patrika71 Logo
ঢাকাসোমবার , ২৩ আগস্ট ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাহেলিয়াত যুগের মানুষকেও হার মানায় যেসব এলাকার মানুষ!

পত্রিকা একাত্তর ডেস্ক
আগস্ট ২৩, ২০২১ ২:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

নেত্রকোনা জেলা সদরের ১০ নং রৌহা ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ডের হাসিমপুর গ্রামের হাসিম মিয়া নামের এক যুবকের করুণ মৃত্যুর কথা আজ শেয়ার করবো। যুবক ছেলেটির বয়স হয়েছিল ৩৮-৪০ আনুমানিক। মানুষের ঘরবাড়ি মেরামত ছিল যার পেশা। সে খুব আমোদী লোক ছিল। সবাইকে নিয়েই হাসি, খুশি এমনকি নানা দুষ্টুমিতে ব্যস্ত থাকতো। একদিন এক সাদাসিধা পুরুষ মানুষ খাঁ কে জড়িয়ে ধরে নানা, নাতি ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি ফেইসবুকে দেয়। তখন তাদের পাশের বাড়ির রায়হান নামক এক ছেলের ফেইসবুক আইডিতে ছবিটি যায়।

রায়হান নামক ছেলের আইডিতে যাওয়া মাত্রই সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মানুষটি বেক্কল বলে তাকে ন্যাংটা করে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিসে হাসিম মিয়া নামক যুবকটি। গ্রামের কিছু কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ ছাড়দিকে ছড়িয়ে দেয়, ন্যাংটা করে, মাথায় একটা টুপি দিয়ে তারপর ছবিটি ফেইসবুকে দিয়ে দিসে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ধর্মান্ধ, সবাই ভাবতে থাকে, টুপিটা মাথায় ছিল, হাসিমম্যায়া কাজডা এইডা ক্যামনে করলো!? মূলত ফিরোজ খাঁ লোকটি সাদাসিধা হওয়ার কারণে সবাই রং, তামাশা করে।

এলাকার ছোট, বড়, সবাই। আর যে ছেলেটা ছবিটা তুলে দিয়েছিল, তার উপরও এর ব্যতিক্রম হয়নি কিছুই। গ্রামের শালিস বসায় রায়হান, তার চাচা মোতালেব, আব্দুল হাই, মতি মাস্টার, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল হামিদ, জাহেদসহ আরো অনেকে। এরা সবাই ভিলেজ পলিটিক্স নিয়ন্ত্রণ করে টাকা পয়সার বিনিময়ে। ধর্মান্ধরাও যুগ দেয় এই শালিসি মিছিলে। শালিসির আগে কয়েকদফায় মাফ চেয়ে আসে হাসিম মিয়া এবং যে ছবিটি তুলে দিয়েছিল সে।

কিন্তু বিচারকরা অনড়! তারা টাকা ছাড়া এইটা কোনোভাবেই সমাধান করতে পারবে না। শালিসি বৈঠকে আরেক দফায় মাপ চাই তারা দুইজনে,মাফ চাওয়ার পর দুইজনকে জরিমানা ধার্য্য করে ৫০,০০০টাকা। এই করোনা পরিস্থিতির কারনে এমনিতেই টাকা পয়সা নেই মানুষের, তারমধ্যে আবার ২৫,০০০টাকা করে জরিমানা, কিভাবে দিবে! চিন্তায় পড়ে গেল হাসিম মিয়া এবং ছবির কারিগর।

জমি হউক,বাড়ি হউক বিক্রি করে তাদের হাতে টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে,নাহলে তাদের রেহাই নেই। খুব কষ্ট করে একজনে ২৫,০০০ টাকা দেয় আর হাসিম মিয়া কাঁদতে কাঁদতে শেষ। কিছুদিন পরেই হাসিমমিয়া মৃত্যুর কূলে ঢলে পড়ে। এটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি কেউ তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে তার আদ্যৌ পান্ত আমরা সবাই জানি, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি। মুখে তালা দিয়ে বসে আছে। কারণ একটাই ভিলেজ পলিটিক্স এর যে মাথা তার ভাই নামকরা এম.বি.বি.এস ডাক্তার।

সেই টাকা পয়সা দিয়ে চালায় তার ভাইদের। অজ্ঞতার জন্য অকালে চলে গেল হাসিমপুরের হাসিম মিয়া, ঘরে বিবি, বাচ্চাদের দেখার মতো ছায়াটাও হারালো তার পরিবার, পরিজন। অজ্ঞতা এবং ধর্মান্ধতার কারণে এভাবেই বলি হয় গরিব, দুঃখী মানুষগণ। এরা জানে না, বুঝে না, কি থেকে কি হয়ে যায়, কিন্তু ভিলেজ পলিটিক্সে এরা সবসময় হেরে যায়! পরপারে ভালো থাকুক হাসিমপুরের হাসিম মিয়া।

ad