patrika71
ঢাকাবুধবার - ২১ ডিসেম্বর ২০২২
  1. অনুষ্ঠান
  2. অনুসন্ধানী
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. ইসলাম
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. জবস
  13. জাতীয়
  14. ট্যুরিজম
  15. প্রজন্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০০ মহাসড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২১, ২০২২ ৫:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৫০ টি জেলায় ১০০ টি জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক উদ্বোধন করেছেন।

এসব মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ২১ কিলোমিটার। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব মহাসড়ক উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল টাঙ্গাইল ও খুলনা জেলা। বাকি জেলাগুলো প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছে। গণভবন প্রান্ত থেকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।২০২১ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে ২০৬ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৬২১ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১১৯৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক। এসব মহাসড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।১০০ মহাসড়কের নামের তালিকা:-

ঢাকা প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ৩২টি)

১ জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক

২ এলঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক

৩ সালনা (রাজেন্দ্রপুর)-কাপাসিয়া-টোক-মঠখোলা মহাসড়ক,

৪ মাওনা-ফুলবাড়ীয়া-কালিয়াকৈর-ধামরাই-নবীনগর (ঢুলিভিটা) মহাসড়ক,

৫ হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক

৬ জিঞ্জিরা-কেরাণীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর মহাসড়ক (কদমতলী থেকে জনি টাওয়ার লিংকসহ)

৭ ইজতেমা মহাসড়ক (আর-৩০৩)

৮ ভবেরচর-গজারিয়া-মুন্সীগঞ্জ জেলা মহাসড়ক

৯ জিরাবো-তৈয়বপুর-দিয়াখালী-তাজপুর জেলা মহাসড়ক

১০ মাতুয়াইল-নিউটাউন-কোনাপাড়া-মানিকান্দি-শেখেরজায়গা জেলা মহাসড়ক

১১ তুরাগ-রুহিতপুর-বাউরভিটা জেলা মহাসড়ক (জেড-৫০৫৯)

১২ শ্রীপুর-বৈরাগীরচালা জেলা মহাসড়ক

১৩ কালীগঞ্জ-তুমুলিয়া-উলুখোলা জেলা মহাসড়ক

১৪ গোলড়া-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়ক

১৫ নিমতলী-সিরাজদিখান-কাকালদী জেলা মহাসড়ক

১৬ মুন্সীগঞ্জ (হাসাড়া)-আলমপরি-শিবরামপুর-(সিরাজদীখান)-নওয়াবপুর (কাসুর) জেলা মহাসড়ক

১৭ শিবপুর-দুলালপুর-লাকপুর-হাতিরদিয়া জেলা মহাসড়ক

১৮ জিহাসতলা-শেখেরচর জেলা মহাসড়ক

১৯ রাজবাড়ি-বাগমারা জৌকুড়া ফেরিঘাট সংযোগ সড়ক

২০ আহ্লাদীপুর-রাজবাড়ি-পাংশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়া সড়ক (তত্ত্বীপুর-মাচমাড়া অংশসহ)

২১ শরীয়তপুর-নড়িয়া (ভোজেস্বর বাইপাসসহ) সড়ক

২২ বোয়ালমারি (সাতৈর) মোহাম্মাদপুর সড়ক

২৩ রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি-জামালপুর-মধুখালী সড়ক

২৪ বিজয়পাশা-তালারহাট-জয়নগরঘাট সড়ক

২৫ গোয়ালন্দ (জামতলা) গোদারবাজার-পাংশা-হাবাসপুর সড়ক

২৬ ভাঙ্গাব্রীজ-বোতলা-কমলাপুর-আইসার-ধামুসা-পিরেরবাড়ী-সড়ক

২৭ পাকুল্লা-দেলদুয়ার-এলাসিন সড়ক প্রশস্তকরণ (দেলদুয়ার-এলাসিন অংশ)

২৮ ভাতকুড়া (করটিয়া)-বাসাইল-সখিপুর সড়ক প্রশস্তকরণ (ভাতকুড়া-বাসাইল অংশ)

২৯ টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার সড়ক

৩০ ঘাটাইল (পোড়াবাড়ী)-শালিয়াজানী-গোপালপুর-সরিষাবাড়ী (জগন্নাথগঞ্জ) সড়ক

৩১ ভরাডোবা-সাগরদিঘী-ঘাটাইল-ভূঞাপুর সড়ক

৩২ উজানপুর-বাজিতপুর-অষ্টগ্রাম সড়ক

ময়মনসিংহ প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ৬টি)

৩৩ ইসলামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস-হাকিম চেয়ারম্যানবাড়ি-ঋষিপাড়া সড়ক

৩৪ নান্দাইল-আঠারবাড়ী-কেন্দুয়া সড়ক

৩৫ ময়মনসিহ-গফরগাঁও-টোক সড়ক

৩৬ নেত্রকোণা-পূর্বধলা-হোগলা-ধোবাউড়া সড়ক (জেড-৩৭০৭) (নেত্রকোনা-নারায়নডহর পর্যন্ত)

৩৭ ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল (কানুরামপুর) সড়ক

৩৮ ভালুকা-গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক

চট্টগ্রাম প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ১৫টি)

৩৯ হাটহাজারী-ফটিকছড়ি-মানিকছড়ি-মাটিরাঙ্গা-খাগড়াছড়ি সড়ক

৪০ বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-নারায়নহাট-ফটিকছড়ি সড়ক (হেঁয়াকো-ফটিকছড়ি অংশ)

৪১ রাউজান-বাহ্মনছড়ি (শহীদ জাফর সড়ক)

৪২ প্রীতিলতা সড়ক (পটিয়া-বোয়াখালী-কানুনগোপাড়া সড়ক)

৪৩ মইজ্জারটেক-বোয়ালখালী-কানুনগোপাড়া-উদরবন্যা সড়ক

৪৪ মইজ্জারটেক-বিএনডিসি মৎস বন্দর ফেরীঘাট সড়ক

৪৫ ইয়াংচা-মানিকপুর-শান্তিবাজার সড়ক

৪৬ লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়ক

৪৭ সোনাপুর (মান্নাননগর)-চরজববর-ষ্টীমারঘাট সড়ক

৪৮ ভূঁঞারহাট-চেয়ারম্যানঘাট সড়ক

৪৯ সোনাইমুড়ী-সেনবাগ-কল্যান্দী সড়ক

৫০ চাঁপাপুর-টমছমব্রিজ-বার্ড-কালিরবাজার-বরুড়া সড়ক

৫১ নিমসার-বরুড়া সড়ক

৫২ খাজুরিয়া-পয়েলগাছা-বরুড়া সড়ক

৫৩ লাকসাম (বিনয়ঘর)-বাইয়ারাবাজার-ওমরগঞ্জ-নাঙ্গলকোট সড়ক

সিলেট প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ৪টি)

৫৪ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক [পূর্বের নাম: সিলেট (ওসমানী বিমানবন্দর বা্ইপাস)-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক]

৫৫ কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরিফপুর জেলা মহাসড়ক (জেড-২৮২২)

৫৬ চুনারুঘাট-সাটিয়াজুড়ী-নতুনবাজার সড়ক

৫৭ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক

খুলনা প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ১৬টি)

৫৮ যশোর-বেনাপোল সড়ক

৫৯ দৌলতদিয়া-ফরিদপুর (গোয়ালচামট)-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা-মোংলা (দ্বিগরাজ) সড়ক (মাগুরা শহর অংশ)

৬০ খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়ক (খুলনা অংশ)

৬১ খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়ক (সাতক্ষীরা অংশ)

৬২ নওয়াপাড়া-বাগেরহাট-পিরোজপুর সড়ক

৬৩ আহলাদিপুর-রাজবাড়ী-পাংশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়া (চৌরহাস) সড়ক

৬৪ চড়াইকোল আর-৭১১-শিলাইদহ লিংক রোড সড়ক

৬৫ বাগেরহাট-চিতলমারী সড়ক

৬৬ চিতলমারী-পাটগাতী (টুঙ্গিপাড়া) সড়ক

৬৭ আড়পাড়া-কালিগঞ্জ সড়ক (ঝিনাইদহ অংশ)

৬৮ আড়পাড়া-কালিগঞ্জ সড়ক (মাগুরা অংশ)

৬৯ আড়পাড়া-শালিখা সড়ক

৭০ খালিশপুর-মহেশপুর-দত্তনগর-জিন্নানগর-যাদবপুর সড়ক

৭১ চুড়ামনকাঠি-চৌগাছা সড়ক

৭২ নড়াইল-ফুলতলা সড়ক

৭৩ কচুয়া (পিংগুরিয়া)-তেলিগাতী-হেরমা-রামপাল সড়ক

রংপুর প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ১৫টি)

৭৪ খানসামা-রানীরবন্দর সড়ক

৭৫ বীরগঞ্জ-খানসামা-দারোয়ানী সড়ক

৭৬ চিরিরবন্দর-আমতলী বাজার সড়ক

৭৭ বীরগঞ্জ-কাহারোল সড়ক

৭৮ পঞ্ছগড়-গোয়ালপাড়া-রুহিয়া

৭৯ গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট জেলা মহাসড়ক

৮০ সোনাহাট সেতু এ্যাপ্রোচ হতে সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক

৮১ নীলফামারী বাইপাস সড়ক

৮২ রানীসংকৈল-হরিপুর সড়ক

৮৩ জয়পুরহাট-রাজাবিরাট-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক

৮৪ ধূপণী বেলকা সড়ক

৮৫ দারিয়াপুর-কামারজানি সড়ক

৮৬ মধুপুর-শ্যামপুর জেলা মহাসড়ক

৮৭ সাহেবগঞ্জ-হারাগাছ জেলা মহাসড়ক

৮৮ লালমনিরহাট-মোঘলহাট সড়ক

রাজশাহী প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ৮টি)

৮৯ জয়পুরহাট-আক্কেলপুর-বদলগাছি সড়ক

৯০ ক্ষেতলাল-গোপিনাথপুর-আক্কেলপুর সড়ক

৯১ নন্দিগ্রাম -তালোড়া-দুপচাঁচিয়া-আক্কেলপুর জেলা মহাসড়ক

৯২ নন্দিগ্রাম-কালিগঞ্জ-রাণীনগর জেলা মহাসড়ক

৯৩ হরিশপুর বাইপাস মোড় হতে বনবেলঘরিয়া বাইপাস মোড় সড়ক

৯৪ রাজশাহী-নওহাটা-চৌমাসিয়া সড়ক

৯৫ সিরাজগঞ্জ-কড্ডা-সমেশপুর সড়ক

৯৬ উল্লাপাড়া-লাহিড়ীমোহনপুর-ভাঙ্গুড়া (ময়দানদিঘী বাজার) সড়ক

বরিশাল প্রশাসনিক বিভাগ (মোট সড়ক সংখ্যা: ৪টি)

৯৭ বরিশাল-ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক

৯৮ পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক

৯৯ মাদারীপুর-পাথারিয়ারপাড়-ডাসার-আগৈলঝড়া জেলা মহাসড়ক

১০০ গুইংগারহাট-চরপাতাস্কুল-দলিলখাঁর হাট-দৌলতখান হ্যালিপ্যাড-দৌলতখান বাজার জেলা মহাসড়ক।

বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ এখন সরকারের যে কোনো ইতিবাচক পরিকল্পনা ও কর্মসূচিকে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্য মনে করে। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। এটি একসময় সম্ভব ছিল না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের তথাকথিত হ্ইাপোথ্যাটিক্যাল ধারণার পরিবর্তে প্রযুক্তিরির্ভর বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার মাধ্যমে বাস্তবধর্মী কর্মপরিকল্পনার সূচনা করেন। যাকে ডিজিটাল ধারণা বলা হয়। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায় দুটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫) ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২১) বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নের যুগপৎ যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদও। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪১তম অর্থনীতির দেশ। বিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়।

স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একটি নিরবচ্ছিন্ন এবং কার্যকর যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি যমুনা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে জাপান সফরকালে যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য তিনি জাপান সরকারের সহায়তা চান। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সেতুর উদ্বোধন করেন।আর

বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন অভিযাত্রায় এবার বিশ্বের কাছে বিস্ময় জাগানো আরও মাইলফলক অর্জন যোগ হয়েছে ২৫ জুন ২০২২ইং এই পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বে গভীরতম। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত এই সেতুর পাইল বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ বিবেচনায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

আর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের দরিদ্রতম দশটি দেশের একটি। ৮৮ শতাংশ মানুষ ছিল দরিদ্র। বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরতাও ছিল ৮৮ ভাগ। বাংলাদেশ টিকে থাকবে কি না, এ নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ হলো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশ। বঙ্গবন্ধু ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) প্রণয়নের দ্বিতীয় বছরে ১৯৭৪-৭৫ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাংলাদেশের জিডিপি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে উন্নীত হয়, যা আজও রেকর্ড। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক ও আধা গণতন্ত্রী শাসকেরা স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতার অংশীদার করে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দেশ শাসন করে। তাদের আমলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কখনোই ৪ থেকে ৫ শতাংশের ওপরে ওঠেনি।কিন্তু আমরা যদি ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার সময়কে বিবেচনায় নিই, তাহলে কী দেখতে পাই? বঙ্গবন্ধুর পরে অর্থনীতি, উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রকে তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। দেশকে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা কোভিড-১৯ মহামারির আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৮ শতাংশের ওপর। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই দেশের জন্যে সুনাম কুড়িয়েছেন। দেশের জন্য বয়ে এনেছেন গৌরব ও সাফল্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় বিগত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের চলমান উন্নয়নের ধারার কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান বিশ্বের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে এখন বিশ্বমানের নেতার পর্যায়ে নিজের স্থান করে নিয়েছেন।

পরিশেষে বলতে চাই, গত ১৪ বছরে যারা শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষ করেছেন তারা এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন। তার নেতৃত্বের গুণাবলী শুধু দেশের জনগণের মধ্যে প্রশংসিত হয় নি, বরং তার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছেন বিশ্ব দরবারে। বাংলাদেশের নেতা থেকে তিনি বিশ্ব নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের ভেতরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর ক্ষমতায়নসহ অনান্য বিষয়ে তিনি সব সময় সরব থেকেছেন বিধায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বড় বড় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তার কাজের প্রশংসা করেছেন। এমনকি তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নেতারা প্রশংসা করেছেন। কোভিড-১৯ মোকাবেলাই সরকারের সফলতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন গত ১৪ বছর। আর আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ১৭কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আজকের যে অবস্থান সেটা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে তার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারনে। তবে তার এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে সরকারের ধারাবাহিকতা কারণ বাংলাদেশের মতো দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের জনগণ তার ওপরে আস্থা রেখে তাকে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস আগামী ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ একই রকমভাবে তার উপরে বিশ্বাস রাখবে কারণ এই মুহূর্তে আমাদের সকলের মাথায় যে বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত সেটি হচ্ছে- বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বিকল্প এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ যেমন সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নের আরেক নাম হয়ে উঠেছেন। ফলে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন উন্নত দেশের অভিমুখে ধাবমান।আর বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার যোগ্য উত্তরসূরি এই কন্যা এক অনন্য ব্যক্তি হিসেবে এবং আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন।তাই প্রতিটি মহাসড়ক কেবলই একটি মহাসড়ক নয়, এটি জননেত্রী শেখ হাসিনার সততা ও সাহসিকতার প্রতীক।এর আগে, গত ৭ নভেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে দেশের ২৫টি জেলায় নবনির্মিত ১০০টি সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী সভাপতি শেখ হাসিনা।

পত্রিকা একাত্তর/ মাহতাব হোসাইন