সেনাসদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী
সাভার সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ পার্সেন্ট পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও জানান তিনি
নিজস্ব প্রতিবেদক · সাভার, ঢাকা
প্রকাশ:
সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও ভালো করতে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ চালুর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬-এ বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নিজের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন সেনা পরিবারের সদস্য এবং সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তাই আজ ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হলেও এমন পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়। পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিতে ৭ এবং ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি।
ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’ তাঁর ভাষ্য, জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এই পতাকা এবার ইউনিটগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হলো। পতাকা অর্জনের অর্থ দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ, আর ‘পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’।
সরকার সেনাসদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ পার্সেন্ট থেকে ১৩৮ পার্সেন্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নিরাপত্তা পরিবেশ এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশলও। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই তৈরির লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। তাঁর ভাষ্য, এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দরকার, যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কেবল দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না। দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও তারা ভূমিকা রাখে। বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে বাহিনীটি।