patrika71 Logo
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কবিতা
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. খেলাধুলা
  13. চাকরী
  14. জাতীয়
  15. টেকনোলজি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রেতাশূণ্য কলকাতার শপিংমল ও বাংলাদেশের মানুষের বিদেশী শপিং প্রেম

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ২২, ২০২১ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশীরা ঈদ আসলেই কেনাকাটা করার জন্য চলে যায় ওপার বাংলা কলকাতায়। বাংলাদেশী ক্রেতাদের উপর ভিত্তি করে কলকাতায় গড়ে উঠে অনেক শপিংমল ও বিপণী বিতান। কিন্তু বিগত ২ বছর ধরে করোনা মহামারীর কারনে দুই দেশের সীমানা বন্ধ রয়েছে এতে করে কলকতার শপিংমল ও বিপণী বিতান গুলোতে একদমই নেই বেচা বিক্রি।

কারন শপিংমল গুলো নির্ভর করে বাংলাদেশী ক্রেতাদের কেনাকাটার উপর। এই বছর বাংলাদেশীরা না যাওয়ার কারনে কলকাতার ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কলকাতার স্থানীয়রা বাংলাদেশীদের মতো এতো কেনাকাটা করেনা। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা একটু ব্যতিক্রম। বিভিন্ন ঈদ উৎসবে দুইহাতে কেনাকাটা করে। আমাদের দেশে ও করোনার কারনে সবকিছু বন্ধ থাকলে ও ঈদ পূর্ববর্তী লকডাউন সাময়িক উঠিয়ে দেওয়ায় শপিংমল গুলো আবার ফিরেছে জমজমাট অবস্থায়। সে হিসেবে বলাই যায় বাংলাদেশীরা খরুচে ও কেনাকাটা প্রিয় মানুষ।

কিন্তু আসল কথা হচ্ছে যে ঈদ উৎসবে কেনো যাওয়া লাগবে ওপার বাংলায় কেনাকাটা করার জন্য..? আমাদের দেশে কোন কিছুর অভাব থাকার কথা নয়। আমাদের পোশাক শিল্পের মান ও সুনাম বিশ্বসেরা। ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্র আমাদের থেকে পোশাক ক্রয় করে নিয়ে যায়। আর আমরা ক্রয় করতে যাই পাশের দেশে। এটা একটা ধ্বংসাত্মক মানসিকতা। যেখানে আমরা পুরো বিশ্বে সেরা সেখানে আমরা নিজের ঘর থেকে না নিয়ে শুধু শো-অপ করার জন্য বাইরের দেশে যাই।

আর কসমেটিকস ও আমাদের দেশে অভাব থাকার কথা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ড তাদের প্রসাধনী বিক্রি করার জন্য সরকার থেকে অনুমতি নিয়ে/ ট্যাক্স দিয়ে বাংলাদেশে তাদের শো-রুম খুলেছে। আমরা এইখান থেকে ও নিতে পারি বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনা।

শুধুমাত্র ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে কেনাকাটা করার জন্য কলকাতায় গিয়ে বাংলাদেশীরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে আসে। দেশে সবকিছু স্বয়ং সম্পূর্ণ থাকার পরও এইভাবে বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করা দেশের অর্থনীতির ও শিল্পের জন্য মারাত্মক অশনি সংকেত। এইভাবে টাকা খরচ করার ফলে দেশ থেকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা নিরবে চলে যাচ্ছে। আর দেশ বঞ্চিত হচ্ছে মূল্যবান ট্যাক্স থেকে। আমরা যতোই দূর্নীতিবাজ টাকা পাচারকারীদের গালি দেই লাভ হবেনা। যতোক্ষণ না নিজেদের অপরিণত আচরন বন্ধ না হবে, এবং নিজের মস্তিষ্ক ও বিবেকবোধ কে কাজ না লাগাই। আমরা ইচ্ছে করলে দেশের টাকা দেশেই রাখতে পারি। এবং দেশ ও দেশীয় পণ্যকে ভালোবেসে প্রবাসীদের শ্রমে ঘামে অর্জিত ডলারকে সম্মান দিতে। এবং নিজ দেশের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে টাকাগুলো দেশেই রাখতে।

ইফতেখার নাঈম তানভীর : মহেশখালী