শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়াতে লাউড শার্ট ডে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় কোরা বার্কলে সেন্টারের কর্মীদের ভাবনা থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগ ছড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডেও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই লাউড শার্ট ডে-র মূল উদ্দেশ্য। এই দিনে মানুষ উজ্জ্বল রং, বাহারি নকশা ও নজরকাড়া পোশাক পরে আনন্দের মধ্য দিয়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। পোশাকের বৈচিত্র্যে ফুটে ওঠে একটি ভাবনা: প্রত্যেকের স্বাতন্ত্র্যকে উদ্যাপন করা এবং ভিন্নতাকে সম্মান জানানো।
বিজ্ঞাপন
এ উপলক্ষে স্কুল, অফিসসহ নানা সামাজিক পরিসর রঙিন পোশাকে সেজে ওঠে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ আনন্দের সঙ্গে এই উদ্যোগে যোগ দেন। তাঁদের অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দেয়, আনন্দময় কোনো উদ্যোগের মাধ্যমেও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তবে রঙিন পোশাকের আড়ালে আরও গভীর একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। লাউড শার্ট ডে-র মাধ্যমে শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মানুষকে উৎসাহিত করা হয়। উপযুক্ত শ্রবণযন্ত্র, স্পিচ থেরাপি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের সহায়তা শিশুদের কথা শুনতে শেখা, কথা বলা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলায় বড় সহায়তা করে। এসব পরিষেবা অনেক শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে, পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও নতুন আশার আলো দেখায়।
লাউড শার্ট ডে-র সূচনা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়। বর্তমানে ‘ক্যান:ডু ৪কিডস’ নামে পরিচিত কোরা বার্কলে সেন্টারে এক দিন কফির আড্ডায় এই আয়োজনের ভাবনা উঠে আসে। সেখানকার কর্মীরা তখন শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করছিলেন। তাঁরা এমন একটি উদ্যোগের কথা ভাবছিলেন, যাতে আনন্দের পাশাপাশি সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
সেখান থেকেই রঙিন ও নজরকাড়া শার্ট পরে সচেতনতা তৈরির ধারণা আসে। বাহারি পোশাকের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিশুদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা তুলে ধরাই ছিল এই ভাবনার মূল লক্ষ্য। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস ছিল, মজার কোনো উদ্যোগও মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে তা অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং নিউজিল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের ‘হিয়ার অ্যান্ড সে’, নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘দ্য শেফার্ড সেন্টার’ এবং নিউজিল্যান্ডের ‘সাদার্ন ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর মতো সংস্থাও এতে অংশ নেয়।
লাউড শার্ট ডে পালনে দরকার শুধু রঙিন পোশাক, সৃজনশীল ভাবনা আর একটি ভালো উদ্যোগে শামিল হওয়ার ইচ্ছা। বাড়ি, অফিস বা স্কুল, যেকোনো জায়গা থেকেই দিনটি উদ্যাপন করা যায়।
আলমারি থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বাহারি শার্টটি বের করে নিন। বড় নকশার, বিচিত্র রঙের কিংবা মজাদার প্রিন্টের কোনো পোশাকও বেছে নেওয়া যেতে পারে। এই দিনে সাজপোশাকে বাঁধাধরা নিয়মের প্রয়োজন নেই। পোশাক যত রঙিন ও ব্যতিক্রমী হবে, উদ্যাপন ততই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। নিজের সাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে অন্যদেরও এই উদ্যোগে অংশ নিতে উৎসাহিত করা যায়।
অফিস বা স্কুলে রঙিন পোশাকের বিশেষ দিন আয়োজন করা যেতে পারে। সহকর্মী, সহপাঠী ও বন্ধুদের সবচেয়ে বাহারি পোশাক পরে আসার আমন্ত্রণ জানানো যায়। সবচেয়ে বিচিত্র বা নজরকাড়া পোশাকের জন্য ছোট পুরস্কারেরও ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। ছবি তোলার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করলে সবাই মিলে ছবি তুলে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরা যায়। শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করে, এমন সংস্থার তথ্য ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। দিনটি কেন জরুরি, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বা অনুভূতির কথাও লেখা যায়।
শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করে, এমন কোনো বিশ্বস্ত সংস্থায় আর্থিক অনুদানও দেওয়া যায়। অনুদানের পরিমাণ বড় না ছোট, সেটা বিবেচ্য নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী দেওয়া প্রতিটি সাহায্য শিশুদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে।
বাড়িতে, স্কুলে বা কোনো কমিউনিটি সেন্টারে শিশুদের নিয়ে ছোট্ট ছবি আঁকার অনুষ্ঠান করা যায়। নিজের পছন্দমতো রং ও নকশায় তাদের স্বপ্নের ‘লাউড শার্ট’ আঁকতে বলুন। কেউ আঁকতে পারে উজ্জ্বল ফুল, কেউ বেছে নিতে পারে মজার নকশা কিংবা নানা রঙের জ্যামিতিক আকৃতি।
প্রতি বছর এই আয়োজনের পরিধি বাড়ছে। স্কুল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ক্রমশ বেশি সংখ্যায় এতে যোগ দিচ্ছে। প্রতিটি রঙিন শার্টের সঙ্গে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে, আর শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।