পিস্তল হাতে ইশরাকের অভিযান নিয়ে ফেসবুকে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
সমালোচনাকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরে নেওয়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
গতকাল মাদকের বিরুদ্ধে পিস্তল হাতে নিজের সংসদীয় এলাকায় অভিযান চালান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বিজ্ঞাপন
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ইশরাক হোসেন একজন তরুণ উদীয়মান নেতৃত্ব। রাজপথে সংগ্রাম করে সারা দেশের নেতাকর্মীদের মন জয় করার মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর আসনে বসেছেন। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন। রাশেদ খাঁন তাঁকে সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখেছেন।
তাঁর ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের জোরালো অবস্থান অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে মাদকসেবীদের আক্রমণের আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করছেন। তিনি আশা করেন, ইশরাক ভাই এই সমালোচনাকেও সাধুবাদ জানাবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে শুধরে নেবেন, ইনশাআল্লাহ।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, বাস্তবতা হলো মাদকসেবীরা জনপ্রতিনিধি, পুলিশ বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চেনে না এবং অনেক সময় মাদকের ঘোরে যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। মাসখানেক আগে গাজীপুরে মাদক কারবারিরা পাথর ছুঁড়ে পুলিশকে আক্রমণ করে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যায়, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
রাশেদ খাঁন মনে করেন, আরও সচেতন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ইশরাক হোসেনের আসনে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ নিলে তা অবশ্যই জনগণের কাছে প্রশংসনীয় হবে।
বিজ্ঞাপন
সমালোচনার বিষয়টি নিয়ে ইশরাক হোসেন স্পষ্ট করেছেন, তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে মাদকসেবীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন বলেও লেখেন রাশেদ খাঁন।
তিনি আরও লেখেন, মাদক দেশে ভয়াবহ আকার নিয়েছে এবং ১৬ বছর ধরে পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যে ঘাঁপটি মেরে থাকা ভূতদের অভিযান পরিচালনায় দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণের কাছে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধের বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইশরাক ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থেকে জনদাবি আদায়ে কাজ করবেন বলে তাঁর ধারণা।