patrika71 Logo
ঢাকাবুধবার , ১৪ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কবিতা
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. খেলাধুলা
  13. চাকরী
  14. জাতীয়
  15. টেকনোলজি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দিনাজপুরে নারী উদ্যোক্তার্ আলোর দিশারী সম্পা দাস মৌ

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ১৪, ২০২১ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমানে আধুনিকতা ও তথ্য প্রযুক্তির সময়ে কেউনিজেকে আবদ্ধ ঘরে বসিয়ে রাখে নি। নিজেদেরকে সেরা প্রমান করতে অনলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদেরই পথ- প্রর্দশক হিসেবে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দিনাজপুর মেয়ে, অন্জলী বুটিকস এর স্বত্তাধীকারি সম্পা দাস মৌ। তিনি আজ এ পর্যায়ে এসেছেন অনেক চরাই উতরাই হয়ে।

মৌ বলেন, যেদিন বুঝতে পারছিলাম জীবন ও জীবিকার জন্য কর্ম কে বেছে নিতে হবে। ঠিক তখন থেকেই চিন্তা করলাম আমাকে কিছু করতে হবে তাই ২০০৮ সালে ৩ রা মার্চ শুরু করলাম আমার অঞ্জলী কে নিয়ে যাত্রা শুরু। জীবনে চলার পথে অনেক পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছিলো আর বাস্তবতা শিখিয়েছিলো জীবনে কিছু একটা করতে হবে। আর অনুপ্রেরণা হিসাবে সব সময় আমার মা তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। সময় ও অর্থ দিয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলতে হয় ঠিক তেমনিই বিজনেসে যেমন সময় দিতে হয় নিজের জন্যও দিতে হয়।

আমার চিন্তা আর ধ্যান ধারনা আমার অঞ্জলী কে নিয়ে আমি মনে করি এই প্রতিষ্ঠান ঠিক রাখলে আমার জীবনে সব বাধা এবং সমস্যা গুলো কে কাটিয়ে উঠতে পারবো। ঠিক সেই চিন্তা চেতনা থেকে মনে করি এমন একটি গ্রুপ টি যদি সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারি তাহলে আমার মতো আরও অনেক উদ্যোক্তা তৈরী হবে। আর আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এটা মনে করি মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো অনেক বেশি প্রয়োজন। তাই “দিনাজপুর উদ্যেগতাবর্গ” এই গ্রুপ কে মনে করি আমার থেকেও বেশি উপযোগী মাধ্যম নিজেকে সাবলম্বী করার।

আরও অনেক আছে যারা অনেক দিক থেকে এটির সাথে যুক্ত হতে চায় যাদের ইচ্ছে আছে তবে জানে না কিভাবে কি করবে।যদি একটু সাপোর্ট পায় তাহলে আমরা সবাই মিলে অনেক দূর যেতে পারবো। যারা দিনাজপুর উদ্যোক্তাদের মোডারেটর হিসেবে কঠোর ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনারা হলেন – হুমায়ুন কবির প্রধান, রুকসানা ফেরদৌসী, নাসিবা সাহারিয়া সানজিদা মুনমুন দাস রূপকথা। আর তাছাড়া গ্রুপের মোডারেটগন অনেক সময় দেয়। এই গ্রুপে শুধুমাত্র একটি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়।

বিভিন্ন পণ্যের সমারোহে গড়ে উঠেছে এই গ্রুপটি যে সকল পণ্য পাওয়া যাবে এ গ্রুপে – শাড়ী, ত্রিপিস, বেডকভার, পান্জাবী, মসল্লা, হাতে বানানো লাচ্ছা সেমাই, জর্দা পোলাও, কেক, মম, নুডুলস, চাইনিস আইটেম, শরিষার তেল,হোম মেড হেয়ার ওয়েল, ঘি, নিজের ফার্মের গরুর দুধ, নারকেল নারু, হাতে ভাজা মুড়ি, ছেলে দের পোষাক, বেবী পোশাক, কুরুস সুতা,নকশী কাথা,জামদানী, খাদি,খদ্দর, কাপড়, কাচের চুড়ী,মেহেদী, এর বাহিরে পাল্লার আছে যারা হোম সার্ফিস দিয়ে থাকে।

ছেলেদের লেদার বেল্ট,জুতা,বেগ,কসমেটিকস। তার অন্জলী বুটিকস্ কিভাবে গড়ে এত বড় পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছে জানতে চাইলে সম্পা দাস মৌ বলেন, মায়ের কাছ থেকে ২২০০ টাকা নিয়েছিলাম এিপিস কেনার কথা বলে সেই টাকা দিয়ে বান্ধবী র কাছে কাজ শিখি। আর এর মাঝে ছেলের স্কুলে আনা নেওয়া মায়ের দেয়া আমার ছেলের টিফিনের জন্য ২০ টাকা সেখান থেকে ৫ টাকার টিফিন আর ১৫ টাকা ছেলে কে রিক্সায় আনা নেওয়া করতাম। আমি পায়ে হেটে আসা যাওয়া করতাম।

আর সেখান থেকে ৫ টাকা করে সঞ্চয় করে একটা সমিতিতে সেখানে ৫ হাজার টাকা হয় আমার সেই টাকা দিয়ে শুরু করি আমার অঞ্জলী ২ জন কর্মচারী কে নিয়ে। আর একটা এমব্রয়ডারি মেশিন আর ৫ টি ব্লকের ডাইস।এই নিয়ে ৩ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া দিয়ে একটা ছোট দোকান নিলাম।আর সেখানে ৩০ টাকা দিয়ে একটা সমিতি তে ভর্তি হয়েছিলাম। সেই জায়গাতে তিন মাস পর ৩০,০০০ হাজার টাকা ঋন পেলাম সেটা দিয়ে ব্লক রং,ডাইস,এসব কিনলাম তার কয়েকদিন পরেই ৬৫০০০ টাকার অর্ডার পেলাম এভাবে শুরু হলো আমার অঞ্জলী কে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এক বছরে বিজনেস অনেক বড় হলো ২০ জন কর্মী কাজে যোগ হলো।

অনেক আইটেম কাজ বাড়ালাম।ধীরে ধীরে কাস্টমার বাড়া দেখে এক বছরে দোকান ভাড়া দশ হাজার বেড়ে গেলো তখন সেটা চালাতে কষ্ট হচ্ছিল পরে আমার বাবা ১লাখ ৪০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে একটা মাঝারী শোরুম নিয়ে দিলো ১৫০০ টাকা ভাড়া।সেটা তিন বছর করলাম।তারপর চিন্তা করলাম একটু ভালো জায়গায় দোকান নিতে হবে। তখন ৭ লাখ টাকা জামানত আর ৭ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে দিনাজপুর শহরের প্রান কেন্দ্র মালদাহ্পট্টি তে গড়ে তুললাম আমার অঞ্জলী বুটিকস্ কে। এটা আমার মায়ের নাম। এর পর এইত চলছে। সৃস্টি কর্তার দোয়াতে অনেক ভালো মতো। আলাদা একটা কারখানাও নেয়া হলো আমার অঞ্জলীর জন্য। নারীদেরকে সাবলম্বী করা যায় কিভাবে তা নিয়ে দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই মহীয়সী নারী।

এমন একটা সময় ছিল যখন নারীদেরকে অনেক তুচ্ছ ভাবা হতো কিন্তু আজ সেই ধারনাটি বিলুপ্তপ্রায়। একটি গ্রুপ করে মেম্বার যুক্ত গ্রুপের মেম্বার দের জন্য কি করলে তাদের উপকার হবে বিজনেস বাড়বে সেই বিষয় গুলোর উপর জোর দেই। তাদের নিয়ে লাইভ করা।যৌথ মিটিং করা,অনলাইনে ডিজিটাল মেলার আয়োজন করা। তাদের কে প্রমোট করা,তাদের প্রডাক্ট দিয়ে পোস্টার করে পোস্ট করা দু বার তাদের জন্য প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়েছিলো চা চক্র এবং চড়ইভাতির এর বাহিরে সরকারি ভাবে বিসিক থেকে তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে।

এবং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য রোজ বিভিন্ন ভাবে পোস্ট আকারে সেশন গুলো দিয়ে থাকি আমি সহ মোডারেট র টিম। মৌ আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা আমার অঞ্জলী কে একটা বড় শোরুম আকারে গড়ে তুলবো। আর সেই সাথে এখন যে জামদানী আর মসলিন, এবং খাদি আর তাত নিয়ে কাজ করছি ইচ্ছে আছে সেই প্রডাক্ট গুলোর উপরে আরও নতুন নতুন কাজ করে আমার অঞ্জলী কে একটা সুন্দর ভাবে উপস্হিতি করা। আর সেই সাথে স্বপ্ন দেখি আঞ্জলীর শাখা কে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত করা। এবং দিনাজপুরের উদ্যোক্তাবর্গ কে আরও অনেক বড় আকারে গড়ে তোলা।এবং লাখো উদ্যোক্তা তৈরী করা।

আর আমি যেহেতু একজন সিঙ্গেল মাদার সে ই জায়গা থেকে আমার এক মাত্র সন্তান আমার দেব কে মানুষের মতো মানুষ করা।আমার সব কিছু সকল ধ্যান ধারনা নিজের ভালো থাকা পুরো টাই আমার অঞ্জলী র জন্য এবং আমার প্রান আর আমার নিশ্বাস আমার বিজনেস প্রতিষ্ঠান। যত টুকু পরিশ্রম করলে জীবনের সেই সুন্দর একটা গন্তব্যে পৌছানো যায় আমি তার এতটুকুও কম করতে নারাজ। মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাকুরী নয় উদ্যেগতা হও। এই উক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসী কারন কারো অধীনে কাজ না করে নিজের স্বাধীনমত কাজ করতে পারবে।নিজে কিছু করা বেশি উত্তম বলে আমি মনে করি

রায়হান কবির : দিনাজপুর সদর প্রতিনিধি।