patrika71 Logo
ঢাকাশনিবার , ৩০ অক্টোবর ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবন যুদ্ধে হার না মানা কুবি শিক্ষার্থী সাইদুরের অদম্য গল্প

পত্রিকা একাত্তর ডেস্ক
অক্টোবর ৩০, ২০২১ ৩:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

অল্পতেই যারা হাল ছেড়ে দেয়, বিরক্ত হয় নিজের উপর, বিরক্ত হয় আশেপাশের জগতটার উপর, তাদের জন্য এই গল্প। শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা এমন অজুহাতে যারা আফসােস করে, গল্পটা তাদের জন্য। “প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মেছি, কী আর করব”- এমন কথা যারা বলে, গল্পটি তাদের জন্য।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের লােক প্রশাসন বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান। জন্মের সাত মাসের মাথায় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে হাত এবং পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন। সাইদুর বড় হতে হতে বুঝতে শিখে তার পৃথিবীটা থমকে আছে চার দেয়ালের মাঝে। কিন্তু মন থেকে এ পরাজয় মেনে নেয়ার পক্ষপাতি ছিলেন না তিনি। চলাচলের জন্য হুইলচেয়ারকে সঙ্গী করে নিজের সপ্নকে বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেন। নিজ উপজেলা দেবীদ্বারের রিয়াজ উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল ও সুজাত আলী কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এস এস সি এবং এইচএসসি সমাপ্ত করেন। এরপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লােক প্রশাসন বিভাগে তার পথচলা শুরু ।

সপ্ন মানুষকে বাঁচতে শিখায়, সপ্ন মানুষকে শত প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলতে শিখায়। হাত পায়ের শক্তি হারানাে সাইদুর রহমানকে স্বাভাবিক ভাবে হাটা ছিলাে অসম্ভবের মতাে এবং পরীক্ষার খাতায় লিখার জন্যও নির্ভর করতে হতাে অন্যজনের উপর। হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে যাওয়ার জন্য নির্ভর করতে হতাে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ সম্পূর্ন করতেও সাহায্য নিতে হতাে অন্যদের। তবুও তিনি থেমে থাকেননি শত কষ্টেও সমাপ্তি করেছেন স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি। শিক্ষা জীবনে বরাবরের মতাে লিখার ক্ষেত্রে অন্যের সাহায্য নিলেও তাঁর ফলাফল ছিলাে অন্য আট-দশন শিক্ষার্থীর মতোই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লােকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতকে ৩.১৪ পেয়ে বজায় রেখেছেন ভালাে ফলাফলের ধারা। এছাড়া গত সােমবার স্নাতকোত্তরের ভাইবা দিয়ে অপেক্ষায় আছেন ফলাফলের।

আরো পড়ুনঃ  রাণীশংকৈলে লেয়ার মুরগি পালনে মামুনের সফলতার গল্প!

জীবনের সাত মাস বয়স থেকে যে যুদ্ধ কিংবা পথচলা শুরু । সে ব্যাপারে সাইদুর রহমান বলেন, জীবনের যুদ্ধটা মােটেও সহজ ছিলাে না। জীবনের প্রত্যেকটা পরতে পরতে বাঁধা প্রাপ্ত হতে হয়েছে অনেক সুস্থবান মানুষের দ্বারা।
তবুও থেমে থাকিনি। ইচ্ছে ছিলাে কিছু একটা করবােই। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই পথচলা শুরু হয়েছিলাে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে এসে স্যার ম্যামদের, বন্ধুবান্ধব, ছােট-বড় ভাইদের সহায়তায় আমার এই পথ চলায় পাথেয় ছিলাে। সাইদুর রহমান স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেই থেমে থাকতে চান না। তিনি তার স্বপ্নের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরােহন করতে চান। তিনি তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন, ভবিষ্যতে চেষ্টা থাকবে ভালাে একটা সরকারি জব করার। কেননা আমার পরিবারের সেই অসাধারণ সমর্থনটাকে বৃথা দিতে চাই না। সবার কাছে দোয়া ও সহযােগিতা চাই।’ তিনি আরাে বলেন, হতাশাকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করে যা আছে তা নিয়েই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে পিছুপা হলে সমস্যা। সমাজের মানুষের নানা অসমর্থনকে শক্তি হিসেবে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ  স্বপ্নের পথে হাঁটছিঃ নাহিদ

দেশের সরকার ও প্রত্যেকটা পরিবারের প্রতি সাইদুর রহমান অনুরােধে বলেন, আমার মতাে বাঁধা বিপত্তিতে থাকা লােকের জন্য যৌক্তিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের বেশ কিছু ত্রুটি সবসময় থেকে যায়। এসব থেকে বেরিয়ে এসে আমাদেরকে সমাজের বােঝা না ভেবে আমাদের ভেতরের । সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। পরিবারের সবরকম সমর্থন এরকম বাঁধা বিপত্তিতে থাকা লােকের প্রয়ােজন অনেক বেশি। আমার পরিবার আমায় সাধারণ মানুষের মতাে সব ধরনের সুবিধা দিয়েছে এমন সুবিধা প্রত্যেক পরিবারের প্রদান করা উচিত।

কুবি প্রতিনিধি: ইমরান হোসাইন।