patrika71 Logo
ঢাকারবিবার , ২৫ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ২৫, ২০২১ ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ad

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগকে থামিয়ে দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-লোয়াব। সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দরে অটোগ্যাস বিক্রি করায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জরিমানা করতে শুরু করেছে। আর এ ধরনের অভিযান ঠেকাতে বিইআরসির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে লোয়াব। তবে কমিশন পাল্টা এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের অভিযান তারা বন্ধ করবেন না। উল্টো তাদের ঘোষিত দরে এলপিজি বিক্রি না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চলতিবছর এপ্রিলে প্রথমবার দেশে সরকারিভাবে এলপিজির দর নির্ধারণের ঘোষণা আসে বিইআরসির পক্ষ থেকে। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট উচ্চ আদালতের দেওয়া এক আদেশ বাস্তবায়ন করতে বিইআরসি এই ঘোষণা দেয়। এপ্রিলের পর জুন পর্যন্ত আরও তিনবার এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী সৌদি সিপি অনুসারে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই দাম নির্ধারণের বিষয়টি মেনে নেয়নি বেসরকারি এলপিজি বিক্রেতারা। বাজারে দাম কমানোতো দূরের কথা কোনও ক্রমেই দাম কমানো হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

ফলে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এ ধরনের ‘ভালো উদ্যোগটি’ প্রশ্নের মুখে পড়ে। তীব্র সমালোচনার মধ্যেই জ্বালানি বিভাগ সরকারের তরফ থেকে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১২ জুলাই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক অভিযানে এ এইচ সি এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। ওই জরিমানার কাগজে দেখা যায়, অভিযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে ০০৪৪৯২২, আর অভিযোগকারীর নাম লেখা রয়েছে ‘রাষ্ট্র’। এ এইচ সি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানাই বাড়তি দরে এলপিজি বিক্রি রুখতে প্রথম কোনও অভিযান, যা গণমাধ্যমের খবরে এসেছে।

একই দিন ই-মেইলের মাধ্যমে বিইআরসিকে একটি চিঠি পাঠায় লোয়াব। চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ এপ্রিল ঘোষিত মূল্য সংশোধনের জন্য এলপি গ্যাস অপারেটরদের ১৮টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তাই বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১২ এপ্রিলের মূল্যকে ভিত্তি ধরে অনুষ্ঠিতব্য যে কোনও মাসিক সভায় অংশগ্রহণ করা থেকেও লোয়াব বিরত রয়েছে।

চিঠিতে লোয়াব বলে, ‘আমরা ১২ এপ্রিলের এমআরপি (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) বিষয়ে পেশকৃত আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং বিষয়টির সন্তোষজনক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকারের অভিযান বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেবেন আশা করি। এ বিষয়ে লোয়াবের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিইআরসির চেয়ারম্যানের আলোচনা অনুযায়ী ধারণা করা হয়েছিল যে, ডিসপিউটেড এমআরপির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার অধিদফতর কোনও প্রকার অভিযান পরিচালনা করবে না। কিন্তু এখনও অভিযান চলছে। আজকের অভিযানে যে জরিমানা করা হয়েছে তার একটি রশিদ সংযুক্ত করা হলো।

লোয়াব বলছে, লকডাউনের কারণে বিইআরসি শুনানির তারিখ বাতিল করেছে এবং কখন শুনানি হবে তা অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে। সেজন্য অন্তর্বর্তী সময়ে কোনও অভিযান না চালানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছে লোয়াব।

এই চিঠির জবাবে বিইআরসির সচিব রুবিনা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২০ আগস্টে উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে গণশুনানি করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবার ১২ এপ্রিল, পরে ২৯ এপ্রিল, ৩১ মে এবং ৩০ জুন আরও তিন দফা দর সমন্বয় করা হয়েছে। এখন বিইআরসির কাছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন রয়েছে। যে আবেদনগুলোর শুনানির জন্য ৭-৮ জুলাই গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিমারি পরিস্থিতির কারণে গনশুনানির করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে শুনানি হলে সেখানে সকলের মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এখন যে দাম ঘোষণা করা হয়েছে ওই দামে এলপিজি বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, রান্নার এলপিজি ছাড়াও পরিবহনের জন্য অটোগ্যাসের দামও নির্ধারণ করে দেয় কমিশন। কিন্তু আগে থেকেই বেশি দামে বিক্রি হওয়া এসব পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম কমায়নি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সঙ্গত, কারণে এখন মাঠে নেমেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান।

তথ্য : বাংলা ট্রিবিউন

ad