patrika71 Logo
ঢাকাসোমবার , ১২ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কবিতা
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. খেলাধুলা
  13. চাকরী
  14. জাতীয়
  15. টেকনোলজি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুরআন ও হাদীসের আলোকে যিলহজ্বের প্রথম দশক : গুরুত্ব, ফযীলত ও বিশেষ আমল

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ১২, ২০২১ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সময়ের প্রতিটি অংশই মূল্যবান। কোনো অংশই অবহেলা করার মতো নয়। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর দ্বারাই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এটা যেমন পার্থিব ক্ষেত্রে সত্য তেমনি সত্য আখিরাতের ক্ষেত্রেও। তাই জীবনের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত অত্যন্ত মূল্যবান। তবে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি বান্দার ফায়েদার জন্য কিছু সময়কে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। তাই কিছু সময়, কিছু দিন এমন রয়েছে, যা অন্য সময়ের চেয়ে অধিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও মহিমাময়। আসন্ন ‘যিলহজ্বের প্রথম দশক’ এমনি মহিমান্বিত ও অর্জনের মৌসুম,

আল্লাহর বিধানানুসারে যে চারটি মাস সম্মানিত, তার মধ্যে একটি হল যিলহজ্ব মাস। আর এ মাসের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ সময় হল আশারায়ে যিলহজ্ব বা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক। দুটি ইবাদত এ দশকের মর্যাদাকে আরো অধিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। হজ্ব ও কুরবানি। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এই দশকের সম্মান ও পবিত্রতা প্রকাশান্তে এই দশকের রজনীগুলোর নামে শপথ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে-
والفجر، وليال عشر
শপথ ভোরবেলার, শপথ দশ রাত্রির।-সূরা ফজর : ১-২

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. ও মুজাহিদ রাহ. সহ অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ী ও মুফাসসিরের মতে এখানে দশ রাত্রির দ্বারা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে। হাফেয ইবনে কাসীর রাহ. বলেন, এটিই বিশুদ্ধ মত।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫-৫৩৬

হাদীস শরীফে এই দশককে দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম ও মর্যাদাবান দশক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

أفضل أيام الدنيا العشر، يعني عشر ذي الحجة، قيل ولا مثلهن في سبيل الله؟ قال : ولا مثلهن في سبيل الله، إلا رجل عُفِّر وجهه بالتراب.
দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হল যিলহজ্বের দশ দিন। জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই, তবে ঐ ব্যক্তি, যার চেহারা ধূলিযুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ শাহদাতের মর্যাদা লাভ করেছে।-মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১১২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ২০১০

অন্য বর্ণনায় হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত হয়েছে
ما من أيام أفضل عند الله من أيام عشر ذي الحجة …

যিলহজ্বের দশ দিনের চেয়ে কোনো দিনই আল্লাহর নিকট উত্তম নয়।-সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৮৪২
.
এই দশকের নেক আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়
.
কুরআন-হাদীসে আশারায়ে যিলহজ্বের উপরোক্ত বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ তাৎপর্যের কথা যেমন বর্ণিত হয়েছে তেমনি দশকের আমল ও ইবাদত-বন্দেগীর বিশেষ ফযীলত ও সওয়াবের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। এই দশকের নেক আমল, বিশেষত আল্লাহর যিকির সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন

ويذكروا اسم الله في أيام معلومات على ما رزقهم من بهيمة الأنعام
নির্দিষ্ট দিনসমূহে তারা যেন আললাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুর উপর, যা তিনি তাদের দিয়েছেন।-সূরা হজ্ব (২২) : ২৮

ইমাম বুখারী রাহ. বলেন, হযরত ইবনে আববাস রা. বলেছেন, ‘‘সুনির্দিষ্ট দিনসমূহ’’দ্বারা যিলহজ্বের দশ দিনই উদ্দেশ্য।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/২৮৯

এই দশকের দিন-রাতসমূহে নেক আমলের গুরুত্ব হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। হযরত ইবনে আববাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন

ما من أيام العمَلُ الصالح فيها أحب إلى الله عز وجل من هذه الأيام يعني أيام العشر، قالوا : يا رسول الله، ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال : ولا الجهاد في سبيل الله، إلا رجل خرج بنفسه وماله، ثم لم يرجع من ذلك بشيء.
আল্লাহর নিকট যিলহজ্বের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও (এর চেয়ে উত্তম) নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদ এর চেয়ে উত্তম, যে নিজের জানমাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে, তারপর কোনো কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।- সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৩৮
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
(অর্থ) আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা সেই দিবসগুলোতে অধিক পরিমাণে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ কর।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ৫৪৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪১১০

কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহের আলোকে স্পষ্ট বুঝা যায়, এই দশ দিনের যে কোনো নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তাই মুমিন বান্দার জন্য অধিক পরিমাণে সওয়াব অর্জন, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের এরচেয়ে উপযুক্ত সময় আর কী হতে পারে? এজন্য পূর্ববর্তীদের জীবনীতে এই দশকের আমল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন এই দশকের দিনগুলোর আগমন ঘটত এত অধিক আমল ও মুজাহাদা করতেন, যা পরিমাপ করাও সম্ভব নয়। আমাদেরও উচিত বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে এই দশকের রাত-দিনগুলোকে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলা।

যিলহজ্বের প্রথম দশকের বিশেষ আমল
.
এই দশক যেহেতু নেক আমলের বিশেষ সময় তাই এই দশ দিনের যেকোনো আমল যেমন আল্লাহর নিকট প্রিয় ও পছন্দনীয় অধিক পরিমাণে নফল নামায আদায় করা, রোযা রাখা, যিকির-আযকার, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি। তাই আল্লাহর নেয়ামত ও বিশেষ অনুগ্রহ মনে করে এই দশকে সাধ্যমতো নেক আমলের পাবন্দী করা একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া বিভিন্ন হাদীসে এই দশকের বিশেষ কিছু আমলের কথাও বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
.
১. চুল, নখ, মোচ ইত্যাদি না কাটা
.
যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, মোচ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল।
আল্লাহ পাক আমাদের এই আমল করার তাওফিক দকরুন

আবু সাঈদ শাকিল