patrika71
ঢাকামঙ্গলবার - ৬ ডিসেম্বর ২০২২
  1. অনুষ্ঠান
  2. অনুসন্ধানী
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. ইসলাম
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. জবস
  13. জাতীয়
  14. ট্যুরিজম
  15. প্রজন্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডোমার পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ

উপজেলা প্রতিনিধি, ডোমার
ডিসেম্বর ৬, ২০২২ ১:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে দীর্ঘ নয় মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়েছে বীর বাঙালিদের। একাত্তরের ৬ই ডিসেম্বর নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। এজন্যই দিনটিকে ‘ডোমার পাক হানাদার মুক্ত দিবস’ হিসেবে পালন করেন মুক্তিযুদ্ধ স্বপক্ষীয় সাধারণ মানুষ।

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর লেফটেন্যান্ট ইকবাল রশিদের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শমসের আলী, ডিমলার বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল ইসলাম সহ একটি দল নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোমনাতী হয়ে বোড়াগাড়ী মুক্তকরণে এগিয়ে আসে।

পরদিন, ৪ঠা ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্র বাহিনীর মেজর ছাতোয়ানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান সহ বেশকিছু মুক্তিযোদ্ধা ডোমার মুক্তকরণের অপারেশনে যোগ দেন।

৫ই ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে রংপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাপ, ভোগডাবুরীর আব্দুল জব্বার কানু, আমিনুর রহমান মাস্টার গোসাইগঞ্জ হয়ে সীমান্তবর্তী চিলাহাটি এলাকা মুক্ত করে জোড়াবাড়ী হয়ে বোড়াগাড়ীতে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেয়।

সেদিন পাকবাহিনীর সাথে তুমুল গোলাগুলি ও বোমা বর্ষণ চলে। এতে বেশ কয়েকজন পাকসেনা নিহত হলে, রাত ২টার দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ভয়ে বোড়াগাড়ী এলাকার দেওনাই সেতু (বোড়াগাড়ী ব্রিজ) ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। পরে, তারা সোনারায় হয়ে নীলফামারীর দিকে পিছু হটে। পাকসেনাদের অনবরত গোলা বর্ষণে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।

মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতায় একাত্তরের ৬ই ডিসেম্বর ডোমার উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ডোমার মুক্তকরণের অগ্রসৈনিক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শমশের আলী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬নং সেক্টর কমান্ডার খাদিমুল বাশারের নেতৃত্বে এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা রক্তে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করে ডোমারকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন।

ডোমার উপজেলা মুক্তকরণের অগ্রসৈনিক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শমশের আলী বলেন, লেফটেন্যান্ট ইকবাল রশিদের নেতৃত্বে আমরা বোড়াগাড়ী এসে পৌঁছাই ৩রা ডিসেম্বর। এরপর মেজর ছাতোয়ান ও ক্যাপ্টেন নজরুলের নেতৃত্বে আরও দুটি দল আমাদের সাথে যোগ দিলে একসাথে ডোমার মুক্তকরণে ঝাঁপিয়ে পড়ি। বেশ কয়েকজন পাকসেনা মারা গেলে, বোড়াগাড়ীর দেওনাই সেতু উড়িয়ে দিয়ে তারা পিছু হটে। আমাদেরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।

তিনি আরও জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছর পার হলেও- ডোমারের বেশকিছু বধ্যভূমি ও গণকবর এখনো সংরক্ষণের বাইরে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এখনো মেলেনি। মুক্তিযুদ্ধ স্বপক্ষীয় সরকারের কাছে এসব দাবী অবশ্যই বিবেচনার যোগ্য বলে মনে করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

পাক-হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে ডোমারের বেশকিছু জায়গায় বধ্যভূমি পাওয়া যায়। তবে বিজয়ের ৫১ বছরেও সেসব বধ্যভূমি সংরক্ষিত না হওয়ায় হতাশ মুক্তিযুদ্ধ স্বপক্ষের মানুষেরা।

এবিষয়ে ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. আল-আমিন রহমান বলেন, আমার আব্বাকে ডোমার উপজেলা পরিষদে (তৎকালীন সিও অফিস) স্থাপিত টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতনের পর বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে পাকবাহিনী। সৈয়দপুরের সম্মুখ প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও যুদ্ধে ব্যবহৃত রাইফেল উদ্ধার সহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের নাম না বলার অপরাধে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ওরা। পরে, ডোমার বন বিভাগের শালকী নদী বিধৌত বধ্যভূমিতে মাটিচাপা দিয়ে পুতে রাখে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাকামী অসংখ্য নর-নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিটি আজও সংরক্ষণের অভাবে মাদকাসক্তদের আড্ডা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থানে পরিণত হয়েছে। আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে ডোমার বন বিভাগ বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতে চাই।

দিবসটিতে একাত্তরের রণাঙ্গনে শহীদ হওয়া ডোমারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ছয়জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, অজ্ঞাত অন্যান্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন ডোমারবাসী।

পত্রিকা একাত্তর/ রিশাদ