চুয়েট উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, থমথমে ক্যাম্পাস
শাটডাউনের ২৩তম দিনেও বন্ধ ছিল চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, ভিসি ভবনে আবার তালা
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি · চট্টগ্রাম
প্রকাশ:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় ‘আর ফিরবেন না’ শর্ত দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন উপাচার্য ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ফেসবুকে দাবি করেছেন, অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরবেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাস এখন অনেকটাই থমথমে।
বিজ্ঞাপন
‘আর ফিরবেন না’ ধরনের শর্ত এবং পদত্যাগের খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে শর্তটি জানানো হয়েছিল। ছাত্রদলের সভাপতিও উপাচার্যের নামে প্রকাশিত এমন খবরকে মনগড়া বলে দাবি করেছেন। এ পরিস্থিতিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) শাটডাউনের ২৩তম দিনেও চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার অসুস্থতার কারণে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় তিনি কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। পদত্যাগ করা বা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি। সুস্থ হয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের প্রত্যয়ও তিনি ব্যক্ত করেন।
জবাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার আগে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তিনি আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এই শর্তেই তাকে যেতে দেওয়া হবে। তাদের দাবি, পরে গণমাধ্যমের সামনেও তিনবার বিষয়টি জানানো হয় এবং তখন উপাচার্য বা তার সঙ্গে থাকা অন্যরা আপত্তি করেননি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত মুচলেকার কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি। মতবিরোধ মেটাতে ঘটনাস্থলের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, অসুস্থ থাকায় উপাচার্য কোনো বক্তব্য দেননি এবং তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য বা মুচলেকাও দেওয়া হয়নি। এমন কোনো নথি থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। ওয়াসিফের দাবি, প্রজ্ঞাপন বদল না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্য দায়িত্বে আছেন এবং সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরবেন।
বিজ্ঞাপন
চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার জানান, উচ্চ রক্তচাপ ও বুকে অস্বস্তি নিয়ে উপাচার্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বুধবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীরা শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর ভিসি কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয় এবং তার পরদিন থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও সেমিস্টার পরীক্ষা স্থবির হয়ে পড়েছে।