কোলাজেন বাড়ানোর ইনজেকশন: সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি
৫০ বছর বয়সে স্কাল্পট্রা চিকিৎসা নিয়ে আলোচনায় ফ্যাশন ডিজাইনার সীমা সাজদেহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
বয়স বাড়লে ত্বকে বলিরেখা ও শিথিলতা পড়া এবং মুখের স্বাভাবিক ভলিউম কমে আসা স্বাভাবিক পরিবর্তন। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এখন অনেকে কোলাজেন উদ্দীপক ইনজেকশনের দিকে ঝুঁকছেন। সম্প্রতি ৫০ বছর বয়সে এমন একটি চিকিৎসা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সীমা সাজদেহ। তিনি ‘স্কাল্পট্রা’ নামের যে চিকিৎসাপদ্ধতি বেছে নিয়েছেন, তা ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগাতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞাপন
তবে এ চিকিৎসা নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।
স্কাল্পট্রা পলি-এল-ল্যাকটিক অ্যাসিড (পিএলএলএ) দিয়ে তৈরি এক ধরনের ইনজেকশনযোগ্য ডার্মাল ফিলার। ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা এই ইনজেকশন শরীরের নিজস্ব কোলাজেন তৈরিকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। কোলাজেন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের গঠন, দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের উৎপাদন কমে যায়, ফলে ত্বকে বলিরেখা ও শিথিলতা দেখা দেয়।
সম্ভাব্য উপকারের কথা বললে, প্রথমত এটি ত্বকের দৃঢ়তা ও গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে। কোলাজেন উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগানোর মাধ্যমে ত্বকের গঠন ভালো হতে পারে। বয়সের কারণে মুখের কিছু অংশে হারানো ভলিউম ফিরিয়ে আনতেও এই চিকিৎসা কাজে লাগতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বলিরেখা কম দৃশ্যমান হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু গভীর বলিরেখা ও মুখের ত্বকের অসমতল ভাব কমাতে স্কাল্পট্রা ব্যবহার করা হয়। তবে ফলাফল ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তৃতীয়ত, ফল পেতে সময় লাগে। অন্য কিছু ফিলারের মতো ইনজেকশনের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ফল মেলে না। কোলাজেন তৈরি হতে সময় লাগে বলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন বোঝা যেতে পারে। কাঙ্ক্ষিত ফলের জন্য একাধিক সেশনও লাগে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ইনজেকশনের জায়গায় ফোলা, ব্যথা ও কালশিটে। সেখানে সাময়িক ফোলা, লালচে ভাব, ব্যথা বা কালশিটে পড়তে পারে। কারও কারও চুলকানিও হয়।
এই চিকিৎসার একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হলো ত্বকের নিচে ছোট পিণ্ড বা গুটি তৈরি হওয়া। কখনো এগুলো ইনজেকশন নেওয়ার কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পরেও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা দীর্ঘদিন থেকে যায় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
বিরল ক্ষেত্রে ভুল করে রক্তনালিতে ইনজেকশন ঢুকে গেলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে ত্বকের ক্ষতি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, এমনকি গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে। ইনজেকশনের পর হঠাৎ দৃষ্টিতে পরিবর্তন, অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা বা ত্বক সাদা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এই চিকিৎসা সবার জন্য উপযুক্ত নয়। উপাদানগুলোর প্রতি গুরুতর অ্যালার্জি থাকলে, কেলয়েড বা অতিরিক্ত উঁচু দাগ তৈরির প্রবণতা থাকলে কিংবা ত্বকে সংক্রমণ বা সক্রিয় প্রদাহ থাকলে বিশেষ সতর্কতা দরকার। রক্তপাতের সমস্যা থাকলে, রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ নিলে তা চিকিৎসককে জানাতে হবে। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় এই চিকিৎসার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়।
ইনজেকশন নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য ও অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজের শারীরিক অবস্থা, অ্যালার্জি, চলমান ওষুধ এবং প্রত্যাশিত ফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি, প্রয়োজনীয় সেশনের সংখ্যা, পরবর্তী যত্ন ও খরচের বিষয়টিও আগেই জেনে নেওয়া উচিত।
সীমা সাজদেহের মতো তারকারা নিজেদের সৌন্দর্যচর্চার অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনায় এ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে কোলাজেন উদ্দীপক ইনজেকশন বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন পুরোপুরি থামিয়ে দেয় না এবং সবার ক্ষেত্রে একই ফলও নিশ্চিত নয়। তাই শুধু তারুণ্য ধরে রাখার ইচ্ছায় নয়, নিজের স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।