সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ জায়গা ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী, আজিমপুরে অপরিচ্ছন্নতায় অসন্তোষ
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
রাজধানীর হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকাসহ মোট ১৩টি স্পট সাড়ে চার ঘণ্টায় আকস্মিকভাবে ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরের হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলে এই পরিদর্শন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গার পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিজে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
শুরুতেই তিনি যান উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে। এরপর যান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
পরিদর্শনের তালিকায় ছিল মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজও।
তারপর প্রধানমন্ত্রী যান আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।
বিজ্ঞাপন
এরপর তিনি নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে আহ্বান জানান।
এ ছাড়া তিনি ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারও ঘুরে দেখেন।
বিভিন্ন জায়গার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি চোখে পড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি দুই সপ্তাহ সময় দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নতিতে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধূমপান করতে দেখেন। ওই চিকিৎসকের কক্ষও তখন অপরিচ্ছন্ন ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শনের সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
এই আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।