রাবিতে রাতে ক্যাম্পাস পরিষ্কারে নতুন দপ্তর গঠন হচ্ছে
সিন্ডিকেটের ৫৫০তম সভার সিদ্ধান্ত, দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে ১৭টি হল ও ৫৯টি বিভাগ পরিষ্কার করা হবে
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি · রাজশাহী
প্রকাশ:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার কাজ জোরদার করতে ‘পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ নামে আলাদা একটি দপ্তর চালু করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই দপ্তরের অধীনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শ্রমিক নেওয়া হবে। তাঁদের কাজ হবে রাতের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা, যাতে সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পান।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৫০তম সভায় নতুন দপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতার কাজ আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতেই আলাদা দপ্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজও স্টুয়ার্ড সেকশনের মাধ্যমে চলে। বড় পরিসরের ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতার কাজ আরও দক্ষভাবে সামলাতেই নতুন দপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
সূত্র জানায়, নতুন দপ্তরের অর্গানোগ্রাম তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হবে। বাজেট ও জনবল কাঠামোর অনুমোদন মিললে দপ্তরের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। তবে বাজেট পাওয়ার আগেই দপ্তর গঠন করে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন দপ্তর ১৭টি আবাসিক হল, আবাসিক কোয়ার্টার, ৫৯টি বিভাগসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকবে। রাতের মধ্যেই ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিষ্কারের কাজ শেষ করা হবে, যাতে প্রতিদিন সকালে ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এত বড় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতার কাজ একটি সেকশন দিয়ে সামলানো সম্ভব নয়। তাই স্বতন্ত্র পরিচ্ছন্নতা দপ্তর গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পরিচ্ছন্নতার কাজ সুষ্ঠুভাবে চালাতে আলাদা দপ্তর, নির্দিষ্ট কাজের পরিধি এবং পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি।
উপাচার্য জানান, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শ্রমিক রাখা হবে। তাঁদের মূল কাজ হবে রাতের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা, যাতে সকালে সবাই একটি পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস উপভোগ করতে পারেন।
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম অনুসরণ করে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সিটি করপোরেশন রাতের শেষভাগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা পরিষ্কার করে। একই ধরনের ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়েও রাতে পরিচ্ছন্নতার কাজ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দপ্তরটি কবে চালু হবে, জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর অর্গানোগ্রাম ইউজিসিতে পাঠানো হচ্ছে। বাজেট পাওয়ার আগেই দপ্তর গঠন করে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।