনে বর্ণিত হয়েছেঃ "বনি ইস্রাইলরা তাদের নবী হযরত শামূইল (আঃ)-এর কাছে রাজত্বের কর্তিত্ত্ব প্রতিষ্ঠার নিদর্শন চায়, তখন তিনি তাদের বলেছিলেন, তার কর্তিত্ত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট আসবে তাবুত অর্থাৎ সিন্দুক।
  • এতে নবীগণের ছবি সংরক্ষিত ছিল। হযরত আদম (আঃ)-এর নিকট আল্লাহ্‌ তায়ালা তা নাজিল করেছিলেন। পরে তা বনি ইস্রাইলের হাতে পড়ে। অমালিকা সম্প্রদায় এদের উপর বিজয়ী হলে তারা তা ছিনিয়ে নেয়। ইস্রায়িলীগণ এর উসিলায় শত্রুর উপর বিজয় প্রার্থনা করতো। তারা যুদ্ধের মাঠে তা নিজেদের সম্মুখে স্থাপন করতো এবং তা দিয়ে 'সাকীনা' বা 'চিত্ত প্রশান্তি' লাভ করতো।"
  • 'তাবূত' বা 'সিন্দুক' সম্বন্ধে তফসীরে কানজুল ঈমানে বলা হয়েছে- শামশাদ কাঠের তৈরী একটা স্বর্ণ-খচিত সিন্দুক ছিল, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাত এবং প্রস্থ দু'হাত ছিল। সেটাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা হযরত আদম (আঃ)-এর উপর নাজিল করেছিলেন। এর মধ্যে সমস্ত নবী (আঃ)-এর ছবি সংরক্ষিত ছিল। তাঁদের বাসস্থান ও বাসগৃহের ফটোও ছিল এবং শেষ ভাগে হুজুরে সায়িদুল আম্বিয়া (নবীকুল সরদার) সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের এবং হুজুর করিম (সঃ)-এর পবিত্রতম বাসগৃহের ছবি লাল ইয়াকুতের মধ্যে ছিলো, যাতে হুজুর নামাজরত অবস্থায় দণ্ডায়মান, আর তাঁর (সঃ) চতুস্পারশে তাঁর সাহাবা-ই-কেরাম।
  • হযরত আদম (আঃ) সেসব ছবি দেখেছেন। সিন্দুকখানা বংশ পরম্পরায় হযরত মুসা (আঃ) পর্যন্ত পৌঁছালো। তিনি এর মধ্যে তাওরাত রাখতেন এবং তাঁর বিশেষ বিশেষ সামগ্রীও রাখতেন। সুতরাং, এ তাবুতের মধ্যে তাওরাতের ফলকসমূহের টুকরাও ছিলো। আর হযরত মুসা (আঃ)-এত লাঠি, তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, তাঁর পবিত্র স্যান্ডেল যুগল এবং হারুন (আঃ)-এর পাগড়ি ও তাঁর লাঠি এবং সামান্য পরিমাণ 'মান্না' যা বনী ইস্রাঈলের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

হযরত মুসা (আঃ) যুদ্ধের সময় এ সিন্দুককে সামনে রাখতেন। এর দ্বারা বনী ইস্রাঈলের অন্তরসমূহে শান্তি বিরাজমান থাকতো। তাঁর পরবর্তী সময়ে এ 'তাবুত' বনী ইস্রাঈলের মধ্যে বংশ পরম্পরায় চলে আসছিল। যখন তাদের সামনে কোন জটিল বিষয় উপস্থিত হতো, তখন তারা এ 'তাবুক' কে সামনে রেখে প্রার্থনা করতো, আর সাফল্যমণ্ডিত হতো। শত্রুদের মোকাবিলায় এরই বরকতে বিজয় লাভ করতো।

বনী ইস্রাঈলের অবস্থা যখন খারাপ হয়ে গেল এবং তাদের অপকর্ম অতিমাত্রায় বেড়ে গেল আর আল্লাহ্‌ তায়ালা তাদের উপর 'আমালিকাহ্‌' সম্প্রদায়কে বিজয়ী করলেন, তখন তারা সেই 'তাবুত' তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল এবং সেটাকে নাপাক ও আবর্জনার স্থানে ফেলে রাখলো ও সেটার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলো।

এসব বেয়াদবীর কারণে তারা বিভিন্ন ধরণের রোগ ও নানাধরনের মুসীবতে আক্রান্ত হতে লাগলো। তাদের পাঁচটা বস্তি ধংসপ্রাপ্ত হলো। তখন তাদের নিশ্চিত ধারণা হলো যে, 'তাবুতের' প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করাই তাদের ধ্বংসের কারণ।

অতঃপর তারা 'তাবুতখানা' একটা গরুর গাড়ীর উপর রেখে গরুগুলো ছেড়ে দিল। এদিকে ফিরিশতাগণ সেটাকে বনী ইস্রাঈলের সামনে 'তালূতের' নিকট নিয়ে আসলেন। বস্তুতঃ এ 'তাবুত' আসা বনী ইস্রাঈলের জন্যে তালূতের বাদশাহীর নিদর্শন সাব্যস্ত হয়েছিল। বনী ইস্রাঈল এটা দেখে তাঁর বাদশাহী মেনে নিয়েছিলো এবং বিনা দ্বিধায় জিহাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলো।

কেননা, তাবুত পেয়ে তাদের মনে বিজয়ের ধারণা দৃঢ় হলো। তালুত বনী ইস্রাঈল থেকে সত্তর হাজার যুবক বেছে নিলেন, যাদের মধ্যে হযরত দাউদ (আঃ) ও ছিলেন। (জালালাইন, জু'মাল খাযিন ও মাদারিক ইত্যাদি)।

তফসীরের এ বর্ণনা থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত যে, মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর নিকট সমস্ত নবী-রাসুলগণের ছবি মোবারক প্রেরণ করেছিলেন এবং তা বংশ পরম্পরায় বনী ইস্রাঈলগণের নিকট পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

বিশ্বনবী (সঃ) সহ অন্যান্য নবীগণের ছবি মোবারক সম্পর্কে হাদীস শরীফে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়। হযরত মউলানা আহমদ ছাইদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রণীত মোহাম্মদ খালেদ অনুদিত- "বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিনশত মো'জেযা" নামক কিতাবের ২৩৭ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছেঃ

"নোয়ায়েম ইবনে আব্দুল্লাহ্‌, হিশাম ইবনে আস এবং আরো এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাজিয়াল্লাহু তায়া'লা আনহুর শাসনামলে রোম সম্রাটের নিকট প্রেরিত হইয়াছিলেন। তাহারা বলেন, আমরা জাবালা ইবনে আয়হামের নিকট গমন করিলাম। তিনি আমাদিগকে সম্রাটের নিকট লইয়া গেলেন।

সেখানে আমরা একটি স্বর্ণখচিত ও সুগন্ধিযুক্ত সিন্দুক দেখিতে পাইলাম। সিন্দুকের ভিতরের বেশ কয়েকটি ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ ছিল। সম্রাট একটি প্রকোষ্ঠ হইতে একটি কৃষ্ণবর্ণের রেশমী রুমাল বাহির করিলেন। উহাতে হযরত আদম আলাইহিস্‌সালামের চিত্র ছিল।"

অতঃপর দ্বিতীয় প্রকোষ্ঠ খুলিয়া উহার মধ্য হইতেও একটি রেশমী রুমাল বাহির করিল। উহাতে নূহ আলাইহিস্‌সালামের চিত্র ছিল। এইবার হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্‌সালামের চিত্র দেখাইবার পরই নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিত্র বাহির করিয়া বলিলঃ ইহাই সর্বশেষ প্রকোষ্ঠ, তাঁহার সম্পর্কে তোমাদিগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই এই প্রকোষ্ঠটি আগে খুলিলাম।

অতঃপর অন্যান্য প্রকোষ্ঠ খুলিয়া অপরাপর পয়গম্বরের চিত্র দেখাইল। হযরত ঈসা, হযরত হারুন, হযরত দাউদ, হযরত মুসা, হযরত লুত এবং ইসহাক আলাইহিস্‌সালামের চিত্রও দেখাইল। সে বলিলঃ এইগুলি দানিয়াল তৈরি করিয়াছিলেন।

বিশিষ্ট গবেষক মরহুম মওলানা আব্দুল জলীল মাজাহেরী তাঁর সুবিখ্যাত 'তলোয়ারে নয় উদারতায়' গ্রন্থে লিখেনঃ দাহিয়া কলবীর হাতে পত্র পাওয়ার পর এক রাত্রে কয়সর পত্রবাহকদিগকে নিভৃত কক্ষে ডাকিয়া আনাইলেন। তাহাদের সম্মুখে একটি বড় সিন্দুক আনা হইল। উহার ভিতরে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ ছিল। কয়সর সিন্দুক খুলিয়া উহার এক কুঠুরী হইতে একটি কালো বর্ণের রেশমী রুমাল বাহির করিলেন।

উহাতে একটি মানুষের ছবি ছিল

কয়সর জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহা কাহার ছবি বলিতে পারো কি? পত্র বাহক কহিলেন, আমরা চিনতে পারিলাম না। তখন কয়সর বলিতে লাগিলেন, ইহা আদি পিতা আদম আলাইহিস্‌সালামের ছবি। অতঃপর আর এক কুঠুরী হইতে অন্য একটি কালো রেশমী রুমাল বাহির করিয়া তাহাতে একটি ছবি দেখিয়া বলিলেন, ইহা হযরত নূহ পয়গম্বরের ছবি।

অতঃপর অপর একটি প্রকোষ্ঠ হইতে একটি ছবি বাহির করা হইল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা দেখিয়া অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হইলাম যে, ইহা অবিকল হযরত রাসূলুল্লাহ্‌ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের প্রতিকৃতি ছিল। কয়সর জিজ্ঞাসা করিলেন, এই ছবি চিনিতে পারিয়াছ কি? আমরা বলিলাম, নিশ্চয়ই চিনিতে পারিয়াছি, ইনিই আমাদের শেষ নবী মুহাম্মদ মোস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা একই কথা।

কয়সর সম্মানার্থে দণ্ডায়মান হইয়া পুনরায় উপবেশন করিলেন এবং কিছুক্ষণ ছবিটিকে ভালরূপে দেখিয়া বলিতে লাগিলেন, নিশ্চয়ই ইনিই শেষ নবী। আমার নিকট আরো অনেকগুলো ছবি আছে; এখন সবগুলি খুলিয়া দেখাইতেছি।

মওলানা আব্দুল জলীল মাজাহেরী লিখেনঃ অনন্তর একটির পর একটি খুলিয়া হযরত মুসা, হযরত ঈসা, হযরত সোলায়মান এবং অন্যান্য অনেক পয়গম্বরের ছবি দেখাইলেন। পত্রবাহকগণ জিজ্ঞাসা করিলেন, এই সমস্ত ছবি কিরূপে আপনার হস্ত গত হইল? কয়সর বলিলেন, হযরত আদম আলাইহিস্‌সালাম আল্লাহ্‌র নিকট দরখাস্ত করিয়াছিলেন যে, তাহার বংশধরগণের ছবি যেন তাহাকে দান করা হয়।

তখন আল্লাহ্‌ পাক তাহার নিকট এই ছবিগুলি পাঠাইয়াছিলেন। হযরত আদম আলাইহিস্‌সালাম ছবিগুলি স্বীয় বাসস্থানে রাখিয়া যান। যুলকারনাইন বাদশাহ্‌ স্বীয় ভ্রমণকালে এই সিন্দুক উদ্ধার করতে দানিয়ালকে দান করেন। আমার পূর্বপুরুষগণ সেখান হইতে তাহা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন।

মওলানা মাজাহেরী উপরোক্ত ঘটনাটি বায়হাকীর হাওয়ালায় বর্ণিত মোহাদ্দেসে দেহলবীর 'মাদারেজুন্নবুওত' কিতাবের প্রথম খণ্ডের ১০১পৃষ্ঠা হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন।

মুগীরা ইবনে শো'বা হইতে বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি মিশর সম্রাট মুকাওকিস এবং খ্রিস্টান সম্রাট ইস্কান্দারিয়ার কাছে যান তখন তাহারা তাহাকে পয়গম্বরগণের চিত্র দেখান এবং রাসুলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিত্রও দেখান, যাহা দেখিয়া তিনি পেয়ারা নবীকে তৎক্ষণাৎ চিনিয়া ফেলেন।

হযরত জোবায়ের রাজিয়াল্লা তায়ালা আনহু বলেনঃ আল্লাহ্‌পাক যখন তাঁহার নবীকে (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করিলেন এবং মক্কায় তাঁহার সুখ্যাতি ছড়াইয়া পড়িল তখন ঘটনাক্রমে আমি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে সফর করিতেছিলাম।

বসরায় গমনের পর একদল খ্রিস্টান আমাকে জিজ্ঞাসা করিল, তুমি কি হেরেমের অধিবাসী? আমি বললাম, হ্যাঁ। তাহারা পুনরায় জিজ্ঞসা করিল, তাহা হইলে তুমি কি সেই ব্যক্তিকেও চিন, যেই নবুওতের দাবী করিতেছে? উত্তরে আমি বলিলাম, অবশ্যই তাহাকে আমি চিনি।

অনন্তর তাহারা আমাকে এক গির্জায় নিয়ে গেল। সেখানে কিছু চিত্র ছিল। তাহারা বলিল, ভালো করিয়া দেখ এখানে সেই নবীর মত চিত্র আছে কিনা? আমি গভীর মনোযোগে সকল ছবি দেখিয়া বলিলাম, এখানে তাঁহার কোন ছবি নাই। অতঃপর তাহারা আমাকে পূর্বাপেক্ষা একটি বড় গির্জায় লইয়া গেল। সেখানে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি ছবি সংরক্ষিত ছিল।

তাহারা আমাকে বলিল, একটু লক্ষ্য করিয়া দেখ, তোমাদের সেই নবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন ছবি এখানে আছে কিনা? আমি দেখিতে পাইলাম একটি ছবি অবিকল তাঁহার মত। আরেকটি ছবি ছিল হযরত আবু বকরের মত। ঐ চিত্রে হযরত আবু বকর রাসুলুল্লাহ্‌র (সঃ) পা ধারণ করিয়াছিলেন।

তাহারা আমাকে বলিলঃ খুব ভালো করিয়া দেখ এই চিত্রটি হুবহু তাহার কিনা? আমি সম্মতিসূচক জবাব দেয়ার পরও তাহারা পুনরায় রাসুলে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিত্রের দিকে ইশারা করিয়া বলিলঃ এই চিত্রের কথা বলিতেছ? এইবার আমি আরো দৃঢ়তার সাথে বলিলাম- হ্যাঁ, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, ইহা তাঁহার ছবিই বটে।

অতঃপর তাহারা জিজ্ঞাসা করিল, যেই লোকটি তাঁহার পা ধারণ করিয়া আছে তাহাকেও চিন কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। এইবার তাহারা বলিলঃ আমরা সকলেই সাক্ষ্য দেই যে, ইনিই তোমাদের নবী। আর যেই লোকটি তাঁহার পা ধারণ করিয়া আছেন, তিনি ঐ নবীর পরে তাহাঁর খলীফা হইবেন।

ইমাম বোখারী তাহার ইতিহাস গ্রন্থে এই বর্ণনার পর আরো উল্লেখ করেন যে, যেই লোকটি ছবি দেখাইতেছিল সে আরো বলিল যে, যেই নবীই অতীত হইয়াছেন; তাহার পরে অবশ্যই অন্য নবী আগমন করিয়াছেন; কিন্তু এই নবীর পরে আর কোন নবী আগমন করিবেন না। (জওয়াবে ছহীহ্‌)

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়া ঐতিহাসিকগণ লিখেনঃ আল্লাহ্‌ পাক হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালামের নিকট একটি তাবুত (বাক্স) নাজিল করিয়াছিলেন। ঐ বাক্স বা সিন্দুকে পয়গম্বরগণের ছবি বিদ্যমান ছিল। ঐ সিন্দুকটি বৃক্ষের কাঠ দ্বারা নির্মিত ছিল। উহার আয়তন ছিল তিন গজ লম্বা ও দুইগজ প্রশস্ত।

হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালামের জীবদ্দশা পর্যন্ত সিন্দুকটি তাহার নিকটই রক্ষিত ছিল। অতঃপর বংশানুক্রমে তাহার সন্তানদের হাতে স্থানান্তরিত হইতে হইতে হযরত ইয়াকুব (আঃ) ও পরে হযরত মুছা আলাইহিস্‌সালামের হাতে আসে। এই মো'জেযাটি ছিল রাসুলে পাক ছাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয়, খ্যাতি এবং সর্বোপরী তাহার নবুওয়তের সত্যতার একটি নিশ্চিত প্রমাণ।"

বিশ্বনবী (সঃ)-এর ছবি মোবারকের অস্তিত্ব সম্বন্ধে আরো অন্যান্য কিতাবেও তথ্য পাওয়া যায়। আল্লামা আব্দুর রহমান জামী (রহঃ) প্রণীত ও মওলানা মুহিউদ্দীন খান অনুদিত- 'শাওয়াহেদুন-নবুওত' নামক কিতাবের ২০ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছেঃ

"হেশাম ইবনুল আস্‌ (রাঃ) বলেনঃ আমিরুল মু'মিনীন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) আমাকে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে প্রেরণ করলেন। উদ্দেশ্য, তাকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া। আমরা যখন গোতা পৌঁছলাম, তখন সম্রাটের একজন গবর্নর জাবালা গাসসানী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমরা হিরাক্লিয়াসের সাথে সাক্ষাতের কথা বললাম।

জওয়াবে সম্রাট আমাদের কাছে একজন দূত প্রেরণ করে বললেনঃ আপনারা যা বলতে চান, দূতের সাথে বলুন। আমরা বললামঃ আমরা দূতের সাথে কথা বলব না। অতঃপর দূত আমাদেরকে জাবালার সম্মুখে নিয়ে গেল। আমি তার সাথে কথা বললাম এবং তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম।

আমি দেখলাম, তিনি কালো পোশাক পরিধান করে রেখেছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ কালো পোশাক পরেছেন কেন? তিনি বললেনঃ আমি কসম খেয়েছি যে তোমাদেরকে সিরিয়া থেকে বের না করা পর্যন্ত এ পোশাক খুলব না।

আমি বললামঃ আল্লাহ্‌র কসম, যে ভূমিতে আমরা বসে আছি, তা আমরা দখল করে নিব; বরং আপনাদের দেশের একটি বিরাট অংশ আমাদের করতলগত হবে ইনশাআল্লাহ্‌। কেননা, আমাদের পয়গম্বরকে (সঃ) আল্লাহ্‌ তায়ালা এ বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন।"

গবর্নর বললেনঃ আপনারা সেই জাতি নন, যারা এ দেশ জয় করবে। বরং তারা এমন জাতি, যারা রোযা রাখে এবং সন্ধ্যা বেলায় ইফতার করে। এরপর জাবালা আমাদের রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমরা যখন রোযার কথা বললাম, তখন তার মুখ কালো হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেনঃ উঠুন। আমরা উঠলাম।

তিনি আমাদেরকে হিরাক্লিয়াসের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যে একজন দূতকে সঙ্গে দিলেন। আমরা শহরের নিকটবর্তী হলে দূত বললঃ আপনাদের বাহনের মত বাহন লোকেরা এই শহরে আনে না। আপনারা ইচ্ছা করলে অন্য বাহন যোগাড় করে দেই। আমরা বললামঃ না। আল্লাহ্‌র কসম, আমরা এই বাহন নিয়েই শহরে প্রবেশ করব।

আমাদের এই কথাবার্তা সম্রাটের কর্ণগোচর হলে তিনি আমাদেরকে আমাদের বাহনেই তরবারি কোষবদ্ধ অবস্থায় শহরে আসার অনুমতি দিলেন। আমরা সেখানে পৌঁছে বাহনগুলোকে বাতায়নের নিচে নামিয়ে দিলাম।

সম্রাট আমাদেরকে নিরীক্ষণ করিলেন। আমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" ধ্বনি দিলে প্রাসাদের বাতায়ন প্রবল বাতাসে দোদুল্যমান খেজুর গাছের ন্যায় দুলতে লাগল।

সম্রাট এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে পয়গাম দিলেন, আমার সামনে তোমাদের ধর্মবিশ্বাস এমন প্রচণ্ড শব্দে প্রকাশ করা উচিত নয়। এরপর তিনি আমাদেরকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম সম্রাট লাল পোশাক পরিহিত হয়ে ফরাশে উপবিষ্ট আছেন। সেখানকার প্রতিটি বাতায়নের পর্দা ছিল লাল রঙের।

সম্রাটের কাছে আমীর-ওমরাহদের একটি দলও ছিল। আমরা কাছে পৌছতেই সম্রাট হেসে বলললেনঃ তোমাদের কি ক্ষতি হতো যদি নিয়মানুযায়ী তোমরা আমাকে দোয়া ও সালাম বলতে? আমরা বললামঃ "আস্‌সালামু আলাইকুম।" সম্রাট বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাদশাহকে সালাম ও দোয়া বল? আমরা বললামঃ একইভাবে।

বাদশাহ্‌র জন্য কোন আলাদা নিয়ম নেই। সম্রাট বললেনঃ বাদশাহ্‌ কিভাবে সালামের জওয়াব দেন? আমরা বললামঃ একই কথা দিয়ে। সম্রাট আবার বললেনঃ তোমাদের সর্ববৃহৎ কালাম কোনটি? আমরা বললামঃ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্‌।" একথা বলতেই সেই বাতায়ন (জানালা) দুলে উঠল। সম্রাট মাথা তুললে তাও দুলতে লাগল।

সম্রাট প্রশ্ন করলেনঃ যখন তোমরা এই কালেমাটি আপনগৃহে পাঠ কর, তখন তোমাদের গৃহের বাতায়নও (জানালাও) কি এমনিভাবে দুলতে থাকে? আমরা বললামঃ আল্লাহ্‌র কসম, এ জায়গা ছাড়া আমরা কখনও এরূপ দেখিনি। সম্রাট বললেনঃ তোমরা যে স্থানে এ কালেমা পড়তে, সে স্থানই যদি দুলতে থাকত, তবে এটা আমার অপছন্দনীয় ব্যাপার হতো।

আমি আরো পছন্দ করতাম যদি আমার দেশের কিছু অংশ বেহাত হয়ে যেত। আমরা কারণ জিজ্ঞাসা করলে সম্রাট বললেনঃ এরূপ হলে এটা নবুয়তের দাবি অনুযায়ী হতো না; বরং নিছক কোন ব্যক্তির কৌশল, ধোঁকা ও প্রতারণা হতো।

এরপর সম্রাট আরও বিভিন্ন প্রশ্ন করলেন এবং আমরা জওয়াব দিলাম। পরে তিনি আমাদেরকে নামাজ ও রোযা সম্পর্কেঅ প্রশ্ন করলেন। আমরা উত্তর দিলাম। অতঃপর বললেনঃ উঠ। তোমাদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট গৃহ সজ্জিত করা হয়েছে। সেখানে অথিতি আপ্যায়নের সকল উপকরণসহ সরবরাহ করা হয়েছে।

আমরা সেই গৃহে তিন দিন অবস্থান করলাম। সম্রাট প্রতি রাত্রে আমাদেরকে ডেকে পাঠাতেন এবং যেসব বিষয়ে পূর্বে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন, সেগুলো সম্পর্কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করতেন। আমরা জওয়াবের পুনরাবৃত্তি করতাম। এরপর সম্রাটের আদেশে একটি চতুষ্কোণ বিশিষ্ট সিন্দুক আনা হল, যা মণি-মুক্তায় পরিপূর্ণ ছিল।

এতে ছোট ছোট অনেক ছক ছিল এবং প্রত্যেক ছকের একটি দরজা এবং প্রত্যেক দরজায় একটি করে তালা ছিল। সম্রাট একটি তালা খুলে তা থেকে একটি রেশমী বস্রখণ্ড বের করলেন। বস্রখণ্ডটি খোলার পর তাতে একটি ছবি দেখা গেল, যার রঙ রক্তিম, চক্ষুদ্বয় প্রশস্ত এবং গ্রীবা লম্বা ছিল। এমন লম্বা, যা আমরা কখনও দেখিনি। কিন্তু ছবিটি শ্মশ্রুবিহীন ছিল। এর কেশদাম এমন সুন্দর ছিল যেন প্রকৃতি স্বহস্তে তৈরি করেছে। সম্রাট বললেনঃ একে চিন?

আমরা "না" বললে তিনি বললেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম (আঃ)। এরপর সম্রাট দ্বিতীয় তালাটি খুলে তা থেকে একটি রেশমী বস্রখণ্ড বের করলেন। এ বস্রখণ্ডে একটি শুভ্র অবয়ব রক্তিম নেত্র এবং বৃহৎ মস্তক বিশিষ্ট ব্যক্তির ছবি ছিল। এ ব্যক্তি আপন গুণাবলীতে দ্বিতীয় মনে হচ্ছিল। সম্রাট বললেনঃ এঁকে চিন? আমরা "না" বললে তিনি বললেনঃ ইনি হচ্ছেন হযরত নূহ (আঃ)।

এরপর তৃতীয় তালা খুলে আরও একটি রেশমী কাপড় বের করলেন। এতে যে ছবিটি আঁকা ছিল, তাঁর গোত্রবর্ণ অত্যন্ত সাদা, সুডৌল দেহ, উজ্জ্বল ললাট, কারুকার্যময় কপোল ও শুভ্র দাঁড়ি, যেন তিনি জীবিত হাস্যরত। সম্রাট বললেনঃ এঁকে চিন? আমরা বললামঃ না। তিনি বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্রাহীম (আঃ)।

এরপর আরও একটি তালা খুলে আরেকখণ্ড রেশমী বস্র বের করলেন। এতে একটি সাদা রঙের ছবি ছিল। আমরা দেখেই চিনে ফেললাম যে ইনি আমাদের প্রিয়তম নবী হযরত মোহাম্মদ (আঃ)। আমাদের কান্না এসে গেল এবং আমরা সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর বসে পড়লাম। সম্রাট বল্লেনঃ পরওয়ারদেগারের কসম, সত্য বল ইনিই তোমাদের পয়গম্বর? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইনিই আমাদের পয়গম্বর।

সম্রাট কিছুক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। অতঃপর বললেনঃ এটা সিন্দুকের সর্বশেষ ছক। কিন্তু তোমরা কি বল, তা দেখার জন্যে আমি তড়িঘড়ি করে দেখিয়েছি। এরপর তিনি আরও একটি তালা খুললেন, যার মধ্যে পূর্ববৎ কোন একজন পয়গম্বরের ছবি ছিল। শরীরে অনেক কালো কেশ ছিল এবং মুখমণ্ডল সুশ্রী ছিল। সম্রাট বললেনঃ এঁকে চিন? আমরা বললামঃ না। তিনি বল্লেনঃ ইনি হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ)।

এরপর আমরা সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে জিজ্ঞসা করলামঃ পয়গম্বরগণের দেহাবয়বের সাথে সামঞ্জস্যশীল এসব ছবি আপনি কোথায় পেলেন? তিনি বললেনঃ হযরত আদম আল্লাহ্‌র দরবারে আবেদন করেন যে, তাঁর বংশধরদের যারা নবী হবেন, তাঁদের আকার আকৃতি তাকে দেখানো হোক।

সেমতে প্রতিপালক তাঁদের ছবি তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন। এগুলো আদম (আঃ)-এর পরিত্যক্ত মূল্যবান বস্তু-সামগ্রীর মধ্যে পশ্চিম গোলার্ধের নিকটে ছিল। যূলকারনাইন বাদশাহ্‌ এগুলো সেখান থেকে নিয়ে আসেন এবং দানিয়ালের হাতে সমর্পণ করেন। দানিয়াল পরে এগুলো কাল বস্রে আঁকিয়ে নেন। এখন যে ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছ এগুলো হুবুহু দানিয়ালের আঁকা ছবি।

এরপর সম্রাট বললেনঃ আমার বাসনা এই যে, এদেশ ত্যাগ করি এবং তোমাদের একজন গোলাম হয়ে থাকি। যখন মৃত্যুবরণ করি, তখন যেন আমার সাথে সদ্ব্যবহার করা হয় এবং আমাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

দেশে প্রত্যাবর্তন করে আমরা আমিরুল মুমিনীন আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলাম এবং আদ্যোপান্ত সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি শুনে কেঁদে ফেললেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্‌ তায়ালা তার জন্যে কোন কল্যাণকর কিছুর ইচ্ছা করছেন, যা সে চায়, তা তিনি করে দিবেন।

এরপর তিনি বললেনঃ আমাদের রাসুলে পাক (সঃ) খবর দিয়েছিলেন যে, তাওরাত ও ইঞ্জিলে ইহুদী ও খ্রিস্টানরা তাঁর প্রশংসা ও নাত দেখতে পায়; যেমন আল্লাহ্‌ তা'আলা এরশাদ করেছেন-"তারা তাকে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত দেখতে পায়।"

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক বাংলা ভাষায় অনূদিত তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডে ৪৬০ পৃষ্ঠায় তিরমিজি শরীফের ২২৪পৃষ্ঠায় বর্ণিত এক হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) ফরমান, রাসুলুল্লাহ্‌ (সঃ)-এর বিবাহে আসার পূর্বে ফেরেস্তা জিব্রাইল একটি রেশমী কাপড়ে আমার ছবি নিয়ে রাসুলুল্লাহ্‌ (সঃ)-এর কাছে আগমন করেন এবং বলেন, এ আপনার স্ত্রী। কোন রেওয়াতের আছে, জিব্রাইল তার হাতের তালুতে ছবি নিয়ে এসেছিলেন।"

উপরোক্ত বক্তব্যগুলো থেকে সুস্পষ্ট যে, হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর ছবি মোবারক খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ পর্যন্ত যে ছিল, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু পরবর্তীতে তা গেল কোথায়? এ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে কি রহস্য লুকায়িত রয়েছে তা গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন।